১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জিসিসি সম্মেলনে কাতারকে আমন্ত্রণ সৌদি বাদশাহর

সৌদি বাদশা ও কাতারের আমির - ফাইল ছবি

উপসাগরীয় সহায়তা কাউন্সিলের(জিসিসি) আসন্ন সম্মেলনের জন্য কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে ছানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। দুই বছর ধরে চলতে থাকা উপসাগরীয় বিরোধী নিরসনে এই উদ্যোগটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর দিয়েছে আল জাজিরা অনলাইন।

আগামী ৩০ মে পবিত্র নগরী মক্কায় জিসিসির জরুরী সম্মেলন আহ্বান করেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান। আর এই সম্মেলনের জন্যই কাতারের আমিরকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে বলে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ইরানের সাথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপাটে জিসিসির সম্মেলন ডেকেছে সৌদি আরব। পারস্য উপসাগরের পশ্চিম তীরের আরব দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত জোটের নাম জিসিসি।

রোববার দোহায় কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ বিন আবদুল রহমান আলে ছানির সাথে সাক্ষাৎ করে জিসিসির মহাসচিব আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি এই আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।

২০১৭ সালের জুনে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ করে। এরপর তাদের সাথে যোগ দেয় মিসর, সেনেগাল, মালদ্বীপসহ আরো কিছু মুসলিম প্রধান দেশ। সমুদ্র, সড়ক ও আকাশ পথেও সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধ করা হয় বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক। ফলে ভয়াবহ সঙ্কটে পড়ে কাতারের অর্থনীতি। তবে তুরস্ক, ইরানসহ বেশ কিছু মুসলিম দেশের সহায়তায় ঘুরে দাড়ায় কাতার। সঙ্কট মোকাবেলা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে থাকে সহযোগিতা।

কাতার ‘সন্ত্রাসবাদে’ সহযোগিতা করছে এমন অভিযোগে সৌদি আরবের নেতৃত্বে দেশগুলো এই অবরোধ আরোপ করে। মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো সংগঠনগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে ও আল জাজিরা টিভি চ্যানেল বন্ধ করতে চাপ দেয়া হয় কাতারকে।

সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসের শুরুতে আরব লিগ ও জিসিসির সম্মেলন ডাকেন বাদশাহ সালমান। ‘আঞ্চলিক আগ্রাসন’ প্রতিরোধের বিষয়ে আলোচনা করতে ডাকা হয় সম্মেলন দুটি। আর এই সম্মেলনে দাওয়াত করা হলে কাতারকে। ফলে দীর্ঘদিন পর কাতারের সাথে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার একটি পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


আরো সংবাদ