‘এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি! ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছে টাইগাররা। অজিদের দর্প চুর্ণ করে পেয়েছে ঐতিহাসিক জয়!

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দল ও সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত
দল ও সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত |ইন্টারনেট

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো, বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি! ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছে টাইগাররা। অজিদের দর্প চুর্ণ করে পেয়েছে ঐতিহাসিক জয়!

অবশ্য বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোখে এই জয় শুধু ঐতিহাসিক নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। মাউন্ট মঙ্গানুই বা রাওয়ালপিন্ডি, সব ছাপিয়ে এই জয়টাকেই বড় করে দেখছেন শান্ত।

রোববার ম্যাচের চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দেয়া মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য ১৪.২ ওভারেই পেরিয়ে যায় সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের ব্যাট। তাতেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ।

জয়ের ভিত অবশ্য তৈরি হয়েছিল আরো আগেই। হাসান মাহমুদের আগুনে বোলিং, তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং ও মেহেদী হাসান মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে বাংলাদেশের এমন দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো! ম্যাচের সাড়ে তিন দিনে খেলা হওয়া ১১টি সেশনের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ- যা এই জয়ের আধিপত্য আর স্পষ্ট করে।

তাই ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাসটা লুকাননি শান্ত। নিজের দল ও সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত এই অধিনায়ক সরাসরি বলে দিয়েছেন, যেকোনো ফরম্যাট মিলিয়েই এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়।

শান্ত বলেন, ‘আমার মতে এটি যেকোনো ফরম্যাটেই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। আমরা বিশ্বাস করি, সামনের দিনগুলোতে আমরা আরো স্পেশাল কিছু করব।’

‘আমি খুবই আনন্দিত। আমার দল ও নিজের ওপর আমি খুবই গর্বিত। আমরা যা করেছি, গর্ব করার মতোই ব্যাপার। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে অনেক খুশি।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খুব বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ বাংলাদেশের আসেনি। তাই এই জয় কোনো দীর্ঘ অপেক্ষার হিসাব মেটানোর গল্প নয়। বরং সীমিত সুযোগের মধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রমাণ দেয়ার গল্প।