১৫ নভেম্বর ২০১৮

স্ম র ণ : কবি আজিজুর রহমান

-

‘কারো মনে তুমি দিও না আঘাত/সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে’, ‘পলাশ ঢাকা কোকিল ডাকা/আমার এ দেশ ভাইরে’ প্রভৃতি জনপ্রিয়, অর্থবহ ও সুমধুর সঙ্গীতের যিনি রচয়িতা, সেই বিখ্যাত কবি ও গীতিকার আজিজুর রহমানের আজ মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার হাটশ হরিপুরে আজিজুর রহমানের জন্ম। সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারের সন্তান হলেও কৈশোরে পিতৃবিয়োগের ফলে তার উচ্চশিক্ষা ব্যাহত হয়। এ অবস্থার মধ্যে তিনি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। স্কুলে পড়ার সময়ই আজিজুর রহমান গান রচনা করতে শুরু করেছিলেন। একই সাথে সাহিত্যচর্চা ও নাট্যাভিনয় চালিয়ে যেতে থাকেন। অনেক গান লিখেছেন নাটকের জন্যও। একপর্যায়ে যাত্রা দল গঠন করে অভিনয় করেছেন। তা ছাড়া খেলাধুলা, সভা-সমিতি-ক্লাবের কাজেও সম্পৃক্ত ছিলেন। কবি আজিজুর রহমান বিশেষভাবে ১৯৩৮ সাল থেকে সাহিত্যসাধনায় মনোনিবেশ করেন। নিয়মিত লিখতেন সেকালের বিখ্যাত সাময়িকী মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর মোহাম্মদী, সজনীকান্ত দাশের শনিবারের চিঠি, মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনের সওগাত, হাবিবুল্লাহ বাহারের বুলবুল, কবি নজরুল সম্পাদিত নবযুগ এবং সেই সাথে আনন্দবাজার, ভারতবর্ষ, বাঙালি, অরণী, নবশক্তি প্রভৃতি পত্রপত্রিকায়ও।
১৯৫০ সালে তদানীন্তন রেডিও পাকিস্তান ঢাকায় নিজস্ব শিল্পী হিসেবে যোগদান করেন। এ সময় বেতারশিল্পীদের জন্য লিখে গেছেন বহু গান। বিশেষ করে ইসলামি ও দেশাত্মবোধক গান রচনায় ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ইসলামি বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও চেতনার পাশাপাশি বাংলার শ্যামল প্রকৃতি তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন অনবদ্য ভঙ্গিতে। এমনকি লোকসঙ্গীত সম্রাট আব্বাস উদ্দীন আহমদও তার লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। যেমন ‘কারো মনে তুমি দিও না আঘাত’ গানটি। আজিজুর রহমান লিখেছেন দুই সহস্রাধিক গান।
১৯৬০ সালে কবি আজিজুর রহমান কিশোরদের মাসিক আলাপনীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ছিলেন দৈনিক পয়গামের সাহিত্য সম্পাদক। শিশু-কিশোরের উপযোগী যে বইগুলো তিনি লিখে গেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাইনোসরের রাজ্যে (১৯৬২), জীবজন্তুর কথা (১৯৬২), ছুটির দিনে (১৯৬৩), এই দেশ এই মাটি (১৯৭০) ইত্যাদি। তার রচিত গানের সঙ্কলন উপলক্ষের গান (১৯৭০)। শেষ জীবনে কবি আজিজুর রহমান রোগ-ব্যাধিতে ও অর্থকষ্টে ভুগেছিলেন। ১৯৭৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তিনি ইন্তেকাল করেন। সঙ্গীত ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে তাকে ভূষিত করা হয় একুশে পদকে (মরণোত্তর)। হ

 


আরো সংবাদ