সোহানুর রহমান
‘হাজার শহীদ কাপ’ টুর্নামেন্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩ বছর পর ফুটবলে ফিরল যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন। শুক্রবার ( ৪ সেপ্টেম্বর) অধিকৃত পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং লেবাননের শরনার্থী শিবিরগুলোতে একযোগে ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে ফুটবলকে স্বাগত জানায় ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এরই মধ্য দিয়ে ইসরাইলের গণহত্যায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতার আবারো পথচলা শুরু হলো।
উত্তর জেরুসালেমের আল-রাম অঞ্চলের ফয়সাল আল-হুসেইনি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নতুন করে শুরু হয় এই পথচলা। যেখানে জাবাল আল-মুক বের মুখোমুখি হয়েছিল শাবাব আল-খলিল। অন্যদিকে, মধ্য গাজায় ইত্তিহাদ দেইর আল-বালাহ ক্লাব স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় শাবাব রাফাহ ও খাদামত রাফাহ।
এছাড়াও লেবাননের আইন আল-হিলওয়ে শরণার্থী শিবিরের আবু জিহাদ আল-ওয়াজির স্টেডিয়ামে আল নাহদার মুখোমুখি হয়েছিল আল-আনসার। এর আগে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত ১ সেপ্টেম্বর গ্রুপ-পর্বের ড্র-এর আয়োজন করে। যেখানে পশ্চিম তীর, গাজা ও প্রবাসী সম্প্রদায় থেকে মোট ২৪৪টি ক্লাবকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ধ্বংসস্তূপে ক্রীড়া জাগরণ
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসনের পর থেকে তিন মৌসুমব্যাপী স্থগিতাদেশে থাকা ক্লাব ও খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, ভ্রমণ এবং ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ফিলিস্তিনি ক্রীড়া গণমাধ্যম সমিতির মহাসচিব মুস্তফা সিয়াম বলেন, ‘দীর্ঘ তিন মৌসুমেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত থাকার পর এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আবারো ক্রীড়াঙ্গন ফিরে আসছে।’
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে- ‘যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া পরিকাঠামোকে নিশানা করা হয়। যার ফলে এই যুদ্ধে ১০০০ জনেরও বেশি ক্রীড়াবিদ, খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিকে হত্যা করা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টের সূচনা এই বার্তা দেয় যে- সীমিত আকারে হলেও ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফিরে আসছে।’
এছাড়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনটি নিশ্চিত করেছে যে- এই টুর্নামেন্টটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার সকল শাখায় ধীরে ধীরে পুনরায় নতুন শুরুর পথকে প্রশস্ত করবে। এদিকে চলমান মানবিক সঙ্কটের মধ্যেও গাজার ম্যাচগুলো ইত্তিহাদের দেইর আল-বালাহ ক্লাবের স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হচ্ছে।
সূত্র : ইয়েনি শাফাক



