সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে দেশটির ওপর আরোপ করা সব নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস |সংগৃহীত

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে দেশটির ওপর আরোপ করা সব নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) সিরিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যেসব পদক্ষেপের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাকে আমি স্বাগত জানাই। তবে সব নিষেধাজ্ঞাই অবিলম্বে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।’

সিরিয়ার নতুন সরকার ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ক্ষমতায় রয়েছে। তারা দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগুলোকে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ইতোমধ্যে সিরিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো সিরিয়ার ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াকে পুনর্গঠনে প্রায় ২১৬ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।

গুতেরেস বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতিসঙ্ঘ সিরিয়ার জনগণের পাশে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমার জোরালো আহ্বান হলো, সিরিয়ার জনগণ ও সরকারকে সহায়তা করতে কোনো প্রচেষ্টা যেন বাদ দেয়া না হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিরিয়া এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।’

২০০৯ সালে তৎকালীন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি-মুনের সফরের পর গুতেরেসই প্রথম জাতিসঙ্ঘ প্রধান, যিনি সিরিয়া সফর করলেন।

এর দুই বছর পর ২০১১ সালে শুরু হয় সিরিয়ার যুদ্ধ, যাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।

গুতেরেস বলেন, সিরিয়ার জনগণ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে বিনিয়োগ জরুরি। দেশটির জরুরি সেবাগুলো পুনরুদ্ধার, অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানুষের জীবিকা আবার ফিরিয়ে আনতে সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ‘শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের সাথে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতেও সিরিয়ার আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।’

সূত্র: বাসস