উপসম্পাদকীয়

নেতিবাচক ধারায় বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ

১৫ বছরে মুখবুজে সহ্য করা মানুষগুলো সুযোগ পেয়ে অনেক বেশি কথা বলছে, সমালোচনা করছে, দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে। এমনকি ক্ষমতাপাগল রাজনৈতিক দলগুলো সরকারকে সহযোগিতা না করে; বরং নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে। ফলে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে দেরি হচ্ছে যার প্রভাবও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে পড়ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে; ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়ছে, রফতানি আয় বাড়ছে, রাজস্ব আয় বাড়ছে। সাথে দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। সুতরাং আশা করা যায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যমী হবেন; ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি

দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) নেতিবাচক ধারায়। পরিস্থিতি দিনে দিনে অবনতি হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নিট নতুন বিনিয়োগ এসেছে মাত্র সাত কোটি ৬৮ লাখ ডলার। ফলে নতুন ও পুনর্বিনিয়োগ মিলে নিট হিসাব দাঁড়ায় ১০ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ৭১ শতাংশ কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক প্রান্তিকে এত কম এফডিআই গত ১১ বছরে কখনো আসেনি।

বিদেশী বিনিয়োগের এই নেতিবাচক ধারা হঠাৎ করেই শুরু হয়নি; বরং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ অর্থবছরে (২০২৩-২৪) দেশে ১৪৭ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছে। অথচ ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশী বিনিয়োগ এসেছিল ১৬১ কোটি ডলারের যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। নতুন বিনিয়োগ আসার হার দুই অর্থবছর ধরেই কমছে। সামগ্রিকভাবে এফডিআই কমে যাওয়ার নতুন বিনিয়োগ ও পুনর্বিনিয়োগ কমেছে। তার সাথে যোগ হয়েছে গত জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রভাব। ফলে অর্থনৈতিক নানা সংস্কারের পরও দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বছর ব্যবধানে ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগে ভাটা পড়লেও এ সময়ে বেপজার অধীনে রফতানি আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

এফডিএই কমার কারণ

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশে তৈরি হয় নতুন পরিস্থিতি। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা চলছে। নানা দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন বারবারই পথে নেমেছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগের কোনো পরিবেশ নেই। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে না গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুতরাং এফডিআই কমে যাওয়া স্বাভাবিক। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশের প্রবৃদ্ধির হারও অনেক কমে গেছে। এমনিতেই দেশের ব্যবসায়িক অস্বাভাবিক পরিবেশে তেমন একটা এফডিআই পাওয়া যাচ্ছিল না, তার মধ্যে নতুন বিনিয়োগ আরো কম।

সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফলে বলা হয়, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়-বাণিজ্যে মূল চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি। চলতি বছরও প্রায় ১৭ শতাংশ ব্যবসায়ী দুর্নীতিকে ব্যবসায় করার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দুর্নীতিসহ অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অদক্ষ আমলাতন্ত্র, উচ্চ করহারসহ ব্যবসায়-বাণিজ্যে মোট ১৭টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন ব্যবসায়ীরা।

বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে যখন মরিয়া বাংলাদেশ তখন পানি সঙ্কটের কারণে বেপজার মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে সাড়ে ১৩ কোটি ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া জ্বালানি সঙ্কটকে বিনিয়োগের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। ইপিজেডে বিনিয়োগ লাভজনক বলে যুক্তি তুলে ধরে জানানো হয়, পটুয়াখালী ইপিজেডে তাদেরই বিনিয়োগ করতে দেয়া হবে, যাদের গ্যাস দরকার হবে না। গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটের ধারাবাহিকতার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তা ছাড়া বিনিয়োগের বাধার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকের উচ্চ সুদহার।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি জাভেদ আখতার বলেন, বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীরা সরকারি নীতি, অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও সার্বিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেন। এ ছাড়াও কয়েক বছর ধরে দেশে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা চলছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস। সে সময় দেশে অস্থিতিশীলতা থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো কমে যায়। তারা বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষার পথ বেছে নেন। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী এম মাসরুর রিয়াজের মতে, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাবিনিময় হার অস্থিতিশীল হওয়ায় দেশের চলমান সামষ্টিক অর্থনীতি সঙ্কটে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশী বিনিয়োগ কমে যাওয়া বিস্ময়কর নয়। বিনিয়োগকারীরা অন্তর্বর্তী সরকার থেকে নির্বাচিত সরকারে উত্তরণ পর্যবেক্ষণ করছেন।

এফআইসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রূপালী চৌধুরীর মতে, এ ধরনের পালাবদল প্রায়ই নীতিগত অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী ঝুঁকি নিতে রাজি নন। বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কৌশল অনুসরণ করছেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান এমনকি মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যেও সমন্বয়ের অভাবের কথা উল্লেখ করেন। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা ও সুস্পষ্ট নীতি নির্দেশনার আহ্বান জানিয়েছেন। এক কথায় পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত তারা বিনিয়োগের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন। বলা যায়, ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি গ্রহণ করেছেন। ঘন ঘন নীতির পরিবর্তন বিদেশী বিনিয়োগ কমার অন্যতম কারণ।

