যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর জাতিসঙ্ঘে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে জাতিসঙ্ঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির ‘নগ্ন লঙ্ঘন’ বলে তীব্র প্রতিবাদ জানান

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতিসঙ্ঘ
জাতিসঙ্ঘ |সংগৃহীত

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে চালানো বড় ধরনের সামরিক হামলার পর জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি জানিয়েছে তেহরান। একই সাথে ওয়াশিংটনের এমন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংস্থাকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি আজ (৯ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে জাতিসঙ্ঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির ‘নগ্ন লঙ্ঘন’ বলে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এই হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর আব্বাস ও বুশেহর শহরে আটজন ইরানি সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। হামলার কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় চাবাহার শহরের একটি হাসপাতাল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইরানশাহর শহরে একজন নিহত হয়েছেন এবং বুশেহরসহ অন্যান্য এলাকাতেও হামলা হয়েছে। এমনকি জাস্ক বন্দর নগরী ও চোগাদাক শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

ইরানি রাষ্ট্রদূত চিঠিতে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসন পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় গত মাসে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) লঙ্ঘন করেছে। এর আগে পুরো ইরানে প্রায় ১০০ দিন ধরে চলা মার্কিন-ইসরাইল যৌথ হামলার পর ওই সমঝোতা হয়েছিল। ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে সেই প্রতিশ্রুতি অমান্য করে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বারবার শক্তি প্রয়োগ করছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তারা ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে আনাই তাদের লক্ষ্য।

এই আগ্রাসনের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, শত্রু ও তাদের মিত্রদের এর জন্য কঠোর শাস্তি পেতে হবে।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকবার তা লঙ্ঘন করেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিবারই এই আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিয়েছে। অতি সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রাথমিক প্রতিশোধ হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনের পোর্ট সালমান, মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের এলাকা এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি রয়েছে। একই সাথে মার্কিন বাহিনীর একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান।