ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় মদদ দিচ্ছে ইসরাইল

বসতি স্থাপনকারীরা এখন আরো বেশি সংগঠিত। তারা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। এসব কর্মকাণ্ড ইসরাইলি সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। একই সাথে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী তাদের সুরক্ষা দিচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইসরাইলি বাহিনীর সহযোগিতায় পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইহুদী সেটেলাররা
ইসরাইলি বাহিনীর সহযোগিতায় পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইহুদী সেটেলাররা |সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার জন্য ইসরাইলি সরকার ও সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এসব হামলা সরাসরি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সামরিক সুরক্ষার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহিন বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত এবং সমন্বিতভাবে হামলা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বসতি স্থাপনকারীরা এখন আরো বেশি সংগঠিত। তারা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। এসব কর্মকাণ্ড ইসরাইলি সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। একই সাথে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী তাদের সুরক্ষা দিচ্ছে।’

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সীমিত সক্ষমতার বিষয়টিও স্বীকার করেন শাহিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে, আমরা ততটুকুই করছি। বাস্তবতা হলো, আমাদের ক্ষমতারও একটি সীমা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

শাহিনের ভাষ্য, ‘আমরা বিভিন্ন দেশের কাছে বিবৃতি পাঠাচ্ছি, চিঠি দিচ্ছি এবং সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি। অনেক দেশ এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। আমরা বিভিন্ন সরকারকে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে আমরা আরো কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চাই।’

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো এসব হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।