২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

‘ভূমিধস’ বিজয়ে ভারতের মিডিয়ার শঙ্কা

-

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে, অফিসিয়াল ফলাফল প্রকাশ, শপথ নেয়াসহ মন্ত্রিসভা গঠন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়ে গেছে। তবে এই বিজয়কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইংরেজি শব্দ ‘ল্যান্ড-স্লাইড ভিক্টরি’, তথা ‘ভূমিধস বিজয়’ শব্দ দিয়ে নির্বাচনী ফলাফল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কারণ, এই ফলাফলের দাবি অনুযায়ী, ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসন আওয়ামী জোটের ব্যাগে এসেছে। অর্থাৎ ৯৭ শতাংশ আসন পেয়ে সরকার জিতেছে। তাই অফিসিয়ালি ফলাফলে ৯৭ শতাংশের বিজয়কে ব্যাখ্যা করতে গেলে ভূমিধস ধরনের শব্দ খুঁজে এনে একমাত্র এমন পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করা যায়।

কিন্তু ভারতের মিডিয়ায় বিস্ময়কর এক ‘কিন্তু’ আমরা লক্ষ করছি। নির্বাচনী ফল প্রকাশিত হওয়ার অন্তত এক দিন পর থেকেই ভারতের মিডিয়ার এই ফলাফল নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ শুরু হতে দেখা যাচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে ততই তারা বিভিন্ন মত ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তাদের অস্বস্তিকর মন্তব্যগুলো প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। আর এতে প্রায় প্রত্যেকের রিপোর্টের শিরোনামে ‘যদি’, ‘কিন্তু’ ধরনের শব্দ দেখা যাচ্ছে। যে বক্তব্যগুলোর সারকথা হলো, এই নির্বাচনী ফলাফল ভারতের স্বার্থের জন্য লং টার্মে বা শেষ বিচারে শুভ ইঙ্গিত নয়। তাই ফলাফল গ্রহণে অস্বস্তি।

যেমন ভারতের এমন ‘কিন্তু’ দৃষ্টিভঙ্গির মন্তব্যের এক লেখক হলেন কাঞ্চন গুপ্ত। সবার চেয়ে আগে, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরের দিনই কাঞ্চন গুপ্তের লেখা এসেছে। আর তার লেখা ছেপেছে আবার ভারতের প্রভাবশালী থিংকট্যাংক ‘অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’। যদিও কাঞ্চন গুপ্ত তাদের ভেতরের কোনো স্টাফ নন, তাই বাইরের লেখকের লেখা হিসেবে তারা ছেপেছে। আবার কাঞ্চন গুপ্তের পরিচয় খুবই কম করে বললেও তা হলো, তিনি প্রবীণ সাংবাদিক, যার বিজেপি প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি বা মন্ত্রী আদভানির টেকনিক্যাল এইড বা মিডিয়াসংক্রান্ত সহকারী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা আছে। তারই লেখার শিরোনাম হলো, ‘বাংলাদেশে এখন একদলীয় গণতন্ত্র’। ওই লেখার ভেতরের কিছু বুলেট বক্তব্য হলো,

যেমন- ১. সব ব্যবহারিক অর্থে বাংলাদেশ এখন একদলীয় রাষ্ট্র, যদিও এ দেশে এখনো ‘কিছু আসে-যায় না’ এমন কয়েকটি দল রয়ে গেছে; এটি প্রমাণ করার জন্য যে কনস্টিটিউশনাল বর্ণনায় এটা বহুদলীয় রাষ্ট্র। ২. শেখ হাসিনার নিজস্ব কায়দায় চালানো ওয়ার অন টেররের তৎপরতায় টার্গেট করে হত্যা করা বা গুম করে দেয়া সম্পর্কে অনেক কথা লেখা হয়েছে, বলা হয়েছে। কিন্তু তাতে বাংলাদেশের ক্রমেই ভায়োলেন্ট রেডিক্যালিজমের দিকে গড়িয়ে পড়া থেমেছে- এ কথার পক্ষে যায় এমন কোনো প্রমাণ নেই বললেই চলে। ৩. হাসিনা যেভাবে ব্যাখ্যা করছেন যে, ভোটাররা উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। এ কথাটি অনুসরণ করে সবার চেয়ে বেশি খুশি হবে আসলে চীন।

