কিমের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন |সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরো শক্তিশালী, সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

রোববার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

গত মাসে শি জিনপিংয়ের বিরল উত্তর কোরিয়া সফরের পর দুই নেতার মধ্যে এই বার্তা বিনিময় হল। ওই সফরে তারা কোরীয় উপদ্বীপে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের অঙ্গীকার করেন।

কেসিএনএর খবরে বলা হয়, গত ১ জুলাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর জন্য কিম জং উনকে ধন্যবাদ জানিয়ে শি জিনপিং একটি বার্তা পাঠান।

ওই বার্তায় তিনি বলেন, শুভেচ্ছা বার্তা থেকে উত্তর কোরিয়ার নেতা, দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জনগণের পক্ষ থেকে চীনের প্রতি আন্তরিক ও উষ্ণ অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘চীনের কমিউনিস্ট পার্টি’ এবং ‘কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টি’- উভয়ই মার্কসবাদী আদর্শে পরিচালিত ক্ষমতাসীন দল। দীর্ঘদিন ধরে দেশ দু’টি জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে একে অপরের পাশে থেকেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে এগিয়ে নিতে একসাথে কাজ করেছে।

শি জিনপিং আরো বলেন, ‘আমি উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অঞ্চলগুলো আমাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত আছি, এবং চীন-ডিপিআরকে (গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া) সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে চাই।’

সম্প্রতি পিয়ংইয়ং সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সফরকালে কিমের আন্তরিক ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্যও ধন্যবাদ জানান।

শি জিনপিংয়ের এই বার্তাটি ছিল কিম জং উনের পাঠানো একটি চিঠির জবাব। ওই চিঠিতে কিম পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত তাদের শীর্ষ বৈঠককে ‘একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করায় উত্তর কোরিয়ার ‘অবস্থান অটল’।

এদিকে, উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি রাশিয়ার সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরো জোরদার করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য পিয়ংইয়ং সৈন্য ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এসবের মধ্যেও চীনই উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই চীনের সাথে সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্র : বাসস