নিয়ন্ত্রণ ডিঙিয়ে আবারো হ্যাক করল ওপেনএআই-এর এজেন্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যখন নির্মাতাদের সব শৃঙ্খল ছিঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন ঠিক কী ঘটতে পারে? এমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা আবারো ঘটে গেছে বিশ্ব প্রযুক্তি অঙ্গনে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি |সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর তৈরি একটি অনিয়ন্ত্রিত বা 'রোগ' এআই মডেল পরীক্ষাগারের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বের হয়ে দ্বিতীয় আরেকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখানে অনুপ্রবেশ করেছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে এসেছে।

আল জাজিরা বুধবার (২৯ জুলাই) জানিয়েছে, এর আগে ওপেনএআই তাদের তৈরি সদ্য আসা 'জিপিটি ৫.৬ সল' এবং আরও শক্তিশালী একটি অপ্রকাশিত মডেলের সক্ষমতা পরখ করার পরীক্ষা চালাচ্ছিল। সেই অনুশীলনের সময় এআই এজেন্টটি চুরি করা লগইন তথ্য ব্যবহার করে পরীক্ষার নিরাপদ জায়গা বা 'স্যান্ডবক্স' থেকে বের হয়ে আসে। এরপর এটি সরাসরি 'হাগিং ফেস' নামের অন্য এক এআই কোম্পানির সার্ভারে ঢুকে পড়ে এবং অজানা এক ত্রুটি খুঁজে বের করে সেখানে অনুপ্রবেশ করে। হাগিং ফেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্লেমেন্ট দেলাঙ্গু এ ঘটনাকে 'প্রথমবারের মতো ঘটা বিষয়' বলে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তবে ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। হাগিং ফেসের দেওয়া সময়সূচি থেকে জানা যায়, ওই অনিয়ন্ত্রিত এআই এজেন্টটি তৃতীয় এক প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ থেকে নতুন করে আবারো হ্যাকিং চালায়। রয়টার্স জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কভিত্তিক সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম 'মোডাল ল্যাবস'।

মোডাল ল্যাবসের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা আকসাত বুবনা জানান, তাদের প্ল্যাটফর্মে থাকা এক গ্রাহকের দুর্বল কোডের সুযোগ নিয়েছিল এই এজেন্ট। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'মোডালের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।' এর আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থকো ফাঁকি দিয়ে ২২ জুলাই প্রথম হ্যাকিং অপকর্মটি করেছিল ওপেন এআইয়ের এক এজেন্ট। তবে তাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো হুমকি দেখা দেয়নি বলে দাবি করা হযেছিল।

এই পুরো কাণ্ডটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জারি করা নতুন এক নির্বাহী আদেশের কয়েক সপ্তাহের মাথায়, যেখানে উন্নত এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল। মার্কিন আইনপ্রণেতা গ্রেগ কাসার ঘটনাটিকে 'উদ্বেগজনক' আখ্যা দিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকানুন ছাড়া এআই বড্ড দ্রুত বেড়ে উঠছে। তাই অবিলম্বে স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষা ও বাধ্যবাধকতামূলক তদারকি দরকার।