তবে এসব ছাড়িয়ে কাঞ্চন গুপ্তের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্তব্য হলো তার লেখার প্রথম বাক্য। লিখছেন, ‘প্রথম ভোটটা বাক্সে পড়া বা বাক্স গণনা শেষ হওয়ার আগে জানাই ছিল ফলাফল কী আসবে। কেবল বাকি ছিল হাসিনার আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী নামের যোগ্য কেউ নেই, এ কথা প্রমাণে জানা যে, তিনি কত আসন সাথে নিয়ে আসবেন।’ এ ছাড়া তার দ্বিতীয় মন্তব্য, ‘বিরোধী দল এখন যতই ফ্রেশ নির্বাচনের দাবি জানাক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা আমেরিকা এর পক্ষে কোনো আগ্রহ নিয়ে হাজির হবে মনে হয় না।’ এই হলেন ভারতের মিডিয়ার অস্বস্তির প্রকাশ- কাঞ্চন গুপ্ত।

এমন দ্বিতীয় মিডিয়া মন্তব্য- প্রতিক্রিয়া হলো, ৩ জানুয়ারিতে ‘এশিয়ান এজ’ পত্রিকায় ভরত ভূষণের লেখা। তার লেখার শিরোনাম, ‘গণতন্ত্রের জন্য বা ভারতের স্বার্থের জন্য এটা কোনো অর্জন নয়।’ পরে বিস্তারে ভেঙে বলছেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফল ওই দেশের গণতন্ত্র অথবা দক্ষিণ এশিয়া বা বাইরে ভারতের লংটার্ম স্বার্থের জন্য অগ্রগতি বয়ে আনবে না।’ তবে ভরত ভূষণও আগের কাঞ্চন গুপ্তের মতো মনে করেন, ‘বিরোধীদের পুনর্নির্বাচনের দাবি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন যাকে বিরোধীরা সরকারি দলবাজ বলেছেন, সেও আমল করবে না।’ তবে ভরত ভূষণের অভিযোগ আরো খাড়া। তিনি বলছেন, ‘সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে দেশটার বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন তাদের ইমেজ হারিয়েছে। মিডিয়াও সরকারি খবরদারির বয়ানের সাথে তাল মিলিয়ে ফেলেছে। সরকার ও সরকারের বাইরে যারা আছেন, এমন কর্তাব্যক্তিদের বিরোধীদের ওপর হামলার ইতিহাস আছে। এ অবস্থার মুখে গণস্বার্থ নিয়ে কথা বলা বুদ্ধিবৃত্তির লোকেরা ও স্বাধীন ব্লগাররাও জীবনের ভয়ে ভীত হয়ে উঠেছে।’

তবে তার মূল উদ্বেগের পয়েন্ট হলো, ‘ভিন্নমত প্রকাশ হতে দেয়ার সুযোগ না রাখায় দমবন্ধ পরিবেশে আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভিন্নমতের লোকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাতে এটা এই রাষ্ট্রের জন্য খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলা হয়েছে, যেখানে ইসলামী রেডিক্যালদের তাৎপর্যপূর্ণ উপস্থিতি আছে। দেশে সুস্থ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বজায় না রাখার ব্যর্থতা- এটাই যেকোনো ধরনের রেডিক্যাল রাজনীতির জন্ম ও বিস্তারের জন্য তা খুবই উর্বর ভূমি হিসেবে হাজির হয়। এ ধরনের অবস্থা পরিস্থিতিগুলোই মানুষকে ইসলামী রেডিক্যাল রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়তে ঠেলে দেয়, ঠিক যেমন মিসর বা আলজেরিয়ায় ঘটেছিল।

এ ছাড়া এই নির্বাচনী ফলাফল থেকে আসন্ন স্ট্র্যাটেজিক প্রভাব যা নিয়ে আসবে তা শেষ বিচারে এর ফসল চীনের পক্ষেই যাবে আর তাতে বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থ শুকিয়ে চিপার মধ্যে পড়ে কি না, সেটাই দেখার বিষয় হবে।’
আমাদের তৃতীয় উদাহরণ হলো, একাডেমিক স্কলার সুমিত গাঙ্গুলির লেখা। সুমিতের পরিচয় হলো, তিনি রাজনীতি বিজ্ঞানের প্রফেসর। এ ছাড়া, তিনি আমেরিকান ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতীয় কালচার ও সভ্যতা বিষয়ের রবীন্দ্র চেয়ারের অধ্যাপক। তার লেখা ছাপা হয়েছে আমেরিকান ‘ফরেন পলিসি’ পত্রিকায় ৭ জানুয়ারিতে।

