২২ নভেম্বর ২০১৯

বৃষ্টির সাথে ফের বাড়তে পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো আক্রান্ত ৮৬৫ জন

-

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বেড়ে যেতে পারে বৃষ্টিপাত। ফলে সাময়িকভাবে হ্রাস পাওয়া ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আবারো বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে এবার আবহাওয়ার ব্যতিক্রমধর্মী আচরণ লক্ষ করা গেছে। অন্যান্য বছর ভাদ্র মাসে বর্ষার আমেজ থাকলেও এবার শ্রাবণের শেষ দিক এবং ভাদ্র মাসের অর্ধেক সময়টা কেটেছে প্রায় বৃষ্টিহীন। গত দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছিল তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাসে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ২০ দিন বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুসারে গেল আগস্টে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ ছাড়া সারা দেশে ২৩.২ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধের পর চলতি মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ মাসে প্রায় সব বিভাগেই ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে কমপক্ষে দু’টি নি¤œচাপ। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ) বন্যা হতে পারে। হতে পারে থেমে থেমে বৃষ্টি। ফলে আবারো বেড়ে যেতে পারে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার উপদ্রব।
এডিস মশা বৃদ্ধির জন্য যে আবহাওয়া দরকার, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও তা বিরাজ করতে পারে। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফ উল্লা মুন্সী জানিয়েছেন, এডিস মশা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা এ সময়েও থাকতে পারে। এডিস মশা বৃদ্ধির জন্য ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং বাতাসে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ আর্দ্রতার প্রয়োজন হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ঠিক এরকম আবহাওয়াই থাকে বাংলাদেশে। এ মাসে নি¤œচাপের সৃষ্টি হলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে ডেঙ্গু জীবাণু বহনকারী মশাও বাড়তে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়বে বৃষ্টির পরিমাণ।
এ দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী গতকাল সোমবার সারা দেশে ৮৬৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৯৬ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে সম্মিলিতভাবে ভর্তি হয়েছে ৪৬৯ জন। দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকালও চিকিৎসাধীন ছিলেন তিন হাজার ৯৩১ জন।
গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ জন। মিটফোর্ড হাসপাতালে ৫৪ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৯ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৩ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ জন, পুলিশ হাসপাতালে পাঁচজন, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২৯ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ছয়জন, কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে একজন, পঙ্গু হাসপাতালে তিনজন। গতকাল ঢাকায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ২৮৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি আছেন ১০৯ জন। এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগে ১০৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭২ জন, খুলনা বিভাগে ১৪৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪২ জন, রংপুর বিভাগে ১৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৬১ জন, সিলেট বিভাগে ৯ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অন্য দিকে রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ইবনে সিনা হাসপাতালে চারজন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয়জন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১০ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে সাতজন, বারডেম হাসপাতালে সাতজন, স্কয়ার হাসাপাতালে ৯ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে পাঁচজন, সিরাজুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চারজন, উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ৯ জন, সালাহউদ্দিন হাসপাতালে তিনজন, পপুলার হাসপাতালে তিনজন, এ্যাপোলো হাসপাতালে তিনজন, খিদমাহ হাসপাতালে দু’জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফরিদপুরে আক্রান্ত আরো ৩৯
ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, জেলায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ ব্যক্তি। আর গত ৪৮ ঘন্টায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৮৫ জন। এসব রোগী ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ নিয়ে গত ২০ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ১৯৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলো ফরিদপুরে। বর্তমানে জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৫০ জন ভর্তি রয়েছেন। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা: এনামুল হক জানান, রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৫০জন। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সরকারী হিসেবে শিশুসহ এ পর্যন্ত সাতজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে সিভিল সার্জন জানান।

 


আরো সংবাদ