স্টারলিংকের দক্ষিণ এশিয়ার ট্রানজিট হাব হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের গ্রাউন্ড স্টেশন ও দক্ষিণ এশীয় ট্রানজিট হাব নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
স্টারলিংকের দক্ষিণ এশিয়ার ট্রানজিট হাব হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ
স্টারলিংকের দক্ষিণ এশিয়ার ট্রানজিট হাব হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ |নয়া দিগন্ত

স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের গ্রাউন্ড স্টেশন ও দক্ষিণ এশীয় ট্রানজিট হাব নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের (পিটিডি) নীতিগত অনুমোদনের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) স্টারলিংককে এই প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেয়।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো স্টারলিংকের আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যা দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অনুমোদনের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) স্টারলিংকের গ্রাউন্ড স্টেশন ও ট্রানজিট হাব নির্মাণের প্রস্তাবে চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় স্টারলিংকের একটি প্রধান ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

এই অবকাঠামোর মাধ্যমে স্টারলিংক বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অপরিশোধিত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করতে পারবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক অন্য দেশে পরিবহনের অনুমতি দেয়া হলো।

তিন বছরের চুক্তির আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) স্টারলিংকের প্রধান ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

তবে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে বিএসসিসিএল ব্যর্থ হলে স্টারলিংক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশনস এবং ফাইবারঅ্যাটহোম (Fiber@Home) থেকেও ব্যান্ডউইথ সংগ্রহ করতে পারবে।

স্টারলিংকের মাধ্যমে বিদেশে রফতানিকৃত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বাংলাদেশের সরকারি ফায়ারওয়াল, ফিল্টারিং বা নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। অর্থাৎ, বিদেশী গ্রাহকরা সরাসরি আনফিল্টারড ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুতগতির, কম ল্যাটেন্সি এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে অনেক প্রতিষ্ঠান ও অপারেটর এ ধরনের আনফিল্টারড ব্যান্ডউইথকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। এই সুবিধার কারণেই স্টারলিংক বাংলাদেশকে তাদের দক্ষিণ এশীয় ট্রানজিট কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিটিআরসি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে, আন্তর্জাতিক ট্রানজিট নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট অবকাঠামো সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে।

ফলে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ কেবল বিদেশী গ্রাহকদের জন্য ব্যবহৃত হবে। দেশের কোনো নাগরিক বা বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশী পর্যটক এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট ব্যবহার আগের মতোই বিদ্যমান সরকারি নীতিমালা, ফিল্টারিং এবং নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।

বিটিআরসির নির্ধারিত সব প্রযুক্তিগত শর্ত মেনে স্টারলিংক ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি নথি এবং মনিটরিং ব্যবস্থা কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রানজিট ব্যবসায় নতুন অবস্থান তৈরি করবে। একই সাথে দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর আন্তর্জাতিক ব্যবহার বৃদ্ধি, বৈদেশিক আয় এবং ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।