১৬ অক্টোবর ২০১৯

কচ্ছপগতিতে সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধান

প্রতিবেশী দুই দেশে গ্যাস উত্তোলন শুরু ; জ্বালানি আমদানি করে সঙ্কট ঘোচানোর চেষ্টা
-

সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির প্রায় সাত বছর অতিবাহিত হলেও বঙ্গোপসাগের তেল গ্যাস অনুসন্ধানে এখনো কোনো কার্যক্রমই চালাতে পারেনি বাংলাদেশ। অথচ বিরোধ নিষ্পত্তির পরপরই প্রতিবেশী দুই দেশ মিয়ানমার ও ভারত বঙ্গোপসাগরে তাদের অংশে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে বড় ধরনের গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে এবং সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনও শুরু করেছে। দেশের শিল্প, বাণিজ্য, আবাসিকসহ সবখাতেই জ্বালানির জন্য হাহাকার চললেও নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়ায় সঙ্কট মেটাতে এখন উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অংশেও বিপুল পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। সাগরে গ্যাস ব্লকগুলোর ভৌগোলিক কাঠামো একই হওয়ায় বাংলাদেশ অংশের গ্যাস মিয়ানমার তুলে নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এসব সাগরে ব্লকগুলোর অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, সাগরের তলদেশে মাটির নিচে কোথায় তেল গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে তা জানার জন্য মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে করতে হয়। এ জরিপ তথ্যের ওপর নির্ভর করে তেল গ্যাস কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় গত চার বছর ধরে এই জরিপ কাজ শুরুই করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুইবার দরপত্র ডেকেও নির্বাচিত কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়া সম্ভব হয়নি। অবশেষে সম্প্রতি সেই জট খুলছে। মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে চালানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সার্ভে কোম্পানির সাথে চুক্তি করার কথা রয়েছে পেট্রোবাংলার। কিন্তু এ চুক্তিও গত কয়েক মাসে করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দু’টি সার্ভে কোম্পানির সাথে চুক্তি করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। শিগিগরই পেট্রোবাংলা কোম্পানি দু’টির সাথে চুক্তি করবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি : জানা গেছে, সমুদ্র এলাকার সীমানা নিয়ে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে দীর্ঘকাল বিরোধ ছিল। এ কারণে গভীর সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধান কাজে সমস্যা হতো। দীর্ঘদিন পর ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের সাথে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সাথে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রে এক লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটারের মালিক হয়। কিন্তু গত সাত বছরে গভীর বা অগভীর সমদ্রে পেট্রোবাংলা কোনো গ্যাস বা তেলক্ষেত্র আবিষ্কার করতে পারেনি। এমনকি অনুসন্ধান কাজ জোরালো করারও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
ব্লকগুলো পুনর্নির্ধারণ : মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর পেট্রোবাংলা সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ব্লকগুলোকে পুনর্নির্ধারণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় মোট ২৬টি তেল গ্যাস ব্লক রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর অংশে ও ১৫টি গভীর সাগরে। সীমানাবিরোধ নিষ্পত্তির পর ভারত ও মিয়ানমার দ্রুত গতিতে বঙ্গোপসাগরে তাদের অংশে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধান : জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র্রভিত্তিক তেল গ্যাস কোম্পানি কনোকো ফিলিপস ২০০৮ সালের দরপত্র প্রক্রিয়ায় গভীর সমুদ্রের ডিএস-১০ ও ডিএস-১১ ব্লক ইজারা নিয়েছিল। দুই বছর অনুন্ধান কাজ করার পর গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মতভেদের কারণে ২০১৪ সালে ব্লক দুটো ছেড়ে দেয় কনোকো। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ডাকা অন্য একটি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের ডিএস-১২, ডিএস-১৬ ও ডিএস-২১ এই তিন ব্লকের জন্য যৌথভাবে দরপ্রস্তাব জমা দিয়েছিল কনোকো ও স্টেট ওয়েল। পরে কনোকো নিজেকে সরিয়ে নেয়ায় ব্লকগুলো ইজারা দেয়া সম্ভব হয়নি। একই সময়ে অগভীর সমুদ্রের ব্লকগুলোর জন্য ভিন্ন একটি দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। এই দর প্রক্রিয়ার একমাত্র প্রস্তাবদাতা হিসেবে এসএস ১১ নং ব্লক সান্তোস ও ক্রিস এনার্জি এবং এসএস ৪ ও এসএস ৯ নং ব্লক ভারতীয় দু’টি কোম্পানি ওএনজিসি ভিদেশ (ওভিএল) ও অয়েল ইন্ডিয়া (ওআইএল) ইজারা নিয়েছে। এরপর জ্বালানি বিভাগ বিশেষ আইনে দরপত্র প্রক্রিয়া ছাড়াই বাকি ব্লকগুলো ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নেয়। এ জন্য ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আগ্রহপত্র চায় পেট্রোবাংলা। সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো দাইয়ু ও নরওয়ের স্টেট অয়েল এতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তীকালে প্রস্তাব চাওয়া হলে ১২ নম্বর ব্লকের জন্য শুধু দাউয়ু প্রস্তাব দাখিল করে। দীর্ঘ আলোচনার পর গত ডিসেম্বরে ডিএস ১২ নম্বর ব্লকে তেল গ্যাস অনসন্ধানে দাইয়ু করপোরেশনের সাথে উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) সই করে পেট্রোবাংলা। দাইয়ু এই ব্লকের পাশেই মিয়ানমারের একটি সমুদ্র ব্লকে গ্যাস তুলছে।
মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে : জানা গেছে বঙ্গোপসাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ভালো সারা না মেলায় পুরো সমুদ্রসীমায় একটি পূর্ণাঙ্গ বহুমাত্রিক জরিপ বা মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সার্ভের কাজ করার জন্য ২০১৫ সালে পেট্রোবাংলা একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। এতে দরপত্র জমা পড়ে পাঁচটি। দরপত্র মূল্যায়নে নরওয়ের কোম্পানি টিজিএস এবং ফ্রান্সের স্টামবার্র্জার কনসোর্টিয়াম যোগ্য বলে নির্বাচিত হয়। এরপর পেট্রোবাংলা প্রস্তাব চূড়ান্ত করে চুক্তিপত্র অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে জ্বালানি বিভাগে ফাইল পাঠায়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া হঠাৎ বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বানের জন্য পেট্রোবাংলাকে নির্দেশনা দেয়া হয় জ্বালানি বিভাগ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের কোম্পনি কাজ না পাওয়ায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি। পরে আবারো পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলে ওইবারও পাঁচটি প্রস্তাব জমা পড়ে। ওইবারও দরপ্রক্রিয়ায় টিজিএস-স্টামবার্র্জার কনসোর্টিয়াম প্রথম হয়। এরপর চুক্তির প্রস্তাবনা জ্বালানি বিভাগের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেখানে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী দরপত্র প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি বলে আপত্তি জানান। পরে দরপত্র মূল্যায়নের যথার্থতা যাচাইয়ের জন্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ৯ মাস কাজ করার পর এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। পরে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে নরওয়ের টিজিএস এবং ফ্রান্সের স্টামবার্র্জার কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এখন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করছে পেট্রোবাংলা।
মিয়ানমার গ্যাস তুলছে : ২০১২ সালে বাংলাদেশের সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর মিয়ানমার দ্রুত গ্যাসব্লকগুলোতে অনুসন্ধান চালায়। ২০১৬ সালে থালিন-১ নামক ব্লকে গ্যাসপ্রাপ্তির ঘোষণা দেয় মিয়ানমার। থালিন-১ এ সাড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। এখান থেকে গ্যাস তোলা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমার গভীর সমুদ্রের এ-১ ও এ-৩ গ্যাসব্লক থেকে ২০১৩ সাল থেকেই বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস তুলছে। বাংলাদেশের ডিএস-১২ ও মিয়ানমারের ব্লক এডি-৭ একই ভৌগোলিক কাঠোমোর। তাই বাংলাদেশের ডিএস-১২তে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের ডিএস ১২ ব্লকটিও কোরিয়ান কোম্পানি দাইয়ু ইজারা নিয়েছে। কিন্তু এখনো অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের সমুদ্র ব্লক এসএস-১১ সংলগ্ন মিয়ানমারের এডি-৬নং ব্লক চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি) কোম্পানিকে ইজারা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্লকগুলোর ভৌগোলিক কাঠামো একই হওয়ায় বাংলাদেশ অংশের গ্যাস মিয়ানমার তুলে নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এসব ব্লকগুলোতে দ্রুত অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম শুরুর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতও পিছিয়ে নেই : বঙ্গোপসাগরের ভারতীয় অংশের কৃষ্ণা-গোদাভারী বেসিন এলাকায় প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ থাকতে পারে বলে আশা করছে সে দেশের তেল-গ্যাস কোম্পানি ওএনজিসি। ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি, গুজরাট স্টেট পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, ভারতের বেসরকারি খাতের বড় শিল্প গ্রুপ রিলায়েন্স এ এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি, গুজরাট স্টেট পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বেসরকারি গ্রুপ রিলায়েন্স এই এলাকার কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে নিয়মিত গ্যাস উত্তোলন করছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে এই অংশের গভীর সমুদ্রের কেজি ডি ৫ ব্লকে ওনএনজিসি একটি বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পায়। এসব কোম্পানি রাতদিন অনুসন্ধান কাজ করছে।
