২০ এপ্রিল ২০১৯

আগের রাতের ভোটের খবর সবাই জানেন

চলতে ফিরতে দেখা
-

একে একে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ছে। গত ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচন যে আসলে ২৯ তারিখ দিবাগত রাতেই হয়ে গিয়েছিল, সেটি এখন আর কারো কাছে গোপন নেই। পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সুবাদে এটা সম্পন্ন হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, পুলিশের বড় কর্তা এবং সরকারপ্রধানসহ সবাই একযোগে ওই নির্বাচন নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছিলেন। তাদের সবার ছিল এক রা। ‘চমৎকার নির্বাচন হয়েছে। এমন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন স্মরণকালে আর কখনো হয়নি।’ তা নিয়ে ওই অংশীদের যেমন মুখ ব্যাদান করা হাসি দেখেছি, তেমনি টেলিভিশন টকশোগুলোতে মগজ-বেচা ‘বুদ্ধিজীবীদে’র এহেন নির্বাচনকে যৌক্তিকতা দেয়ার তুমুল কোশেশ দেখেছি, এখনো দেখি। বলতে শুনি, নির্বাচন তো হয়েই গেছে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে ‘নির্বাচিত’ সংসদ সদস্যরা শপথও নিয়েছেন। অধিবেশনও শুরু হয়ে গেছে। এখন আর করার কী আছে? এটা তো সবাইকে মেনে নিতেই হবে। একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজে যখন এমন পচন ধরে, তখন সে সমাজকে উদ্ধার করা দুরূহ।
নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দল প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। তারা বলতে থাকেন যে, নির্বাচনের আগের রাতেই পুলিশ ও প্রশাসন মিলে এবং নির্বাচন কমিশনের আনুকূল্যে আগের রাতেই সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভরে রাখা হয়। যেখানে সেটা ‘কাম্য পর্যায়ে’ করা যায়নি, সেটি করা হয়েছে পরদিনও, ভোট গ্রহণ বন্ধ রেখে। নির্বাচনে সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনী কর্মকর্তারা কখনো চায়ের বিরতি দিয়ে দরজা বন্ধ করে সিল মেরেছেন, কখনো লাঞ্চের বিরতি দিয়ে সিল মেরেছেন। সিল মেরেছেন বলার চেয়ে বলা ভালো, সিল মারতে বাধ্য হয়েছেন। আবার সরকারি দলের কিছু কর্মী বুথে অকারণে দাঁড়িয়ে থেকে প্রকৃত ভোটারদের ভোটদানে বাধা দিয়েছেন। ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ছিল প্রচুর। আবার সরকারি দলের ক্যাডাররা বুথের ভেতরে ভোটারের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে ব্যালট। নৌকায় সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছে। কেউ অন্য কোনো মার্কায় সিল দিলে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা মাস্তানেরা সে ব্যালট ফেলতে দেয়নি বাক্সে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বরত পুলিশের সহযোগিতাও পাওয়া যায়নি। পুলিশ হয় সে স্থান থেকে সরে গেছেন, নইলে দেখিয়ে ভোট দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন নামের ঠুঁটো জগন্নাথ প্রতিষ্ঠান কুম্ভকর্ণের ঘুম দিয়েছে।
এই অপকাণ্ডের পেছনে পুলিশের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বড়। পুলিশের কর্তা ব্যক্তিরা বক্তৃতা দিয়ে বলেছেন যে, নির্বাচন সফল করতে তাদের সদস্যরা বিনিদ্র রজনী যাপন করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। শুধু এটা করেই ক্ষান্ত থাকেননি। তিনি বলেছেন, সামনের নির্বাচনগুলোও যাতে পুলিশ একই প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করে, তার ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন নিয়ে পুলিশের মধ্যে উৎসবের ধুম পড়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যে থানায় থানায় গরু জবাই করে উৎসবের আয়োজন করা হয়। বাহারি খানাপিনা আর গান-বাজনায় মুখর হয়ে ওঠে থানাগুলো। তাদের ‘অক্লান্ত পরিশ্রম’ শেষে কিছুটা ভূরিভোজের আয়োজন নাকি ছিল সেটি। নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। তাতে ছিল ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি, কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার ঐক্য প্রক্রিয়া। তারাই ছিলেন প্রধান বিরোধী দলে। ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আর বাম দলগুলো গঠন করেছিল বাম গণতান্ত্রিক জোট। তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন দেখিয়েছে, ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল এ নির্বাচনে। তার আশ্চর্য ফলও ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়Ñ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে জয়ী হয়েছে। অর্থাৎ ৯৭ শতাংশ আসন তারাই পেয়েছে। এই মহা কারচুপি-জালিয়াতির নির্বাচন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলে বসলেন, ‘আওয়ামী লীগের উন্নয়নের জোয়ারের পক্ষে জনগণ এই সমর্থন দিয়েছে।’ অথচ তার ছেলে নির্বাচনের আগে জরিপ পরিচালনা করে বলেছিলেন, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬০ থেকে ২২০টি আসন পাবে। ফলে এই নির্বাচন নিয়ে দেশে তো বটেই, সারা বিশ্বে ছি ছি পড়ে গেছে। অথচ সরকারের ধামাধরারা পুলকিত হাসি হেসেছেন। তবে স্তম্ভিত হয়ে গেছে জনগণ।
নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাদের কর্মী-সমর্থকেরা যেন কেন্দ্র পাহারা দেয়। কিন্তু পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল যে, কেন্দ্র পাহারা দেয়া তো দূরের কথা, কেন্দ্রের ধারে কাছেও কাউকে আসতে দেয়া হয়নি। হাজারে হাজারে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের অন্তত দেড় ডজন প্রার্থীর ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে। তাদের রক্তাক্ত ছবি প্রকাশিত হয়েছে মিডিয়ায়। তবুও নির্বাচন কমিশন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কিন্তু টেলিভিশনে আওয়ামী পণ্ডিতেরা শতমুখে বলেছেন, বিএনপির আসলে কোনো মুরোদ নেই। তারা নির্বাচনকে গুরুত্ব সহকারে নেয়নি। কোনো পোস্টার লাগায়নি। তারা ভোটারের কাছে পর্যন্ত যায়নি। কিন্তু দেশে তখন যে ত্রাসের পরিবেশ ছিল, তাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা তো ঘর থেকেই বের হতে পারছিলেন না। শুধু তাই নয়, গ্রেফতার আতঙ্কে ঘরেও থাকতে পারছিলেন না।
নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে একমাত্র মাহবুব তালুকদার বারবার বলছিলেন, আপনারা নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে দেখুন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, কি হয়নি। আর সবাই চুপ করেই ছিলেন। ভয়ে? নাকি গড্ডলিকা প্রবাহে?
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আগের রাতে অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে যে, পুলিশ ও প্রশাসন মিলে সিল মেরে ব্যালটবাক্স ভরাট করে রেখেছিল, সে কথা নির্বাচন কমিশনের সবাই জানতেন। কিন্তু সরকারের বশংবদ মনোভাবের কারণে তারা এর প্রতিবাদ করতে পারেননি। এই কমিশনের সদস্যরা যদি সৎ, দৃঢ়চেতা ও বিবেকবান হতেন, তাহলে তারা গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই স্থগিত করে দেখিয়ে দিতে পারতেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের মতোই তারা শক্ত মেরুদণ্ডের লোক। কিন্তু দলবাজির কারণে তারা তা পারেননি। কিন্তু সত্য চাপা থাকে না। কমিশনার মাহবুব তালুকদারের পর কমিশনার কবিতা খানম আগের রাতে ব্যালটবাক্স ভরে রাখার কথা উল্লেখ করেছেন। তারপর উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তিনি ৬ মার্চ সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটবাক্সে ব্যালট ভরে দেয়া কিংবা ভোটের দিন ও ভোটের পর ভোট গণনার সময় কোনো রকম অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না।’ এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, সর্বোপরি একটি আইনানুগ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। যেহেতু আপনাদের মাধ্যমেই আমাদের নির্বাচন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়, সেহেতু কোনো কারণে যদি এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তার সব দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপরই পড়ে।’ কমিশনার চৌধুরী বলেন, ‘একই সাথে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যদি নির্বাহী বিভাগের সহযোগিতা চেয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগ সহযোগিতা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটা সংবিধানেই বলা আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ আইনানুগ নির্বাচন করতে চায়। নির্বাচনে কোনো রকম শৈথিল্য বা পক্ষপাতিত্ব একদমই মেনে নেয়া হবে না।’ অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, শাহাদাত সাহেব। কিন্তু ‘বড় জানতে ইচ্ছা করে’, ‘এত দিন কোথায় ছিলেন?’
এরপর দৃশ্যপটে এসেছেন খোদ সিইসি নুরুল হুদা। তিনিও বলেছেন, আগের রাতের ভোটের কথা। গত শুক্রবার তিনি বলেছেন, ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা নিয়ে অভিযোগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও উঠেছে। এর আগেও একাধিক সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমন ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। এসব বিতর্ক এড়াতে কমিশন ইভিএম মেশিন ব্যবহারের কথা ভাবছে।’ হুদা সাহেব বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি বন্ধ করতে ইভিএম ব্যবহার শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে একটি অনিয়ম প্রবেশ করলে সেটাকে প্রতিহত করতে আর একটি আইন করতে হয়। তাই আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার সুযোগ রোধে ইভিএম চালু করা হবে। এরপর আসল কথা বলেন নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, রাতে ব্যালটবাক্স ভর্তি করার জন্য কারা দায়ী, সেটা বলার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের নেই। কারা সে জন্য দায়ী, কাদের কী করা প্রয়োজন, সেই শিক্ষা দেয়ার ক্ষমতা-যোগ্যতা কমিশনের নেই।’ প্রশ্ন হচ্ছে, কেন নেই? সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে অঢেল ক্ষমতা দিয়েছে। তা হলে তাদের এসব রোধ করার ক্ষমতা-যোগ্যতা নেই কেন? তিনি আরো বলেছেন, কী কারণে এগুলো হচ্ছে, তা বলারও কোনো সুযোগ নেই। সবাই মিলে বিষয়টি দেখতে হবে। তা হলেই অবস্থার উন্নতি হবে।’
কেন সুযোগ নেই? কেন প্রশ্ন করা যাবে না যে, কারা আপস করলেন? কারা আগের রাতে সিল মারল? আর ইসি কেন তা দেখেও চুপচাপ বসে থাকল? কেন? কেন? এখন ভালো ভালো কথা বলছেন, ইতোমধ্যে জাতির চরম সর্বনাশ হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনাররা জোর গলায় বলছেন, কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যখন উপজেলা নির্বাচন বর্জন করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ছাড়া বাকি সবাই; সব দল এর মধ্যেÑ ঐক্যফ্রন্ট আছে, বাম জোট আছে, ইসলামি জোট-সবাই। এখন নির্বাচন কমিশন ভালো সাজার চেষ্টা করছে। কিন্তু একদিন না একদিন, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কথা জনগণকে ভুলিয়ে দিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত উপজেলা ও সিটি নির্বাচনের আয়োজন করেছে। নির্বাচন কমিশন হারিয়েছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা। কেউ তাদের বিশ্বাস করে না। মনে করে, তারা সরকারের নিশানবরদার। আর সে কারণেই এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচন বর্জন করেছিল মহাজোট ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই। নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। তারপরও ‘৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে’ বলে দেখিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বাস্তবে পাঁচ শতাংশ ভোট পড়েছে কি না, সন্দেহ। তবে এবার সিটি নির্বাচনে আগের রাতে ব্যালটবাক্স ভরে রাখার দরকার হয়নি। ভোটারের অনুপস্থিতিতে সিল মেরে দিনের বেলায়ই কোনো কোনো কেন্দ্রে বাক্স ভরাট করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কম ভোট পড়া সম্পর্ক এই বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, ‘তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ডেকে আনতে পারবেন না। সিটি নির্বাচনে যা ভোট পড়েছে, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট।’ এই দায়িত্ববোধহীন ব্যক্তি চিরজীবী হোন।
সরকারের লেজুড়বৃত্তির কারণে নির্বাচন কমিশন এখন এক হাস্যকর প্রতিষ্ঠান। চলছে উপজেলা নির্বাচন। চলছে ডাকসু নির্বাচন। উপজেলা নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট বা বাম দল অংশ নিচ্ছে না। জনাব হুদার জন্য ভালো কথা বলার এটাই সময়। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৯৬ আসনে ‘জয়ী’ হয়ে গেছেন। সিইসি এমনটাই চেয়েছিলেন?
কিন্তু তারা সবাই যখন জানেন, ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে আগের রাতেই ব্যালটবাক্স ভরে রাখা হয়েছিল, তা হলে সেই অবৈধ নির্বাচন বাতিল করে দিচ্ছেন না কেন? হ
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
[email protected]

 


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al