চার বছর আগে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে স্বপ্নপূরণের হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হাতে উঠেছিল বহু কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ শিরোপা, আর আলবিসেলেস্তেরা ফিরেছিল বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে।
সেই সাফল্যের স্মৃতি এখনো অমলিন। তবে ফুটবলে অতীতের গৌরব ধরে রাখতে হলে প্রতিদিনই নতুন পরীক্ষা দিতে হয়। সেই নতুন পরীক্ষার প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে আলবিসেলেস্তাদের আগামীকাল আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
আর্জেন্টিনার লক্ষ্য বদলে গেছে। তারা আর শুধু স্বপ্নের পেছনে ছোটা দল নয়, তারা এখন সেই দল যাদের হারানোর স্বপ্ন দেখে পুরো বিশ্ব। আর সেই কারণেই শিরোপা জেতার চেয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইটা আরো কঠিন বলা হয়ে থাকে।
দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবার মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। লক্ষ্য শুধু আরেকটি বিশ্বকাপ জেতা নয়, বরং ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়া।
দলের নেতৃত্বে আছেন লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সে এটি তার রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। হয়তো এটাই বিশ্বমঞ্চে তার শেষ অধ্যায়। তাই মেসিকে ঘিরে প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া। তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব আর জাদুকরী ফুটবল আবারও আর্জেন্টিনাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
তবে শুরুটা সহজ হবে না। প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল এবং অঘটন ঘটানোর সামর্থ্য রাখে। তাই কোচ লিওনেল স্কালোনি ২০২২ সালের সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের অভিজ্ঞতা ভুলতে চান না।
তার মতে, প্রথম ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণ করে না, কিন্তু আত্মতুষ্টির সুযোগও নেই। সমীহই করছেন প্রতিপক্ষকে। সংবাদ সম্মেলনেও আলজেরিয়াকে সম্মান দিয়েই কথা বলেছেন স্কালোনি।
ফুটবল র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা যেখানে শীর্ষে, আলজেরিয়ার অবস্থান সেখানে ২৮তম।ফুটবল ইতিহাসে মাত্র একবার দেখা হয়েছিল দু’দলের। ২০০৭ সালের সেই প্রীতি ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতে মেসিরা।
অবশ্য আর্জেন্টিনার শক্তির জায়গা তাদের অভিজ্ঞ স্কোয়াড। কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশিরভাগ সদস্য এবারো রয়েছেন। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, হুলিয়ান আলভারেজদের নিয়েই সাজানো হয়েছে পরিকল্পনা।
অন্যদিকে আলজেরিয়ার কাছে এটি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ। রিয়াদ মাহরেজদের দল জানে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারাতে পারলে পুরো টুর্নামেন্টের চিত্রই বদলে যেতে পারে।
বিশ্বকাপের গল্পে প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব সবসময়ই আলাদা। সেটি আত্মবিশ্বাস গড়ে দেয়, আবার ভুল করলে চাপও বাড়িয়ে দেয়। তাই আর্জেন্টিনার জন্য এই ম্যাচ শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং শিরোপা রক্ষার দীর্ঘ অভিযানের প্রথম পদক্ষেপ।
এখন দেখার অপেক্ষা, মেসিদের যাত্রা কি শুরু হবে জয় দিয়ে, নাকি আবারো বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জন্ম নেবে নতুন কোনো অঘটনের গল্প।