গ্যাসের জন্য হাহাকার : গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাড়ছে। জানা গেছে, বর্তমানে অর্ধশতাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলছে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলে। এ জন্য তেলের আমদানি গত ১০ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। বছর দশেক আগেও ৮৮ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো দেশীয় গ্যাস দিয়ে। এখন ৫০ ভাগের কম। দেশে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাড়লেও গ্যাসের মজুদ তেমন বাড়েনি। বরং মজুদ গ্যাস ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়তই তা কমে যাচ্ছে। নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়ায় মজুদ দিন দিন কমে যাচ্ছে। ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন সময় কিছু কর্মসূচি নেয়া হলেও তা বর্ধিত চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। এরপর বাপেক্সকে দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করানো হয়। তবে বাস্তবায়নপর্যায়ে যাওয়ার আগেই সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতে দুই বছরের জন্য ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাাম’ ধরনের কার্যক্রম নেয়া হয়। ওই কর্মসূচিও তেমন বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্যাসের সঙ্কট মেটাতে গত বছরের ১৮ আগস্ট থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। প্রায় পাঁচ গুণ বেশি দরে এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে বাড়ছে ভর্তুকি, সাথে বাড়ছে গ্রাহকপর্যায়ে গ্যাসের দাম। চাপে পড়ছে সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নয়া দিগন্তকে বলেন, উচ্চমূল্যরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দেখা দেবে। কারণ, বর্তমানে আমরা দেশীয় গ্যাস পাচ্ছি গড়ে সাত টাকা দরে। আর এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে প্রতি হাজার ঘনফুট ৩২ টাকা দরে। ফলে প্রতি ইউনিটের গড় উৎপাদন পড়ে যাচ্ছে ১২ টাকা হারে; কিন্তু সামনে গ্যাসের মূল্য আরো বেড়ে যাবে। আমদানি না করার বিকল্প কী ছিল এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, একটাই বিকল্প সেটি হলো অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো। এ সুযোগও ছিল আমাদের; কিন্তু গত ১০-১৫ বছরে দেশে নতুন করে উল্লেখ করার মতো কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়নি। তিনি বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি হলেও সমুদ্রে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের জন্য অনুসন্ধান চালানো হয়নি। যদিও সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর মিয়ানমার বেশ দ্রুততার সাথেই গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে। তিনি বলেন, সমুদ্র বক্ষে যথেষ্ট পরিমাণ গ্যাস আছে। যদি সেগুলো অনুসন্ধান ও উত্তোলন করা হতো, তাহলে এখন যে গ্যাস-সঙ্কট রয়েছে তা হতো না। উচ্চমূল্যের জ্বালানি আমদানি করা হতো না। তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বর্তমানে ১২ টিসিএফ গ্যাস মজুদ রয়েছে। প্রতি বছর এক টিসিএফ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। সে হিসাবে ১২ বছরের মধ্যেই গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে যাবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্রে আবিষ্কার না হলে দেশের জ্বালানি সম্পূর্ণ উচ্চমূল্যের জ্বালানিনির্ভর হয়ে পড়বে। গ্যাসের দাম বহু গুণ বেড়ে যাবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বেড়ে যাবে। বেড়ে যাবে সব ধরনের পণ্যের উৎপাদনমূল্য। শিল্পে অচলাবস্থা দেখা দেবে। এ থেকে উত্তরণের একটাই পথ আর তা হলো অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ জন্য ব্যাপক ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের অনুসন্ধান চালাতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাগর বক্ষে গ্যাস প্রাপ্তির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এখন বাংলাদেশের ২৬টি ব্লক রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর ও ১৫টি গভীর সমুদ্রে রয়েছে। বিদেশী কোম্পানিগুলো যাতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আগ্রহী হয়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে এ জন্য একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে। মোট কথা গ্যাস উত্তোলন নিয়ে ব্যাপক ভিত্তিতে উদ্যোগ নিলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন বেড়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum