কুড়ি বছর আগে শুরু হয়েছিল তার যাত্রা। তখন তিনি ছিলেন এক স্বপ্নবাজ তরুণ। আজ ৪১ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম পরিপূর্ণ ক্যারিয়ারের মালিক। দুই দশকে বিশ্বকাপ তাকে দিয়েছে স্মরণীয় সব মুহূর্ত।
তবে অপূর্ণতাও আছে। অপূর্ণতার সবচেয়ে বড় একটি ছিল নকআউট পর্বে গোল না পাওয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে অবশেষে সেটিও মুছে গেল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথমবার জালের দেখা পেলেন রোনালদো।
এর আগে পাঁচটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে আটটি নকআউট ম্যাচ খেলেও গোল করতে পারেননি তিনি। এবার ৪১ বছর বয়সে এসে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন।
মজার বিষয়, গোলের দুই মিনিট আগেই ইতিহাস লিখে ফেলেছিলেন বলে মনে হয়েছিল। হোয়াও ক্যানসেলোর পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালেও জড়ান রোনালদো। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় সেই উদযাপন থেমে যায়।
যদিও হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৮ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোল করে নিজের বহুদিনের আক্ষেপ মুছে দেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। গোলটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১১তম গোল ও এবারের আসরের ৩য় গোল। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপে তার আগের ১০টি গোলই ছিল গ্রুপ পর্বে। এবার প্রথমবার নকআউটেও নাম লেখালেন গোলদাতার তালিকায়। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সাফল্যের খাতাটা প্রায় পূর্ণ করে ফেললেন রোনালদো।
টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তি, বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, আর এখন নকআউট গোলের আক্ষেপও শেষ। ৪১ বছর বয়সে এসেও তিনি প্রমাণ করলেন, সময়ের সাথে লড়াইয়ে এখনো হার মানেননি তিনি।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত জায়গাটি এখনো ফাঁকা। ২০০৬ সালে অভিষেক বিশ্বকাপেই পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন রোনালদো। এরপর ২০১০ ও ২০১৮ সালে শেষ ষোলো, ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায় তার দল।
এবারো ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল। এখন প্রশ্ন একটাই—সব রেকর্ডের শেষে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটাও কি জিততে পারবে রোনালদো? আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফি কি উঠবে এবার তার হাতে?



