সতীর্থদের ব্যর্থতায় একাই লড়লেন মিরাজ, পেলেন সেঞ্চুরি

ডারউইনের স্পিন-সহায়ক উইকেটে তার পারফরম্যান্স সামনে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজের আগেই বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে, যেখানে ন্যাথান লায়নের স্পিনও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মেহেদী মিরাজ
মেহেদী মিরাজ |ফাইল ছবি

অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে যখন ব্যাটিং ধসে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, তখন একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মেহেদী মিরাজ। সাত নম্বরে নেমে করেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। তার ব্যাটে ভর করে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান তুলেছে টাইগাররা।

ডারউইনের মারারা ওভালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ৬১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। তানজিদ হাসান তামিম ও মুশফিকুর রহিম ফেরেন কোনো রান না করেই।

সাদমান ইসলাম ৩১, মুমিনুল হক ১৬, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৭ ও অমিত হাসান ১৫ রান করলেও কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৫ উইকেটে ১০৫ এবং পরে ৬ উইকেটে ১১০ রানে বিপদে পড়া দলকে উদ্ধার করেন মিরাজ।

সৌম্য সরকারের সাথে ৪৮ রানের জুটি গড়ার পর শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদের সাথে যোগ করেন ৬৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। খালেদের ১৫ রানের ইনিংসও শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মিরাজ মাত্র ১২৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ১৪১ বলের অপরাজিত ইনিংসে তিনি হাঁকান ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। শেষ দিকে টানা কয়েকটি ছক্কায় ইনিংসের গতি বাড়িয়ে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল নায়ক ছিলেন অস্ট্রেলিয়া একাদশের অফস্পিনার কোরি রকিচ্চলি। শেফিল্ড শিল্ডের গত তিন মৌসুমের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এই স্পিনার ৮৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন।

ডারউইনের স্পিন-সহায়ক উইকেটে তার পারফরম্যান্স সামনে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজের আগেই বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে, যেখানে ন্যাথান লায়নের স্পিনও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

দিনের শেষ ভাগে বল হাতেও ভালো শুরু করে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ ফেরান অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ব্যাটার স্যাম কনস্টাসকে (১) ও তাসকিন আহমেদ বোল্ড করেন ক্যাম্পবেল কেলাওয়েকে (০)।

তবে এরপর অধিনায়ক কার্টিস প্যাটারসন (২৬)* ও জশ ফিলিপি (২২)* তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন।