সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর আফগানিস্তান ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন হাশমতউল্লাহ শহিদী। গত মাসে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজই তার শেষ নেতৃত্বের মঞ্চ ছিল।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে আফগানিস্তানের ওয়ানডে-এর নেতৃত্ব পান শহিদী। এরপর ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজ পর্যন্ত ৫৫টি ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। তার অধিনায়কত্বে ২৭টি ম্যাচ জিতেছে আফগানিস্তান।
ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের ইতিহাসে শহিদীর চেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন কেবল সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান। তিনি ৫৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ৩৪টি জয় এনে দিয়েছিলেন।
শহিদীর অধিনায়কত্বের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই আসরে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে চমক দেখায় আফগানিস্তান। সেমিফাইনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত শেষ চারে জায়গা করে নিতে পারেনি দলটি।
এছাড়া ২০২৩ এশিয়া কাপ ও ২০২৫ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও দলকে নেতৃত্ব দেন শহিদী। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা করে নেয় আফগানিস্তান।
সেই টুর্নামেন্টেও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় সেমিফাইনালের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়।
দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও সফল ছিলেন শহিদী। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে তিনটি ওয়ানডে সিরিজে হারিয়েছে আফগানিস্তান। এছাড়া জিম্বাবুয়ে (দুইবার), দক্ষিণ আফ্রিকা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তার নেতৃত্বে।
অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর ব্যাট হাতেও ধারাবাহিক ছিলেন শহিদী। নেতৃত্ব পাওয়ার আগে ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৩২.৯৭, স্ট্রাইক রেট ৬৪.৩৯। অধিনায়ক হওয়ার পর সেই পরিসংখ্যান বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩.৭৯ গড় ও ৭০.৭৭ স্ট্রাইক রেটে।
আগামী মাসে আয়ারল্যান্ড সফরে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। তার আগেই নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক ঘোষণা করতে হবে আফগান ক্রিকেট বোর্ডকে।