তার লেখার শিরোনাম হলো, ‘বিশ্বের বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যর্থতার দিকে নজর করা উচিত।’ আর দ্বিতীয় শিরোনাম, ‘ক্ষমতাসীন দল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে একটা তামাশা বানিয়ে ছেড়েছে, ইসলামী চরমপন্থার অসুস্থ ইচ্ছাকে প্রলুব্ধ করেছে আর দেশকে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করেছে।’

প্রথমত, তিনি একে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ফলাফলের (questionable results)’ নির্বাচন মনে করেন। তার লেখা থেকে তিনটি বাক্য উঠিয়ে আনব এখানে। তিনি মনে করেন- ১. ‘সস্তা রাজনৈতিক লাভালাভের স্বার্থে এই দল (মানে আওয়ামী লীগ) ধর্মীয় সহিংস দলের উত্থানের বিরুদ্ধে কার্যকর কৌশল গ্রহণের বদলে ধর্মীয় ভোটারদের সাথে আপস করেছে। ২. আওয়ামী লীগের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনী বিজয় বাংলাদেশের জন্য খারাপ খবর, যেখানে গণতন্ত্রের আলখাল্লায় ঢেকে এটা এক কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি পয়দা ও সংহত হতে সাহায্য করবে। ৩. এই দানব ক্ষমতার বিরোধীদের ওপর আগ্রাসী আক্রমণাত্মক ভূমিকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আমল না করার একমাত্র চিহ্ন নয়।

এ ছাড়া, সবশেষে সুমিত গাঙ্গুলিও মনে করেন, ‘ট্রাম্প বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের অন্যান্য জায়গায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর মনোযোগ দিচ্ছে না। ফলে সুস্থ নির্বাচন প্রক্রিয়া সঠিক করার জন্য শক্তি খরচ সে করবে বলে মনে হয় না।’

চতুর্থ ও শেষ উদাহরণ টানব অভিজিত চক্রবর্তীর লেখা। অভিজিত ভারত সরকারের কেবিনেট সেক্রেটারিয়েটের সাবেক বিশেষ সচিব ছিলেন বলে লিখেছেন। অনুমান করি, এ ধরনের বিশেষ সচিবের মানে এরা গোয়েন্দা বিভাগের কর্তা হয়ে থাকেন। সে যাই হোক, তার লেখা ছাপা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার ইকোনমিক টাইমসে, ৭ জানুয়ারি।

তার লেখার শিরোনাম, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিকত্ব রেডিক্যাল হয়ে যাচ্ছে ভারতের শঙ্কিত হওয়া উচিত।’ রেডিক্যাল বলতে আমরা সাধারণভাবে সব ধরনের ‘সশস্ত্র রাজনীতি’ বুঝব। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, আওয়ামী লীগের ৯০ শতাংশের বেশি আসনে বিজয় এবং সাঙ্ঘাতিক রকমের সংখ্যার ব্যবধানে বিজয় এই নির্বাচন পরিচালনাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে বিশেষত যদি, আমরা বিএনপি ও জামায়াতের নিশ্চিত ভোট ভিত্তির কথা মনে রাখি।’ এ ছাড়া তিনি বলছেন, ‘এই নির্বাচন শুধু বিরোধীরা নয় আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ।’ এরপর তিনি মন্তব্য জুড়ে দিচ্ছেন, ‘এসব ফ্যাক্টর একটা দেশে স্থিতিশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার দিক থেকে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যে দেশ অতীতে ধারাবাহিকভাবে বিরতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ দেখে এসেছে।’ স্যরি, অভিজিত চক্রবর্তীকে বলতেই হচ্ছে, এই শেষ বাক্য তিনি না জুড়ে দিলেই ভালো হতো। এতে তিনি নিজের বিদ্যাবুদ্ধি, পেশা ও দক্ষতার মান নিচে নামিয়ে দিলেন।

তিনি হেফাজতের সাথে আপসে চরম ক্ষুব্ধ। তিনি বলছেন, গত দশ বছর তিনি শাসন ক্ষমতায় একনাগাড়ে থাকলেও ইসলামী রেডিক্যাল রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। এতে সমাজে দেশের ইসলামী পরিচয়কে মুখ্য করে তোলার রাজনীতির সামাজিক সুবাতাস পেয়েছে। তাই তিনি বলতে চাচ্ছেন, এই প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে বাংলাদেশকে রেডিক্যাল রাজনীতির দিকে ঠেলে দেয়া হলো। এ ছাড়া সেকুলারিজমের মৌলিক বীজ ও চিহ্নগুলোকে ক্ষয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে তিনি এবার এক সাঙ্ঘাতিক কথা বলেছেন। বলছেন, সব মিলিয়ে ‘এটা ভারতের নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত।’ অর্থাৎ তার কথা সঠিক বলে মানলে হাসিনার এ নির্বাচনী ফলাফল ও পরিচালনা ভারতের ক্ষতি বয়ে এনেছে বা আনবে।

এসব কথার সূত্র ধরে তিনি এবার নতুন সরকারে চীনের প্রভাব বেড়ে যাবে বলে দেখছেন। তাই তার শেষ কথা ভারত এসব দেখে শঙ্কিত না হয়ে ব্যাপারটাকে উপেক্ষা করতে পারে না।

তার পুরো কথার মধ্যে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটাকে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বলছেন আর এতে তিনি ভারতের জন্য বিপদ দেখছেন।
সবশেষে আনন্দবাজার পত্রিকার উদাহরণ দিয়ে শেষ করব। এটি ১ জানুয়ারির রিপোর্ট, শিরোনাম হলো- ‘ভোটে জিততে মুখ চাই, কংগ্রেসের হারের সাথে বিএনপির মহাবিপর্যয়ের তুলনা টানলেন হাসিনা।’ আনন্দবাজারের শিরোনাম এমন পেঁচানো হয় যে, খবরটা না পড়লে শিরোনামের অর্থ জানা যায় না। সার করে বললে আনন্দবাজারেরও একই উদ্বেগ, বেশি হয়ে গেছে- বিরোধী দল থাকল না।

লিখেছে, ‘শেখ হাসিনার মহাজোট পেয়েছে ২৮৮টি। তার দল আওয়ামী লীগ এককভাবেই জিতেছে ২৫৫টিতে। সেই অর্থে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আর তেমন কোনো অস্তিত্বই থাকল না।’ এই হলো তাদের উদ্বেগ। এই উদ্বেগ তাড়াতে একপর্যায়ে উপায় না পেয়ে হাসিনাকেই বলতে হলো, আগামীতে বিএনপি আবার ক্ষমতায় এসে যেতে পারে। এর উদাহরণ হিসেবে বললেন, আজকের বিজেপিও তো একসময় ভারতের সংসদে মাত্র দু’টি আসন পেয়েছিল। এ ছাড়া, হাসিনাকে বিএনপির হারের ব্যাখ্যাও নিজেই দিতে হয়েছিল। হাসিনা ব্যাখ্যায় বলেছেন, বিএনপি জিতলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেটি না বলাতেই তারা মূলত হেরেছে।

যা হোক সারকথা হলো, ৯৭ শতাংশের মতো আসন পেয়ে উল্টো আওয়ামী লীগকেই বিএনপির আগামী সম্ভাবনার কথা বলতে হয়েছিল।
তবে এর বাইরেও অনেক রিপোর্ট, মন্তব্য, কলাম আছে পাওয়া যাবে; যা এখানে আনা হয়নি। তবে ভারতের এসব প্রকাশের সাধারণ সুর হলো, এই নির্বাচনে ৯৭ শতাংশ আসনে আওয়ামী লীগের বিজয়কে ভারত আগামী দিনে দেশটির জন্য বিপদ লুকানো বলে মূল্যায়ন করছে। সে কারণেই অস্বস্তি। আর একটা সোজা ফ্যাক্ট হলো, আমেরিকার মুখ ফিরিয়ে নেয়া। এতে লাভের ফসল যাচ্ছে চীনের ঘরে। যে ওই খালি জায়গার দখল পাচ্ছে। কারণ, গণতন্ত্রের বদলে উন্নয়নের রাজনীতি- হাসিনার এই রাজনীতিতে বিজয়ের সোজা অর্থ, ভারত চীনের কাছে এখানে তুচ্ছ, পরাজিত পার্টি হবে। তার কোনো বিনিয়োগ সক্ষমতা নেই। যার ফলাফল, চীনের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ এক চীন। আর তাতে ততই শিরশিরে ঠাণ্ডা চিলিং এক ভারত।
এ ছাড়া রেডিক্যাল ইসলামের রাজনীতি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা, সেটা তো আছেই।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

[email protected]


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme