দেশে বিদেশী ঋণের বোঝা বাড়ছে। আাগামী তিন অর্থবছরে বিদেশী ঋণের আসল পরিশোধে ব্যয় করতে হবে এক হাজার ২২৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরলে) যা হবে এক লাখ ৫১ হাজার ১৯১ কোটি টাকা।
অর্থবছর হিসেবে পরিশোধসূচিতে দেখা গেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বিদেশী ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হবে ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে ব্যয় হবে ৪২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে তা বেড়ে হবে ৪২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অর্থ বিভাগ বলেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের শেষে সরকার বৈদেশিক ঋণের আসল পরিশোধ বাবদ ২৬১ কোটি ৪০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এই পরিমাণ বেড়ে ৩১৯ কোটি ৬০ লাখ পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বলা হয়েছে, ঋণের মেয়াদপূর্তি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং কিছু ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় আগামী বছরগুলোতে বর্ধিত ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বেড়ে যাবে। এর সাথে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশী টাকার অবমূল্যায়ন বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
অর্থ বিভাগ মনে করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টাকার মূল্যমান উল্লেখযোগ্যভাবে অবনমন হওয়ায় এ সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং তারল্য সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার জন্য ঋণ পরিশোধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সরকারের অর্থায়নের উৎস বৈচিত্র্যময় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির জন্য সরকারের নানা প্রচেষ্টার ফলে এটি সহনীয় সীমার মধ্যে থাকবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে ঋণের এই চাপ সামাল দেয়া আরো কঠিন হবে।
আইএমএফ তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, রাজস্ব আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধ ও সুদ ব্যয়ের উচ্চ হার আগামী বছরগুলোতে রোলওভার বা পুনঃঅর্থায়নের ঝুঁকি বাড়াবে। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ৭ শতাংশের নিচে, যা এ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম কম। ফলে সরকারের পক্ষে বাড়তে থাকা ঋণের চাপ সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে, সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ তার উত্তরসূরির জন্য রেখে যাওয়া এক নোটে বলেছেন, দেশের রফতানি আয় ও সরকারি রাজস্বের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ অনেক দ্রুত বাড়ছে। তিনি নতুন সরকারকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সাথে চড়া সুদের কঠিন শর্তের বিদেশী ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট সরকারি ঋণের বোঝা ২২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্র্রতিক ত্রৈমাসিক বুলেটিনে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ঋণ নেয়া হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা।
বুলেটিনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুন শেষে, অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেয়ার এক মাস আগে সরকারি ঋণ ছিল ১৮ লাখ দশমিক ৯০ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সালের জুন শেষে ঋণ ছিল ১৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অভ্যন্তরীণ ঋণ এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ডিসেম্বরে ১২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ এক লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৯ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায় এসে দাঁড়ায়।



