মরক্কো থেকে গত সপ্তাহে কয়েক হাজার অনিয়মিত অভিবাসীর স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৭ জনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) স্পেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ৩০ জুলাই থেকে ভূমধ্যসাগরে স্থাপিত সীমান্ত প্রতিবন্ধক ঘুরে সাঁতরে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন বহু অভিবাসী। এ সময় অনেকেই সাগরে ডুবে মারা যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্পেন ও তার ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারদের মধ্যে কূটনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি হয়।
লাশ শনাক্তের দায়িত্বে থাকা স্পেনের একটি আইনি সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, সেউতার কর্তৃপক্ষ সাগর থেকে মোট ৭৯টি লাশ উদ্ধার করেছে। তবে এর মধ্যে দু’টি লাশ গত ২৯ জুলাই এবং ৩০ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে উদ্ধার করা হয়েছিল। অর্থাৎ অভিবাসীদের ঢল শুরুর আগে। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ৭৭টি লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তাদের মধ্যে দু’জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা আগে থেকেই স্পেনে নিবন্ধিত ছিলেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বাকি লাশগুলো শনাক্ত করতে আঙুলের ছাপের তথ্য সম্ভাব্য শনাক্তকরণের জন্য মরক্কোতে পাঠাতে হবে।’
এর আগে মঙ্গলবারই সেউতায় স্পেন সরকারের প্রতিনিধি কার্যালয় মৃতের সংখ্যা ৭২ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ জনের কথা জানিয়েছিল।
মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার জানায়, সীমান্তের মরক্কো অংশে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিরা সবাই পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
স্পেনের দাবি, সেউতায় পৌঁছানো ৭২ হাজার অভিবাসীর মধ্যে ৭০ হাজার ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
সেউতায় অবস্থানরত বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিনিধিরা দেখেছেন, যারা এখনো সেখানে রয়েছেন, তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকছেন। আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধারও তীব্র সঙ্কটে রয়েছেন তারা।
সূত্র: বাসস



