নিজস্ব প্রতিবেদক
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচিত সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, পুলিশের ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফ মাহমুদ অপুসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বৃহস্পতিবার এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে বলে জানান দুদকের মহাপরিচালক মো: আক্তার হোসেন। এদের মধ্যে আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী ডা: মির্জা নাহিদা হোসেনের ৩৫ ব্যাংক হিসাবে তিন হাজার ৯১৮ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পৃথক দুই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায় প্রথম মামলায় সাবেক মন্ত্রী মো: আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এক কোটি ৭২ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭২ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট তিন হাজার ৮৯১ কোটি ৩২ হাজার ৯৪ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিং সম্পৃক্ত অপরাধ করেছেন।
এ দিকে তার স্ত্রী ডা: মির্জা নাহিদা হোসেনের নামে ছয় কোটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার প্রমাণ মিলেছে। তার নামে থাকা ১৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৬ কোটি ৫৬ লাখ ৬ হাজার ৯৭৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন রয়েছে। ওই অভিযোগে স্বামী মো: আব্দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপর দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৪৭ লাখ ৪২ হাজার ৮২৬ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার নিজ নামের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ১৫ হাজার ৫৯০ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপর দিকে পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। মামলায় তার বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, দুদকের অনুসন্ধানে পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলামের দুই কোটি ৭ লাখ ১ হাজার ৩১৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে ৯৪ লাখ ১ হাজার ৮০৭ টাকার।
কয়েক কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ২০১৩ সালে মোল্যা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথম দুদক অনুসন্ধান শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে অজ্ঞাত কারণে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তার দুর্নীতির অনুসন্ধান পুনরায় শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করা হয়।
এরই মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়েছে মোল্যা নজরুল ইসলামকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর গুলশান থানা এলাকার কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম হোসেন জুবায়েদকে হত্যাচেষ্টা মামলায় রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমি থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফ মাহমুদ অপুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মমালায় জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শরীফ মাহমুদ অপু ৫৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুঅর্জন করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে উপপরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে গত ১৫ আগস্ট একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে দুদক। অনুসন্ধান শেষে আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে আগেই মামলা দায়ের করেছে দুদক। অপুর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয় বৃহস্পতিবার।
এর আগে ৯ অক্টোবর ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ, অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান ও মেয়ে শাফিয়া তাসনিম খানের নামে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। একই দিন কামালের এপিএস মনির হোসেনকে আসামি করেও একটি মামলা দায়ের হয়। আসাদুজ্জামান খানকে চার মামলায় আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ২১ আগস্ট কামালের পরিবার এবং তার সাবেক পিএস হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, যুগ্ম সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন, সহকারী একান্ত সচিব মনির হোসেন এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপুসহ আট জনের ব্যাংক হিসাবের সব লেনদেনের তথ্য তলব করে দুদক। গত ১ সেপ্টেম্বর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।



