রকেটে চড়ে মহাকাশে প্রথম কুকুরের সফল উড্ডয়নের ৭৫ বছর পার হলেও বিশ্ব আজ পর্যন্ত সেই চারপেয়ে বীরদের ভুলেনি। ১৯৬১ সালে ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানব হিসেবে মহাকাশ জয়ের আগেই এই অবলা প্রাণীরা মানুষকে তারার দেশে অভিযানের পথ দেখিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আরটি শনিবার (২৫ জুলাই) জানিয়েছে, ১৯৫০-এর দশকে তীব্র গতি, রকেটের ঝাঁকুনি, মহাজাগতিক বিকিরণ আর মহাশূন্যের ভাসমান অবস্থায় কোনো প্রাণী বেঁচে থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত ছিলেন না। একইসাথে ওজনহীনতায় শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাবার গেলা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষামূলকভাবে দেখা জরুরি ছিল।
মহাকাশে পাঠানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে বানর বেছে নেয়। কিন্তু সংকীর্ণ জায়গায় বানর ভয় পেয়ে অস্থির হয়ে উঠতো, যার কারণে ওদের ওষুধ দিয়ে শান্ত রাখতে হতো। সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে ওষুধ দিলে পরীক্ষার আসল তথ্য পাওয়া যাবে না। তাই তারা রাজপথের কুড়ানো সাধারণ কুকুর বেছে নেন। কুকুর ছোট জায়গায় শান্ত থাকতে পারতো আর তাদের রক্তসংবহন ও শ্বাসতন্ত্র মানুষের অনেকটাই কাছাকাছি।
১৯৫১ সালের ২২ জুলাই 'দেজিক' ও 'সাইগান' নামের দুটি কুকুর নিয়ে রকেট ১০০ কিলোমিটার উঁচুতে ওঠে এবং নিরাপদে প্যারাশুটে মাটিতে ফিরে আসে সারমেয় দুটিই। এই ছিল মহাকাশের ইতিহাসের প্রাণীর প্রথম সফল উড্ডয়ন। এরপর ১৯৫৭ সালে 'লাইকা' নামের এক কুকুরকে মহাকাশযানে পাঠানো হয়। কিন্তু যানটি মাটিতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা না থাকায় এবং অতিরিক্ত গরমে লাইকা মারা যায়। এই ঘটনা কষ্টদায়ক হলেও প্রমাণ করে যে কক্ষপথে প্রাণের টিকে থাকা সম্ভব
সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ১৯৬০ সালের ১৯ আগস্ট। 'বেলকা' ও 'স্ট্রেলকা' নামের দুটি কুকুর স্পুটনিক-৫ যানে চড়ে ২৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিটে ১৭ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে একদম অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার পর বিজ্ঞানীরা মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর চূড়ান্ত সাহস পান।
পরবর্তীতে স্ট্রেলকার একটি ছানা 'পুশিনকা'-কে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির পরিবারকে উপহার দেয়া হয়েছিল। যেকোনো অজানা জগত জয়ের মতো মহাকাশ অভিযানেও অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। রাশিয়া আজও সেই বীর কুকুরদের ভুলে যায়নি; তাদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে ভাস্কর্য, ঠাঁই পেয়েছে চলচ্চিত্র ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে। লাইকা, বেলকা ও স্ট্রেলকাদের এই আত্মত্যাগ আজও মানুষ স্মরণ করে।



