দক্ষিণ কোরিয়ায় শেয়ারবাজারের সূচকে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি

টানা এক সপ্তাহের বড় ধরনের দরপতনের পর শুক্রবার (৩১ জুলাই) লেনদেনের শুরুতেই দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার সূচক প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে যায়। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শেয়ারবাজার
শেয়ারবাজার |সংগৃহীত

টানা এক সপ্তাহের বড় ধরনের দরপতনের পর শুক্রবার (৩১ জুলাই) লেনদেনের শুরুতেই দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে শক্তিশালী উর্ধ্বগতি দেখা যায়। দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে যায়। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এসকে হাইনিক্সের এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির মূল কোম্পানি এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তাই-ওনের শেয়ার কেনার খবরকে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রথমবারের মতো প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের এসকে হাইনিক্সের শেয়ার কিনেছেন বলে নিশ্চিত হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে।

এদিকে জাপানের নিক্কেই সূচকও দিনের শুরুতে ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সপ্তাহজুড়ে সিউল শেয়ারবাজারে এসকে হাইনিক্স ও এআই চিপ খাতে তার প্রধান দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে।

দুই প্রতিষ্ঠানই সাম্প্রতিক প্রান্তিকে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফার দাবি করলেও বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সম্ভাব্য অতিমূল্যায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে।

দাইশিন সিকিউরিটিজের সেমিকন্ডাক্টর বিশ্লেষক রিউ হিউং-কিউন বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন মেমোরি চিপ দাম আর কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।

তবে চে তাই-ওনের শেয়ার কেনাকে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক বার্তা হিসেবে নিয়েছেন, যা এসকে হাইনিক্সের শেয়ার পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স—উভয় প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, আগামী কয়েক বছর তাদের উচ্চ ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) চিপের চাহিদা সরবরাহের চেয়ে বেশি থাকবে। ফলে ভবিষ্যতেও ভালো মুনাফার প্রত্যাশা করছে তারা।

বুধবার স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে যায়। অন্যদিকে, আগের দিনের ১৪ শতাংশ পতনের পর এসকে হাইনিক্সের শেয়ার আরো প্রায় ২০ শতাংশ কমে, ফলে গত মাসের রেকর্ড উচ্চতা থেকে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

অস্বাভাবিক দরপতন ঠেকাতে মঙ্গলবার ও বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কসপিতে কিছু সময়ের জন্য লেনদেন স্থগিত রাখা হয়।

চলতি বছরের শুরুতে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দ্রুত উত্থানের সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন ধরনের লিভারেজড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) চালু করা হয়, যা এই দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দৈনিক লাভের দ্বিগুণ মুনাফা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

তবে একইভাবে এসব তহবিলে লোকসানের পরিমাণও দ্বিগুণ হয়। ফলে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের অস্থিরতায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েন।

এ অবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এসব তহবিল অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছে। একইসাথে সরকার এসব তহবিলে নগদ অর্থে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য ন্যূনতম তিন কোটি ওন (প্রায় ২০ হাজার ২৮০ মার্কিন ডলার) জমার শর্ত আরোপ করে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত করেছে।

বিশ্লেষক রিউ হিউং-কিউনের মতে, গত এক মাসে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের তীব্র পতনের পেছনে কোম্পানির মৌলিক অবস্থার অবনতি নয়, বরং ইটিএফ-সংক্রান্ত ব্যাপক শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বড় ভূমিকা রেখেছে।

চলতি মাসের শুরুতে এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তাই-ওন শেয়ারের এই ওঠা-নামাকে বাজারের স্বাভাবিক সমন্বয় প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘মেমোরি চিপের চাহিদা সব সময়ই থাকবে। তাই সময়ের সাথে এর মূল্য আবার বাড়বে। বারবার কেনা-বেচা করার চেয়ে শেয়ার ধরে রাখাই সম্পদ সংরক্ষণের ভালো উপায়।’

সূত্র: বাসস