আগে এফডিআই বাড়িয়ে দেখানোর প্রভাব

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, বিদেশী বিনিয়োগ যা কমেছে তা প্রকৃত হিসাবে কমে যাওয়া নয়; বরং হিসাবেরও গোলমাল রয়েছে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের তথ্য ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে বলেছিল। প্রকৃত অর্থে, ওই চার অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে বিদেশী বিনিয়োগ এসেছিল ৫ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক তা ১১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার দেখিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ নির্দেশিকা অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯-২০ অর্থবছরের তথ্য সংশোধন করায় তা সামনে আসে। আগে যেমন রফতানি ও রিজার্ভের তথ্য বাড়িয়ে বলা হয়েছিল। সঠিক নীতিগত ব্যবস্থা নিতে সঠিক তথ্য জরুরি। রাজনৈতিক কারণে বিদেশী বিনিয়োগের তথ্য হয়তো বাড়িয়ে বলায় প্রকৃত অর্থে দেশেরই ক্ষতি হয়েছে। কারণ মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভুলনীতি নিতে হয় ফলে আরো ক্ষতি হয়। বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রফতানি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও কর্মসংস্থান হয়নি। তাই তথ্য নিয়ে সংশয় ছিল। ।

নতুন বিনিয়োগের ওয়েট অ্যান্ড সি করছে উদ্যোক্তারা

মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাবে চাহিদা কমে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে জনসাধারণের ভোগ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হলেও তাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এসে বরং মূলধনপ্রবাহ কমে শ্লথ হয়ে পড়েছে বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ। উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ার সাথে তাদের উদ্বেগও বাড়ছে। ফলে উৎপাদন ও বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি সম্প্রসারিত হচ্ছে না।

দেশের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। সরকারের সাত-আট লাখ কোটি টাকার বাজেটের পাঁচ-ছয় লাখ কোটি টাকা শুধু প্রশাসনিক খরচ। ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও কম এটি সত্য। আয় বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তৈরি হবে, আয়কর বাড়বে, আরো ১০টা কারখানা হবে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতিকাঠামো ব্যবসায়বান্ধব হওয়া প্রয়োজন। বিনিয়োগ কমছে যে সব খাতে তার মধ্যে অন্যতম মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের আমদানির এলসি খোলায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ। একইভাবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। দেশে বেকারের সংখ্যা এখন ২৬ লাখ ৬০ হাজার যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক লাখ ৭০ হাজার জন বেশি। দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৭.৬৬ শতাংশ, যা গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে; ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। এক দিকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকগুলোর ওপর, আরেক দিক দিয়ে যদি কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করার ফলে নতুন বিনিয়োগে প্রভাব পড়ছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বিষয় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারও ভাবছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে অর্থনীতিসংক্রান্ত টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে ৩১টি সুপারিশ প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রস্তাব হলো ১০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ পণ্য রফতানির সক্ষমতা রয়েছে এমন এক হাজার ৫০০ কোম্পানিকে বিশেষ নীতির আওতায় আনা, এসএমই খাতকে সমর্থন করতে ‘ঢাকা হাট’ প্রকল্প স্থাপন, আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য বিদেশী বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধ করা এবং বিভিন্ন শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ ইত্যাদি। তথ্যমতে, প্রতিবেদনটি সমাপ্তি পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টার কাছে পাঠানোর অপেক্ষায়। আশা করা যায়, বিশেষজ্ঞ টিমের এই পরামর্শ পেলে এবং সে মাফিক কার্যকরী ব্যবস্থা নিলে দেশের অর্থব্যবস্থা ঘুরে দাঁড়াবে, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ স্বাভাবিক হবে এবং ফলে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ নেতিবাচক ধারা থেকে ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসবে; তবে এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে আরো সময় দিতে হবে।

পরিশেষে বলতে হয়, পতিত সরকার ১৫ বছরে লাখ লাখ কোটি টাকা দুর্নীতি, বিদেশে পাচার, ব্যাংক, শেয়ার মার্কেট ধ্বংস করে ফেলেছে। ১৫ বছরের ধ্বংসপ্রাপ্ত এই অর্থনীতির আবর্জনা পরিষ্কার করে এবং নীতির সংস্কার করে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে অন্তত ১৫ মাস সময় তো দিতেই হবে। এই সময় না দিয়ে পতিত সরকারের দোসররা বিভিন্নভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করছে। ১৫ বছরে মুখবুজে সহ্য করা মানুষগুলো সুযোগ পেয়ে অনেক বেশি কথা বলছে, সমালোচনা করছে, দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে। এমনকি ক্ষমতাপাগল রাজনৈতিক দলগুলো সরকারকে সহযোগিতা না করে; বরং নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে। ফলে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে দেরি হচ্ছে যার প্রভাবও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে পড়ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে; ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়ছে, রফতানি আয় বাড়ছে, রাজস্ব আয় বাড়ছে। সাথে দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। সুতরাং আশা করা যায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যমী হবেন; ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি ।

লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট

ইমেইল : [email protected]