পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের সুযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজের

এখন পর্যন্ত ৫৭ বার টেস্টে দেখা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের। এরমধ্যে ক্যারিবীয়দের জয় ২০ ম্যাচে এবং পাকিস্তান জিতেছে ২২ ম্যাচে। বাকি ১৫ ম্যাচ ড্র হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বামে পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন বাবর আজম ও ডানে ওয়েন্ট ইন্ডিজের ক্যাপ্টেন রোস্টন চেজ
বামে পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন বাবর আজম ও ডানে ওয়েন্ট ইন্ডিজের ক্যাপ্টেন রোস্টন চেজ |সংগৃহীত

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ ড্র বা জিতলেই দীর্ঘ ২৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ নেবে ক্যারিবীয়রা।

২০০০ সালে সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল ক্যারিবীয়রা।

আগামীকাল পোর্ট অব স্পেনে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯০ রানে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১১ রান তুলে। জবাব দিতে নেমে ৩ উইকেটে ২৪৪ রান তুলে ভালো অবস্থায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু পরে মাত্র ৩৮ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

প্রথম ইনিংস থেকে পাওয়া ২৯ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এতে জয়ের জন্য ২১১ রানের লক্ষ্য পায় পাকিস্তান। রান তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসারদের তোপের মুখে পড়ে ৭১ রানে ৯ উইকেট পতনের পর ১২০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। এক প্রান্ত আগলে অপরাজিত ৫৮ রান করেন অধিনায়ক বাবর আজম।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে একাই লড়াই করেন সাবেক অধিনায়ক শান মাসুদ। ১২টি চারে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দুর্ভাগ্যের বিষয় আঙুলের ইনজুরির কারণে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন না মাসুদ।

সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার জেইডেন সিলেসের এক ডেলিভারিতে বাঁ-হাতের তর্জনীতে চোট পান মাসুদ। পরে স্ক্যান রিপোর্টে মাসুদের আঙুলের চোট নিশ্চিত হয় ।

সিরিজ হার এড়ানোর ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছে না পাকিস্তান। দলের অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, ‘প্রথম টেস্টে আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি। আশা করছি, দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটাররা ভালো করবে এবং দলের জয়ে অবদান রাখবে। সিরিজ হার এড়াতে হলে দ্বিতীয় টেস্টে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ আমাদের সামনে খোলা নেই। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামবো।’

সিরিজ হার এড়ানোর পাশাপাশি পরাজয়ের বৃত্তও ভাঙ্গতে হবে পাকিস্তানকে। বিদেশের মাটিতে টানা আট ম্যাচ হেরেছে তারা। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ কলম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ইনিংস ও ২২২ রানে টেস্ট জিতেছিল পাকিস্তান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জিতলেও ব্যাটারদের পারফরমেন্সে খুশি নন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামি। তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্ট জিতলেও, ব্যাটাররা খুব বেশি ভালো করতে পারেনি। বোলারদের নৈপুন্যে টেস্ট জিতেছি আমরা। দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় ইনিংস দেখতে চাই।’

এখন পর্যন্ত ৫৭ বার টেস্টে দেখা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের। এরমধ্যে ক্যারিবীয়দের জয় ২০ ম্যাচে এবং পাকিস্তান জিতেছে ২২ ম্যাচে। বাকি ১৫ ম্যাচ ড্র হয়।

নয় দলের আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়শিপের চতুর্থ চক্রে পয়েন্ট টেবিলে শেষ দু’দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। ১১ ম্যাচ খেলে ২ জয় ও ৭ হারে ২২.৭৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে আছে ক্যারিবীয়রা।

পাঁচ টেস্টের একটিতে জয় ও ৪টি হেরে ৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নবম ও শেষ দল পাকিস্তান।

সূত্র: বাসস