পূর্ব চীনের একটি বন্দরে মেরামতের জন্য নোঙর করা বিদেশি পতাকাবাহী এক কার্গো জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। জাহাজে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ১৭ জনকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও পাঁচজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিবিসি, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) সূত্রে এই মর্মান্তিক তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুপুরের দিকে জাহাজের ভেতর থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়, যা নিমেষেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকরা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজ ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধারের ওপর জোর দিয়ে সতর্ক করেছেন, যেন আগুন থেকে নতুন করে কোনো দ্বিতীয় দফা দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় না ঘটে।
স্থানীয় সময় দুপুর ১১টা ১৫ মিনিটে (জিএমটি ০৩:১৫) দেশটির ছিংদাও শহরের এক শিপইয়ার্ডে জাহাজটিতে হঠাৎ আগুন লাগে। দমকল বাহিনীর টানা প্রচেষ্টায় প্রায় তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'মেরিন ট্রাফিক'-এর তথ্য ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯০ মিটার দীর্ঘ এই বিশাল জাহাজের নাম 'ওশান মেলোডি'। লাইবেরিয়ার পাতাকাবাহী এই কার্গো জাহাজটি গত ৩১ আগস্ট মেরামতের কাজের জন্য ছিংদাও বন্দরে পৌঁছেছিল। কিন্তু কে জানত, সাধারণ একটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ মুহূর্তেই এমন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে!
চীনে শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে উদ্বেগ এটাই প্রথম নয়। এর মাত্র মাসখানেক আগেই দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের একটি শিপইয়ার্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটেছিল। সেই দুর্ঘটনায় এক উদ্ধারকারী কর্মী প্রাণ হারান এবং আহত হন অন্তত ১২ জন।



