স্পেনের কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে বলেছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসির ওপর তাদের দল ‘বিশেষ নজর’ রাখবে, তবে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে ঠেকাতে ম্যান-মার্কিং কৌশল ব্যবহার করা হবে না।
ফাইনাল উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ডি লা ফুয়েন্তে বলেন, আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসির বিপক্ষে ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং কতটা কঠিন, তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন।
সেভিয়ার যুবদলের কোচ থাকাকালীণ মেসি বার্সেলোনার জুনিয়র দলে খেলতেন, ওই সময়কার একটি অভিজ্ঞতা স্পেনের কোচ স্মরণ করেন।
সেই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো ম্যাচজুড়ে মেসিকে আটকে রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, ‘প্রথমবার আমি তার মুখোমুখি হই, যখন আমি সেভিয়ার যুবদলের কোচ ছিলাম। আমরা বার্সেলোনায় খেলতে গিয়েছিলাম। তখন ‘মেসি’ নামে এক ছেলেকে নিয়ে অনেক প্রশংসা শুনেছিলাম। আমরা একজন খেলোয়াড়কে শুধু তাকে ম্যান-মার্কিং করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু ৭০ মিনিটে ওই খেলোয়াড়কে বদলি করতে হয়, কারণ সে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিল। তখন স্কোর ছিল ০-০। এরপর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে মেসি আমাদের বিপক্ষে চারটি গোল করে বসে। তাই এবার আমরা ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং করব না। তবে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং তার ওপর বিশেষ নজর রাখতে হবে।’
৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারের বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন। রোববারের এই ফাইনালই প্রায় নিশ্চিতভাবে বিশ্বকাপে তার শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে।
ডি লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘মেসি অনন্য। বিশেষ করে এই বয়সে তিনি যেভাবে অসাধারণ একটি বিশ্বকাপ খেলছেন, তার মানসিকতা ও আচরণ তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য দৃষ্টান্ত।’
রোববারের ফাইনালটি ডি লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির মধ্যেও এক ব্যক্তিগত লড়াই হয়ে উঠেছে। ২০১৭ সালে দে লা ফুয়েন্ত যখন কোচিং প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন সেখানে স্কালোনি পেশাদার কোচিং লাইসেন্সের জন্য পড়াশোনা করছিলেন, তখন তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
আর্জেন্টিনা স্পেনের ছন্দ নষ্ট করতে কৌশলী বা চতুর পন্থা অবলম্বন করতে পারে, এমন ধারণা দৃঢ়ভাবে নাকচ করে দেন ডি লা ফুয়েন্তে, ‘আহ, না, না। আমি কখনোই এমন কথা বলার সাহস করব না। এই জাতীয় দলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তারা বিশ্বকাপ জিতেছে, দু’টি কোপা আমেরিকা জিতেছে, ফিনালিসিমাও জিতেছে... আর তাদের নেতৃত্বে আছেন আমার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু। তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছাড়া আর কিছুই নেই। আমার বিশ্বাস, স্পেন ও আর্জেন্টিনা দুই দলই এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে, যেখানে প্রতিভা ও সুন্দর ফুটবলই সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকবে।’
ডি লা ফুয়েন্তে জানান, ফাইনালে বিরতির সময় স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘ হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই তার দল প্রস্তুতি নিয়েছে। তারকাসমৃদ্ধ হাফটাইম শো আয়োজনের কারণে এদিন বিরতি প্রচলিত ১৫ মিনিটের প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।
স্পেনের কোচের বিশ্বাস, দীর্ঘ হাফটাইম বিরতি এবং এবারের বিশ্বকাপে চালু হওয়া ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ ভবিষ্যতে ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, যেসব বিষয় এখন আমাদের কাছে অস্বাভাবিক বা নতুন মনে হচ্ছে, যেমন হাইড্রেশন ব্রেক বা ৩০ মিনিটের হাফটাইম, হয়তো ৩০ বছর পর এগুলোই স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে যাবে। হয়তো ফুটবল সেদিকেই এগোচ্ছে। আমরা জানি না। বাস্তবতা এটাই। আমরা এটা বদলাতে পারব না, তাই এটাকে উপভোগ করতেই হবে।’ সূত্র : বাসস



