আট গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিশ্বকাপ শেষ করলেও, স্পেনের কাছে নাটকীয় ফাইনালে হেরে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা ছোঁয়া হয়নি লিওনেল মেসির।
সেই পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি মেসি। তবে কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের দরজা তার জন্য সবসময়ই খোলা থাকবে।
তবে এর মাঝেই আর্জেন্টিনার একাধিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন মেসি।
তবে দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া যাতে স্বাভাবিকভাবে এগোয়, সে জন্য আর কিছুদিন জাতীয় দলে থাকবেন তিনি। তবে এটা নিশ্চিত, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।
অর্থাৎ, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করা এক মহাকাব্যিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফুটবলের অন্যতম সেরা এই কিংবদন্তি।
এদিকে স্পোর্টস নেটওয়ার্ক বিইন স্পোর্টস–এর বরাতে জানা গেছে, মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নয়, বরং বুয়েনস আইরেসে একটি বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সংবর্ধনা দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
মেসির হাত ধরেই আর্জেন্টিনা পেয়েছে তাদের ইতিহাসের অন্যতম সফল সময়। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা দিয়ে দীর্ঘ শিরোপাখরা কাটানোর পর আসে ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার সাফল্য।
সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে দলকে টেনে তুলেছিলেন ফাইনাল পর্যন্ত। যদিও একটুর জন্য টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতা হয়নি তার, তবে মেসি আসর জুড়ে প্রমাণ করে গেছেন বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র।
তবে এবার যদি থেমে যান, তবে তা শুধু একজন ফুটবলারের অবসর হবে না; শেষ হবে বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য যুগের। আর তাই ফুটবলের বরপুত্রের শেষ বিদায়ও হবে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের মতোই মহিমান্বিত, আবেগঘন ও স্মরণীয়।



