ফিফার নতুন পরিকল্পনায় দীর্ঘতম বিশ্বকাপ ফাইনাল বিতর্কে

সমালোচকদের মতে, ফুটবলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে হাফটাইম দ্বিগুণ করা খেলাটির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। অনেকের অভিযোগ, সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

বিশ্বকাপ একেবারেই শেষ প্রান্তে। ‘ফাইনাল’ দিয়ে এখন কেবল পর্দা উঠার অপেক্ষা। আগামী রোববার রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গড়াবে ফাইনাল। যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।

তবে মহা আকর্ষণীয় ফাইনাল ঘিরে নয়া পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা। আমেরিকান সুপার বোলের আদলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে আয়োজন করা হচ্ছে জমকালো হাফটাইম শো। আর তাতেই ইতিহাসের দীর্ঘতম ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

সেই আয়োজনের জন্য ম্যাচের মধ্যকার ১৫ মিনিটের প্রচলিত বিরতি এবার প্রায় ৩০ মিনিটে গড়াতে পারে বলে জানিয়েছে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম মিরর ফুটবল।

যদি সেটিই হয়, তাহলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতিসহ ফাইনাল।

ফিফার পরিকল্পিত এই হাফটাইম শোতে থাকছেন বিশ্বের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী। সম্ভাব্য পারফর্মারদের তালিকায় রয়েছেন ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, শাকিরা, বিটিএস, বার্না বয় ও বিশ্বখ্যাত অর্কেস্ট্রা কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল।

কোল্ডপ্লের সহযোগিতায় পারফর্ম করবে পিএস২২ কোরাসও। এছাড়া ম্যাচ শুরুর প্রায় ৯০ মিনিট আগে অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠান, যেখানে অংশ নিতে পারেন রবি উইলিয়ামস, টম ক্রুজ ও নিকোল শেরজিঙ্গার। ফিফার এই উদ্যোগ নিয়ে অবশ্য শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে।

সমালোচকদের মতে, ফুটবলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে হাফটাইম দ্বিগুণ করা খেলাটির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করতে পারে। অনেকের অভিযোগ, সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ফিফার এমন নজিরহীন কাণ্ড ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তবে সমালোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ফিফা। সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভাষায়, এই আয়োজন হবে ফুটবল, সংগীত ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন, যা ফাইনালের স্মৃতিকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

ফিফার সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেছেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান আইডেন্টিটি–এর প্রধান নির্বাহী মাইকেল গিটজেনও।

তার মতে, বিশ্বকাপ ফাইনালকে সাধারণ কোনো ফুটবল ম্যাচের সাথে তুলনা করা যায় না।

গিটজেন বলেন, ‘ফুটবলের নিজস্ব নিয়ম ও ছন্দ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনাল প্রতি চার বছরে মাত্র একবার আসে ও এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক ক্রীড়া আয়োজনগুলোর একটি। তাই এই ম্যাচ আরো স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ আয়োজন থাকতেই পারে।’

এখন দেখার বিষয়, ফিফার এই নতুন উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কতটা মুগ্ধ করতে পারে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—রোববারের ফাইনাল শুধু শিরোপার লড়াই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন এক অধ্যায় হয়ে থাকার অপেক্ষায়।