হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে মরক্কো

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক কৌশল ধরে রাখলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও ফিনিশিং দক্ষতায় পার্থক্য গড়ে দেয় মরক্কো। ৭৮ মিনিটে সুফিয়ান রাহিমির গোল দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এরপর ম্যাচের ৮৯ মিনিটে গেসিম ইয়াসিনের গোল মরক্কোর জয় নিশ্চিত করে। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২।

ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে দারুণ লড়াই চালিয়ে গেছে মরক্কো। ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি দলটি। হাইতির সাহসী প্রতিরোধ ও পাল্টা আক্রমণের জবাব দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দলটি। এই জয়ে শুধু গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টই নয়, নিশ্চিত হয়েছে মরক্কোর নকআউট পর্বের টিকিটও।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। তুলনামূলক শক্তিশালী দল হিসেবে মাঠে নামলেও হাইতির কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে মরক্কো। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে এগিয়ে গিয়ে মরক্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ক্যারিবীয় প্রতিনিধিরা।

তবে প্রতিবারই দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয় মরক্কো। পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতায় ফেরে দলটি। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং উইং ব্যবহার করে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক কৌশল ধরে রাখলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও ফিনিশিং দক্ষতায় পার্থক্য গড়ে দেয় মরক্কো। ৭৮ মিনিটে সুফিয়ান রাহিমির গোল দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এরপর ম্যাচের ৮৯ মিনিটে গেসিম ইয়াসিনের গোল মরক্কোর জয় নিশ্চিত করে। শেষ বাঁশি বাজার সময় স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-২।

ম্যাচজুড়ে হাইতি লড়াই করেছে সমানতালে। একাধিকবার মরক্কোর রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের ধারালো আক্রমণের সামনে টিকতে পারেনি। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে রক্ষণভাগের দুর্বলতার খেসারত দিতে হয়েছে হাইতিকে।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে মরক্কো। তিন ম্যাচ শেষে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

অন্যদিকে পরাজয়ের ফলে বিশ্বকাপে হাইতির নকআউট স্বপ্ন ভেঙে গেছে। লড়াকু পারফরম্যান্স উপহার দিলেও গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।

দুইবার পিছিয়ে পড়েও যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে মরক্কো, তা তাদের শিরোপা লড়াইয়ে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেই আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছে। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা এবারও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল।