- মেট্রোরেলের নিচে বোমা রাখা সন্দেহভাজন মামুনকে খুঁজছে গোয়েন্দারা
- সংগঠনগুলোর বড় অংশ ইন্টারনেট নেটওয়ার্কভিত্তিক সক্রিয়
- আরসা কিংবা টিটিপির মতাদর্শ অনলাইনে সহজলভ্য
- কেপিআই এলাকায় হামলার ছক, পুলিশের হাই অ্যালার্ট
সারা দেশে ফের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সমাবেশ ঘিরে ব্যপক নাশকতার ছক তৈরি করেছে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সদস্যরা। তাদের টার্গেট দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমর্যাকে ক্ষুণœ করা। বিশেষ করে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের’ (টিটিপি) উদ্যোগে সক্রিয় অবস্থানে থেকে কেপিআই এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সভা-সমাবেশে নাশকতার ছক তৈরি করা হচ্ছে। তবে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হিন্দু ধর্মালম্বী ইসকনের ফিরতি রথযাত্রায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মতিঝিলের মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ইলেকট্রনিক ডিভাইসযুক্ত ছাতা থেকে দু’টি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী বোমা নিষ্ক্রিয় করে ডিএমপির বোম্ব ডিস্পোজাল টিম। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্ত শুরু করলেও এঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই বোমা বানোনোর কারিগর হিসেবে নব্য জেএমবির সদস্য মামুন ওরফে বোমা মামুনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গোয়েন্দারা। তাদের বিশ্বাস এই বোমা মামুন বা তার দলের সদস্যরা তৈরি করে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছিল। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চক্রটি আরো ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা করেছে। শুক্রবার যখন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে সবাই ব্যস্ত, তখনই তারা রথযাত্রাকে টার্গেট করেছে। এর পেছনে পাশের দেশের উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর যোগসাজশ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ভারপন্থী টিটিপি মতাদর্শের চারজনকে গত ২৯ এপ্রিল রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতরা ‘আরসা’ নামে একটি চরমপন্থী সংগঠনের সদস্য। তবে এই আরসা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা নয়। সংগঠনটি টিটিপির আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে জানান সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা।
এমন উগ্রবাদী সংগঠন শুধুু রাজধানী ঢাকায় নয়, গত ৪ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে টিটিপির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মোহাম্মদ উল্যাহ নামে (২০) আরো একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর সপ্তাহখানেক পরে গত ১৪ মে মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ-এর সদস্য মো: রাহেদ হোসেন মাহেদকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য বলেও জানা যায়। উগ্রবাদীদের এমন সক্রিয় হয়ে ওঠার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের কেপিআই এলাকায় পুলিশের হাই অ্যালার্টও জারি করা হয়।
সম্প্রতি এমন ঘটনায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে- বাংলাদেশে কি আবারো সশস্ত্র ভারপন্থী উগ্রবাদীদের তৎপরতার উত্থান ঘটতে যাচ্ছে? নিষিদ্ধ ঘোষিত এসব সংগঠন কি সক্রিয় হচ্ছে? বাংলাদেশে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দলীয় সদস্য কেন? কী চায় এরা? আরসার সাথে কারা সম্পৃক্ত? টিটিপি আর আরসার মধ্যে কী সম্পর্ক?
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এরা সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। সেটি কী, কেন এবং কার স্বার্থে তা এখনো জানা যায়নি। এ বিষয় নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তদন্ত করছে।
দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও জঙ্গি তৎপরতা প্রতিরোধ ও দমন নিয়ে কাজ করা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) মিডিয়া এবং অ্যাওয়ারনেস বিভাগের পুলিশ সুপার মাহফুজুল আলম রাসেল বলেন, নতুনভাবে উগ্রবাদীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। সেই হিসাবে এটিইউ দুইটা ভাগে দেশের উগ্রবাদীদের নিয়ে কাজ করছে। নিজস্ব সোর্স ও এজেন্ট দিয়ে সংগঠনগুলোর সদস্যদের নজরদারি করা হয়। অনলাইনে প্রতিটি উগ্রবাদী স্টাটাসের ওপরে নজরও রাখছে এটিইউ।
এ দিকে দেশে উগ্রবাদী সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হওয়ার শঙ্কায় পুলিশ সদর দফতরের সতর্কবার্তা নতুন সরকারের জন্য ভয়ের ও চ্যালেঞ্জের বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, উগ্রবাদী সংগঠনগুলো আবারো মাথাচাড়া দিচ্ছে বলেই পুলিশের হাই অ্যালার্ট সর্তকবার্তা। এটা নাগরিকদের জন্য ভয় ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতীতেও উগ্রবাদীদের আইনের আওতায় নিতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় ছিলেন, এখনো সক্রিয় রয়েছেন। তবে উগ্রবাদীদের আটকের মধ্যে যাতে রাজনৈতিক কোনো ফায়দা না হয় সেটি নজরে রাখতে হবে।
বাংলাদেশের উগ্রবাদী কার্যক্রম বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নজর রাখছেন মানবাধিকার সংগঠক নূর খান লিটন। তার মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর সাথে বাংলাদেশী উগ্রবাদীদের সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি অনেক পুরনো। এমনকি, বায়তুল মোকাররমের কাছে ব্যানার দিয়ে মুজাহিদ সংগ্রহের তৎপরতা দেখেছি আমরা।
উগ্রবাদী নিয়ে আইনশৃঙ্খলার ভাবনা : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশে এখন উগ্রপন্থী বা জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রকাশ্য অস্তিত্ব নেই বলে তারা যে গুপ্ত অবস্থায় নেই, সেটি বলা বা ভাবা কোনোটাই ঠিক হবে না। সরকার সেটি ভাবছেও না। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনেরই প্রকাশ্য অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশে আরসা অথবা টিটিপির কোনো স্বীকৃত সাংগঠনিক শাখা বা স্থায়ী নেটওয়ার্কের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত তদন্তে যা মিলেছে তা মূলত অনলাইন কনটেন্ট অনুসরণ বা আদর্শ অনুসরণ করে যোগাযোগের স্তরে সীমিত। তবে এদের চিহ্নিত আর বিস্তার রোধ করা না গেলে এরাই একসময় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে; কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে এদের কখনো কখনো রাজনৈতিকভাবেও মদদ দেয়া হতো, করা হতো ব্যবহার।
জানা গেছে, টিটিপি মূলত পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র উগ্রবাদী জোট। এই সংগঠনটি ২০০৭ সালে গঠিত। তাদের প্রধান লক্ষ্য, পাকিস্তান রাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালানো কার্যক্রমের কেন্দ্র খাইবার পাখতুনখাওয়া ও আফগান সীমান্তবর্তী এলাকা। টিটিপি আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত। এই কারণে বাংলাদেশে তাদের শাখা বা অনুসারী থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে বাংলাদেশে টিটিপি সরাসরি কোনো শাখা খুলেছে এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনী প্রকাশ্যে দেয়নি। নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্রিফিংয়েও এই দাবি করা হয়েছে।
তবে এটাও বলা হয়েছে, দেশে সক্রিয় উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর বড় অংশ ইন্টারনেট নেটওয়ার্কভিত্তিক। এদের সাথে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর আদর্শগত অনেক মিল থাকলেও এখন পর্যন্ত জোরালোভাবে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের প্রত্যাবর্তনের পর দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর গতিবিধি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। পাকিস্তানেও টিটিপির হামলা বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে এ ধরনের কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক রিপোর্ট পাওয়া যায়নি; কিন্তু পাওয়া যায়নি বলে আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না বলেও জানান তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
গ্রেফতারকৃতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য : ঢাকায় গ্রেফতারকৃত চারজনের বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ‘আরসা’ নামে পরিচিত সংগঠনটি সম্প্রতি তাদের নজরে আসে। এটি একটি নিষিদ্ধ উগ্রবাদী প্ল্যাটফর্ম, যা অনলাইনে ধর্মীয় উসকানি, চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচার এবং গোপনে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছিল। গ্রেফতারকৃতরা অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচার, সদস্য সংগ্রহ এবং বিদেশী উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পাকিস্তানভিত্তিক উগ্রবাদী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত বলে স্বীকার করেছে। তারা কিছু স্পর্শকাতর স্থাপনায় হামলা চালানো এবং সহিংসতা ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারেও তদন্ত চলছে। বিশেষ করে কী কাজে ড্রোন ব্যবহার করত, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এর বিশ্বাসযোগ্য সঠিক উত্তর এখনো মেলেনি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সাথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো আশঙ্কাকে ছোট করে দেখা হচ্ছে না। সাইবার মনিটরিং জোরদার, সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্ট ট্র্যাকিং জোরালো করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার থেকে মোহাম্মদ উল্যাহকে গ্রেফতারের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ অহিদুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে মোহাম্মদ উল্যাহর সাথে টিটিপির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তার মোবাইল ফোনে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বার্তা, ডকুমেন্ট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এ দিকে মৌলভীবাজার থেকে চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য রাহেদ হোসেন মাহেদকে গ্রেফতারের পর ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিট থেকে জানানো হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যের সাথে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
আরসা বা টিটিপির মতাদর্শ অনলাইনে সহজলভ্য : তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আরসা কিংবা টিটিপির মতাদর্শ অনলাইনে সহজলভ্য। কেউ তা অনুসরণ করলে তাকে টিটিপির সাংগঠনিক সদস্য বলা যায় না। তবে ভয়ঙ্কর পথে যাত্রা শুরুর আগে বা পা ফেলার আগে তাদের রোধ করা না গেলে দেশের জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। এখন গুরুত্বের সাথে এই বিষয়গুলো ভাবতে হবে।
এ বিষয়ে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, টিটিপি, আরসা, আইএস বা আলকায়েদা- এসব সংগঠনের কনটেন্ট ইন্টারনেটে সহজলভ্য। ফলে কোনো ব্যক্তি সেই কনটেন্টে প্রভাবিত হলে আদর্শগত সংযোগ তৈরি হতে পারে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাইবার মনিটরিং এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন যোগাযোগ বা রিক্রুটমেন্টের চেষ্টা পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার মতে, সিটিটিসি সবসময় এটাই মনে করে যে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।
‘স্লিপার সেল’ ও অনলাইন নেটওয়ার্ক : গোয়েন্দা নজরদারিতে উঠে এসেছে, উগ্রবাদী সংগঠনগুলো ‘স্লিপার সেল’ পরিচালনা করছে। ছোট ছোট গোপন দলে বিভক্ত হয়ে সদস্যরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। তারা মূলত এনক্রিপ্টেড কিছু অ্যাপ, বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করছে। সিটিটিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম এরই মধ্যে এই নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ শুরু করেছে। ডিএমপির গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ছদ্মনাম ব্যবহার করে অনলাইনে প্রচার চালানো এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কেপিআই এলাকায় হামলার ছক, পুলিশের হাই অ্যালার্ট
উগ্রবাদী আতঙ্কে গত এপ্রিল মাস থেকেই পুলিশ সদর দফতরের চিঠির পর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারা দেশে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সেটি এখনো বহাল আছে। পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনায় রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং সিটিটিসি যৌথভাবে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সশস্ত্র পাহারার পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।



