দীর্ঘ রাজনৈতিক সঙ্কট ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত হাইতিতে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচন আয়োজনের তারিখ ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কাউন্সিল।
তবে এই আয়োজনের আগে দেশটিতে একটি ‘গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ নিশ্চিত হতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অস্থায়ী নির্বাচন কাউন্সিলের এক ডিক্রি অনুযায়ী, আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট, সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সংবিধান সংশোধনের ওপরও ভোট নেয়া হবে।
ডিক্রিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ৭ মার্চ।
তবে নির্বাচন কাউন্সিল সতর্ক করে জানিয়েছে, এই সময়সূচি নির্ভর করছে ‘গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার ওপর।’
নির্বাচন সূচি অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই থেকে ভোটার নিবন্ধন শুরু হয়েছে এবং প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ অক্টোবর।
হাইতিতে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। দেশটির সর্বশেষ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইস ২০২১ সালে আততায়ীদের হামলায় নিহত হন।
বর্তমানে শক্তিশালী সশস্ত্র গ্যাংগুলো দেশটির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের বেশিভাগ এলাকাও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে ডিসেম্বরের আগে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি-না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
হাইতির পুলিশকে সহায়তা করতে কেনিয়ার নেতৃত্বে পাঠানো একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।
এরপর জাতিসঙ্ঘ অনুমোদিত ওই বাহিনীকে নতুন রূপ দিয়ে গ্যাং দমন বাহিনী গঠন করা হয়েছে, যাদের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালানোর আরো বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
জুন মাসে হাইতি সফরের সময় জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিশ্ব যেন দেশটির সঙ্কট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে— এমন ‘উদাসীনতার’ নিন্দা করেন তিনি।
জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৫০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে।
ক্যারিবীয় দেশগুলোর জোট ক্যারিকম নির্বাচন কাউন্সিলের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে।
সূত্র: বাসস



