শক্তির শিখরে থেকে চুক্তি সই করেছে ইরান : গালিবাফ

এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘ব্যর্থতার দলিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ |সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অবশেষে একটি শান্তি চুক্তিতে সই করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘ব্যর্থতার দলিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

তিনি বলেছেন, ইরান কোনো দুর্বলতা থেকে নয়, বরং যুদ্ধের মাঠে অর্জিত বিজয় আর নিজেদের শক্তির চরম শিখরে অবস্থান করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিয়েছে। শত্রু এবং মিত্রপক্ষ সবাই ইরানের এই বিজয়কে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।

বুধবার যুদ্ধ বন্ধের জন্য স্থায়ী চুক্তিতে যেতে প্রথম ধাপ হিসেবে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (ইসলামাবাদ এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

চুক্তি সইয়ের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ এই মন্তব্য করেন।

গালিবাফের মতে, যেকোনো যুদ্ধে বিজয়ের পর যদি সেটিকে আইনি ও রাজনৈতিক দলিলে রূপ দেয়া না যায়, তবে সেই বিজয়ের সুফল ঘরে তোলা যায় না।

এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর আগের অবস্থায় ফিরছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের এই শীর্ষ আলোচক।

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়।

গালিবাফ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী প্রথম ৬০ দিন বিনা ফিতে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে, তবে এই সময়সীমা পার হওয়ার পর সেখান দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলো থেকে ইরান অবশ্যই সেবামূলক ফি বা শুল্ক আদায় করবে।

জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে নৈশভোজের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এই শান্তি চুক্তিতে সই করেছেন এবং ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ইতোমধ্যে পেজেশকিয়ানের চুক্তিপত্র হাতে থাকা ছবি প্রকাশ করেছে।

চুক্তি সইয়ের ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্প পাশে বসা ম্যাক্রোঁর দিকে তাকিয়ে মন্তব্য করেন, এই কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামের এই ১৪ দফার চুক্তিতে লেবাননসহ সব অঞ্চলের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের কথা বলা হয়েছে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি