১৯ অক্টোবর ২০১৮

এশিয়াডে জয় হবে সাফের প্রেরণা

-

নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে। ৩০ জুলাইয়ের বদলে গত রাতেই রওনা হয়েছে তারা। ১৩ দিন সেখানে অবস্থান শেষে ১০ আগস্ট ফুটবল দল পৌঁছবে জার্কাতায়। ১৪ তারিখে তাদের প্রথম ম্যাচ। বাংলাদেশের গ্রুপে অন্য দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে এই তথ্য পাওয়ার পর কোরিয়া যাওয়ার সময়সূচি বদল করে বাফুফে। পরে অবশ্য জানা গেল নতুন কোনো দল ঢুকেনি বাংলাদেশের গ্রুপে। অথচ কোরিয়ার সফরসূচি বদলের ফলে চারটির বদলে এখন তিনটি প্র্যাকটিস ম্যাচে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। আগে তৃতীয় প্রতিপক্ষের নাম চূড়ান্ত হলেও এখন তারিখ বদলের ফলে নতুন করে তিন নম্বর দল খুঁজছে কোরিয়ানরা।
এ দিকে এশিয়াডের একটি জয় বাংলাদেশকে সেপ্টেম্বরের সাফে ভালো করতে বড় অনুপ্ররেণা হবে বলে মন্তব্য বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে’র। ‘ডি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান, কাতার ও থাইল্যান্ড। কোচের বক্তব্য, অবশ্যই এই দলগুলো শক্তিশালী। তবে এটা ফুটবল। এখানে হতে পারে যেকোনো কিছু। আমাদের ফুটবলারেরা তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারলে এবং নির্দিষ্ট দিনে সেরাটা দিতে পারলে অবশ্যই জেতা সম্ভব। যা বাড়তি অনুপ্রেরণা হবে সাফের জন্য।
কাতার, থাইল্যান্ড বা উজবেকিস্তান কোনোভাবেই বাংলাদেশের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নয়। গত বছরই এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে কাতারের মাঠে বাংলাদেশ হারিয়েছিল কাতারকে। একই বছর তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে উজবেকিস্তান বহু কষ্টে ৯৪ মিনিটের গোলে ১-০তে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে। তা-ও সেটা ছিল আত্মঘাতী। ২০১২ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-২২ ফুটবলে উজবেকরা ২-১ গোলে জয় পায় লাল-সবুজদের বিপক্ষে। থাইল্যান্ডের বয়সভিত্তিক ফুটবলও খুব একটা এগিয়ে নয় বাংলাদেশের চেয়ে। সুতরাং একটি জয়ের প্রত্যাশা করতেই পারে এবারের এশিয়াডে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।
অনূর্ধ্ব-২৩ দল হলেও এতে খেলতে পারবেন তিন সিনিয়র। এবার এই কোটায় বাংলাদেশ দলে আছেন গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা, ডিফেন্ডার তপু বর্মণ এবং মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া। অবশ্য এই সিনিয়ররা ছাড়াও মামুনুল ইসলাম মামুন, ওয়ালী ফয়সাল, সাখাওয়াত রনি, ফয়সাল মাহমুদ, ইমন বাবু, নাসির উদ্দিন চৌধুরীরা দলের সাথেই কোরিয়া এবং জাকার্তা যাচ্ছেন। তা সাফের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই। জানান কোচ। গোলরক্ষক সোহেল, স্ট্রাইকার জীবন, মিডফিল্ডার হেমন্তরা এশিয়াডের পর দলের সাথে যোগ দেবেন। মোট ২৭ ফুটবলার গত রাতে কোরিয়া গেছেন। সেখানে তারা থাকবেন মকপো ট্রেনিং সেন্টারে।
কোরিয়ায় বাংলাদেশ দল ১ আগস্ট গুয়াংজু এফসির সাথে, ৩ আগস্ট সিয়ান হান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ম্যাচ খেলবে। ৬ আগস্টের প্রতিপক্ষ অবশ্য এখনো ঠিক হয়নি।
কোরিয়ার এই সফর জাতীয় দলকে ভালোভাবেই প্রস্তুত করবে , বললেন কোচ। তার আশা, ‘ফুটবলারেরা এশিয়াডে নিজেদের প্রমাণের কাজটা যথাযথভাবেই সম্পন্ন করবে।’
২০১৪-এর এশিয়াডে খেলেছেন জামাল ভূঁইয়া। এবার তারই ক্যাপ্টেন্সি করার কথা সর্বশেষ জাতীয় দলের দলপতি হিসেবে । যদিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি অধিনায়ক। কাল সংবাদ সম্মেলনে জামাল জানালেন, গত এশিয়াডের চেয়ে এবারের দল অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দলও সেবারের চেয়ে ফিট। যদিও সেবার আমরা জয় পেয়েছিলাম আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ভাগ্যও সহায়ক ছিল তখন।
দলে অনেক ফুটবলার থাকলেও সাদ উদ্দিনের প্রশংসায় কোচ জেমি। তাকেই মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানো হবে। এ ছাড়া আছেন মতিন মিয়া। তবে একাদশ এখনো ঠিক করতে পারেননি কোচ।
এশিয়াডে বাংলাদেশ ১৪ আগস্ট উজবেকিস্তানের সাথে, ১৬ তারিখে থাইল্যান্ড ও ১৯ তারিখে কাতারের সাথে খেলবে।
২৭ ফুটবলার হলেনÑ রানা, সুশান্ত, রহমত, জামাল, তপু, বাদশা, সুফিল, ফাহাদ, সাদ উদ্দিন, জনি, জাফর, বিশ্বনাথ, জিকো, আবদুল্লাহ, বিপলু, মতিন, রবিউল, মানিক, ফজলে রাব্বী, প্রতীম, নাসির, মামুনুল, ফয়সাল মাহমুদ, ইমন বাবু, রনি, ওয়ালী ও সোহলে রানা।


আরো সংবাদ