১৪ নভেম্বর ২০১৯

ব্লাস্ট প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন

বাকৃবি ভিসিড. লুৎফুল হাসান (ডানে) - ছবি : নয়া দিগন্ত

বোরো মৌসুমে চাষ উপযোগী ব্লাস্ট প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল আগাম ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান। নতুন জাতের এ ধানের নামকরণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বাউ ধান-৩ (ইঅট জরপব-৩)। ধানের এ জাতটি দেশে জনপ্রি ব্রি ধান-২৮ এর বিকল্প হতে পারে বলে দাবি করেছেন গবেষক ড. লুৎফুল হাসান। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ডে নতুন ধানের জাত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। ধানের এ জাতটি ব্লাস্ট ও লিফব্লাইট প্রতিরোধী বলে জানা গেছে।

নতুন উদ্ভাবিত জাতটি সম্পর্কে ড. লুৎফুল হাসান বলেন, বর্তমানে ধানের নেকব্লাস্ট আক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের ধানের উৎপাদন ঠিক রাখতে হলে বিকল্প জাতের দরকার হবে। এই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) থেকে একটি ‘কৌলিক সারি’ এনে এসিআইয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গবেষণা করা হয়। ব্লাস্ট ও লিফ ব্লাইট প্রতিরোধী এবং ফলন ব্রি ধান-২৮ থেকে বেশি হওয়ায় বাউ ধান-৩ নামে অবমুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, এই জাতটি আগাম আসে, ফলন বেশি এবং লবাণাক্ত এলাকা ছাড়া হাওড়াঞ্চলসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলে চাষ করা যাবে।

তিনি আরো বলেন, এই জাতের ধানে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের সব বৈশিষ্ট্য আছে। নতুন এ জাতের হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৭-৮ মেট্রিক টন, যা ব্রি ধান-২৮ এর চেয়ে ১-২ মেট্রিক টন বেশি। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ ও খেতে সুস্বাদু। পাতার রঙ সবুজ, খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা হয়। গাছের কাণ্ড শক্ত ও মজবুত হওয়ায় গাছ ঢলে পড়ে না। এ জাতের ধান পাকা অবস্থায় শিষ হতে সহজে ঝরে পড়ে না বলে অপচয় কম হয়।


আরো সংবাদ