সুদানের উম্ম আরদা শহরে হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরো কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এ তথ্য জানিয়েছে।
এই হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করেছে সংস্থাটি।
এর আগে শুক্রবার আরএসএফ দাবি করেছিল, তারা সঙ্ঘাতপ্রবণ কর্ডোফান অঞ্চলের ওই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তারা এ ঘটনাকে ‘মাঠপর্যায়ের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’ হিসেবে বর্ণনা করে।
মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, শুক্রবার এল ওবেইদের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত উম্ম আরদা এলাকায় আরএসএফ হামলা চালায়।
সংগঠনটি বলেছে, হামলায় ‘১৪ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন আহত’ হয়েছেন। একইসাথে ওই এলাকায় বেসামরিক মানুষজনের ব্যাপকভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সুদানের সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, উম্ম আরদা ও জাবাল আল-হাশাবা এলাকায় আরএসএফের দু’টি হামলা প্রতিহত করেছে সেনাবাহিনী। এতে আরএসএফের ‘ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে’ বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এলাকাটিতে প্রবেশ করা কঠিন এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত থাকায় সংঘর্ষের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
যুদ্ধে উভয়পক্ষের নৃশংসতার তথ্য নথিবদ্ধ করা ইমার্জেন্সি লইয়ার্স সতর্ক করে বলেছে, অবরোধ ও মৌলিক সেবার ঘাটতিতে আগে থেকেই সঙ্কটে থাকা এলাকাগুলোতে মানবিক বিপর্যয় আরো গভীর হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার শিশু অধিকার সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, উত্তর কর্ডোফানে চলমান সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে প্রায় ৪০ হাজার শিশু এল ওবেইদে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে বাস্তুচ্যুতদের জন্য পরিচালিত দু’টি শিবিরে শিশুদের অপুষ্টির ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং তীব্র খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।
পানির অভাব পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু পরিবারকে দিনের প্রায় অর্ধেক সময় পানি সংগ্রহে ব্যয় করতে হচ্ছে।
চতুর্থ বছরে গড়ানো এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সুদানের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বেশিভাগ এলাকা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমের দারফুর অঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে আরএসএফ।
সূত্র : বাসস


