ঢাকা, মঙ্গলবার,১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

চীনকে কোথায় বসতে দেয় সেই অস্থিরতায় ভারত

গৌতম দাস

০১ এপ্রিল ২০১৮,রবিবার, ১৭:৫০ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৫:৩৭


গৌতম দাস

গৌতম দাস

প্রিন্ট

কথা সত্য। চীন-ভারত সম্পর্ক আগে যেখানে যা অবস্থায় ছিল এর সবকিছু উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে (ভারতের ভাষায় যেটা রি-সেট)। মানে ‘ফির সে শুরু’ হয়ে গেছে। এটা হতে ১৬ বছর লাগল। তাই আজকে বক্তব্যের শেষের কথাগুলো আগে বলে শুরু করব। প্রায় ষোলো বছর পর ভারত মেনে নিলো যে এই অঞ্চলে চীনের ক্ষমতা ও প্রভাব ঠেকানোর সক্ষমতা ভারতের নেই। সে হার স্বীকার করে নিচ্ছে। তাই সে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করছে না, বরং মাঠ ছেড়ে যাচ্ছে। ভারত মালদ্বীপ থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে চীন যেন তার দিকটা খেয়াল রাখে। অর্থাৎ প্রকারান্তরে ভারত স্বীকার করে নিলো যে, আমেরিকার ‘চায়না কনটেইনমেন্ট’ অথবা চীন ঠেকানো বৈদেশিক নীতির যে ঠিকা আমেরিকার কাছ থেকে ভারত এত দিন নিয়েছিল তা সে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন পরিত্যাগ করছে, ক্ষেমা দিচ্ছে। ফলে চীন যেন এর প্রতিদান দেয়।

ভগ্নদূত বা ‘পরাজয়ের সংবাদ বাহক’ কেউ হতে চায় না। তাই ভারতের এই ‘মেনে নেয়ার’ ঘটনাটা ঘটেছে খুবই নীরবে। এমনকি তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করে, আবার বেনামে তা স্বীকার করে নিয়ে, ঘোষণা ছাড়া সাংবাদিক ডেকে ব্রিফ করে দেয়া হয়েছে, এভাবে। গত ২৮ মার্চ সকাল ৮টার দিকে ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ একটা বিশেষ রিপোর্ট হিসেবে এটা প্রকাশ করেছে। বলা হয়েছে ‘এক সিনিয়র গভর্নমেন্ট অফিসিয়াল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে’ এটা বলেছে। Stepping back from Maldives, India tells China এই শিরোনামে এই খবরটা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে অনলাইনে যে কেউ পড়ে নিতে পারেন।

সেখানে গভর্নমেন্ট অফিসিয়াল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ঠিক কী বলেছে তা নিয়ে ওই পত্রিকা রিপোর্টের অন্তত দুটি প্যারার কোটেড বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলোর মধ্যে একটা নিচে বাংলা অনুবাদ করা হলো- ‘এই রিজিয়নের ওপর ভারত একক মালিকানা দাবি করে না। এই অঞ্চলে চীনারা যা করছে তা আমরা ঠেকাতে পারব না, তা সে নেপালে কী মালদ্বীপে যেখানেই করুক। তবে এ বিষয়ে আমরা আমাদের সংবেদনশীলতা ও বৈধতার সীমাবোধ (lines of legitimac) সম্পর্কে তাদের বলতে পারি। যদি এর পরেও তারা তা অতিক্রম করে তবে আমাদের পারস্পরিক কৌশলগত আস্থা (strategic trust) নষ্ট করার দায় বেইজিংয়ের ওপর বর্তাবে।’

এখানে শেষ বাক্যটার অর্থ ও ইঙ্গিতে ভারত যেন বলতে চাইছে, ‘এই দুনিয়ার লড়াইয়ে শক্তি আর মুরোদে হেরে গেছি, তবে পরকালে বিচার দিছি।’ এ ছাড়া অপর প্যারাগ্রাফের বক্তব্য হলো এ রকম- ‘যেদিন ভারত দেখেছে সে আর দক্ষিণ এশিয়াকে প্রভাবিত করে রাখতে ও চীনের মতো শক্তিকে এখানে ক্ষমতার বিস্তার দেখাতে আসা বন্ধ করতে পারবে না সেদিন সে বুঝে গেছে এসব নিজের প্রভাববলয়ের বাইরে চলে গেছে।’

এ ছাড়া মালদ্বীপ নিয়ে একটা তৃতীয় বক্তব্য আছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস রিপোর্টার দাবি করছেন, ওই সিনিয়র অফিসার তাকে বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলের গত ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি চীন সফরের সময় তিনি চীনকে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ভারত মালদ্বীপ থেকে সরে যাচ্ছে। ফলে কোনো হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নেই।’ আর এই বাক্যটাকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তার রিপোর্টের শিরোনাম করেছে।
অনুমান করা যায়, এখানে ভারতীয় এই স্বীকারোক্তির অ্যারেঞ্জমেন্ট করা হয়েছে এভাবে যে, সবার আগে এটা ‘সিনিয়র গভর্নমেন্ট অফিসিয়াল’-এর বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ছাপবে। এরপর বাকি প্রায় সব লিডিং দৈনিকগুলো সবাই তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে ছাপবে। তাই-ই হয়েছে। তবে এভাবে এখানে ছাপা হওয়ার মধ্যে লক্ষণীয় দুটো দিক হলো, কোনো মিডিয়াই কিন্তু ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট বা এর রেফারেন্সকে অস্বীকার বা অবিশ্বাস করেনি। এমনকি তারা এই খবরের সত্যতা যাচাই করতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও জিজ্ঞাসা করতে যায়নি। এর অর্থ বাকি সব পত্রিকা বরং নিজেই ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে এই খবর ছেপে বলতে চাইছে যে, তারাও সাক্ষ্য দিচ্ছে এই খবর সত্য, তারা জানে। এ ছাড়া ওদিকে সরকারও লিডিং মিডিয়াগুলোতে এই রিপোর্ট ছাপা হয়ে গেছে ও এই খবরকে অস্বীকার করে কোনো বিবৃতিও দেয়নি।

এদিকে আরেক ইংরেজি দৈনিক ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতের রিপোর্ট সেও ছেপেছিল সবার মতো। তবে সেটা ছাড়াও রয়টার্সের বরাতে সে পরের দিন আরেকটা রিপোর্ট করেছে। শিরোনাম ‘Dalai Lama faces cold shoulder as India looks to improve China ties।’ এখানে বলতে চাওয়া হয়েছে দালাইলামাকে ‘শীতল কাঁধ দেখানোর’ কারণ ভারত বুঝিয়ে বলাতে তিনি ব্যাপারটাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন, মনে কোনো ক্ষোভ বা আকাক্সক্ষা নিয়ে দেখেননি। আসলে দালাইলামার সব কর্মসূচিতে ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা বাতিল করেছে। এমনকি দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাবার কর্মসূচিও বাতিল করে ধর্মশালায় নেয়া হয়েছে। সাথে সার্কুলার জারি করা হয়েছে কোনো মন্ত্রী বা সরকারি কর্মচারী যেন কোনো সম্পর্ক না রাখে। কারণ চীন মনে করে, দালাইলামা চীনের জন্য খুবই বিপজ্জনক এক বিচ্ছিন্নতাবাদী। চীনের এই মূল্যায়ন ও মনোভাবকে আমল করে আগলে রাখতে ভারত এখন ভীষণ ব্যস্ত। কিন্তু টাইমস অব ইন্ডিয়ার এই রিপোর্টের সাথেও নাম প্রকাশ না করে আরেক সোর্সের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছাপিয়েছে। প্রথমত নাম গোপন রাখা এই সোর্স যিনি ভারতের চীননীতির সাথে সংশ্লিষ্ট, তিনি জানাচ্ছেন, ‘চীন-ভারত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করে নিয়ে এগিয়ে যেতে আমাদের আইডিয়া হলো, ২০১৭ সাল পর্যন্ত যা যা ঘটে গেছে তা ভুলে গিয়ে পেছনে ফেলে রাখতে চাই আমরা।’

তবে রিপোর্টে প্রত্যক্ষ সরকারি স্বীকৃতি এখনো না দিলে ভারতের অপর পক্ষ চীন, মানে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের রেগুলার ব্রিফিং থেকেও এ বিষয়ে অনেক কিছুর স্বীকৃতি মিলছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে মুখপাত্রকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল সেই বয়ানে। ‘চীন কি সাম্প্রতিক ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের (দালাই লামার সাথে দূরত্ব তৈরিসহ) প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায়?’ মুখপাত্র এই প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেলেন। তিনি দালাই লামা শব্দটা এড়িয়ে উচ্চারণ না করে বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিত থেকে জবাবে দেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানাচ্ছে, তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক কালে তাদের উভয় পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়ে বলেন, চীন-ভারত সম্পর্ক বাধাহীন গতিতে (‘সাউন্ড মোমেন্টাম’) বিকশিত হয়ে চলেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এর সাফল্য দেখতে পাচ্ছি।

আসলে আগামী জুন মাস পর্যন্ত চীন-ভারত তাদের বিভিন্ন মন্ত্রিপর্যায়ে (গড়ে সম্ভবত প্রতি মাসে প্রায় দু’টি করে) মিটিং আছে। আর সর্বশেষ জুন মাসে সাংহাই করপোরেশন সংস্থার চীনে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সভার সাইড লাইনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে প্রধানমন্ত্রী মোদির সাক্ষাৎ হবে। আগামী মাসে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চীন সফর দিয়ে বৈঠকগুলো শুরু হবে।

আগামী জুন মাস পর্যন্ত তৎপরতায় ভারতের লক্ষ্য কী এ দিকে তাকিয়ে বললে এর এক কথায় জবাব হলো, মুখ্যত চীনে ভারতের রফতানির বাজার লাভ। ভারত এত দিন চীনের সাথে সম্পর্ককে তিক্ত করে রেখেছিল, আমেরিকার চীন ঠেকানোর নীতি নিজের কাঁধে নিয়েছিল বলে। আর তা নিজের কাঁধে নিয়েছিল বিনিময়ে আমেরিকায় রফতানি বাজার পেয়েছিল বলে। সার কথাটা বললে, ভারতীয় পণ্য মূলত রফতানিতে ভর্তুকি দিয়ে একে আমেরিকার পণ্যের চেয়ে সস্তা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে নেয়া ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের আগের দুই প্রেসিডেন্টের দুই দুই করে টার্মে (মোট ষোলো বছরে) আমেরিকার বাণিজ্য স্বার্থের ওপর রাজনৈতিক স্বার্থকে (চায়না কনটেইনমেন্ট) প্রাধান্য দিয়ে বিদেশনীতি সাজানো ছিল। তাই তখন ভারতকে ‘বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত নেশন’ ঘোষণা করে তার ভর্তুকির রফতানিকেও অনুমতি দেয়া ছিল। তবে শর্ত ছিল যে ভারতের গড় মাথাপিছু আয় এক হাজার ডলার না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা বজায় থাকবে। কিন্তু গত ২০১৫ সালে এই শর্ত পূরণ হয়ে গেলেও রফতানি সুবিধা ভারত পেয়ে চলছিল। মোটা দাগে ট্রাম্পের সাথে আগের দুই প্রেসিডেন্টের ভারত-বিষয়ক নীতির ভিন্নতা কী- এভাবে কথাটা তুললে জবাব হবে, ট্রাম্প আমেরিকার বাণিজ্য স্বার্থের ওপর রাজনৈতিক স্বার্থকে আর কোনো প্রাধান্য না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি উল্টো ‘বাণিজ্য স্বার্থ সবার ওপরে সব ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে’ এই নীতিতে চলতে চাইছেন (যদিও কতটা পারবেন পারছেন সেটা অন্য কথা)। ঠিক এ কারণেই ভারতের ট্রাম্প রিডিং হলো, ট্রাম্পের আমেরিকার কাছ থেকে ভারতের আর বাণিজ্য সুবিধা কিছুই পাওয়ার নেই। তাই ভারতের উল্টো দ্রুত চীনের দিকে ও কাছে যেতে পথ বদল ঘটেছে। আর বাণিজ্য সুবিধা এবার চীনের কাছ থেকে পাওয়ার আসায় ভারত চীনের মন জোগাতে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দেয়ার নীতি নিয়ে আগাচ্ছে। চীন-ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি (এখন চীনের ভারতে রফতানি ৬০ বিলিয়ন, ভারতের চীনে ১০ বিলিয়ন) ৫০ বিলিয়ন ডলারের। ভারতের লক্ষ্য চীন থেকে অন্তত ৩০ বিলিয়নের রফতানি বাজার লাভ করা। মূলত কৃষিজাত পণ্য রফতানি ভারতের লক্ষ্য।

আমরা সবসময় বলে আসছি চলতি আমেরিকান নেতৃত্বের গ্লোবাল অর্থনীতির দুনিয়া ক্রমেই চীনের নেতৃত্বে বদলে যাওয়ার অভিমুখী হয়ে আগাচ্ছে। এই বিচারে চীনের রাইজিং অর্থনীতি নতুন অভিমুখের নেতা, বিপরীতে আমেরিকা পড়তি দশার। আর এই পরিস্থিতিতে ভারতের ন্যাচারাল অবস্থান অভিমুখ হলো চীনের সাথে ও পক্ষে, আমেরিকার বিপক্ষে। এতদিন ভারত রিভার্স খেলে বাড়তি সুবিধা যা পায় কুড়িয়ে নিচ্ছিল। সেটারই এবার পরিসমাপ্তি ঘটল, বলা যায়। গ্লোবাল অর্থনীতিতে নতুন সিস্টেম নতুন ব্যবস্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রশ্নে ট্রাম্পের হাতে ও উদ্যোগে ভারত-আমেরিকার আর একসাথে কাজ করার দিন সম্ভবত এখান থেকে পরিসমাপ্তি লাভ করবে। বাস্তব শর্তগুলো (যেমন ‘বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত নেশন’ ঘোষণা) ট্রাম্পের হাতে চির নিঃশেষিত হয়ে যাওয়ার পথ নেবে। ওদিকে ভারতের ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষা যে ভারতের আমেরিকায় হারানো রফতানি টার্গেট বা বাজার ঘাটতি চীন পূরণ করে দিক, চীনে রফতানির বাজার দিক। চীনও খুব সম্ভবত কিছু বাজার দেবে, বিশেষত ভারতকে আমেরিকা থেকে আলাদা করার তাগিদে। আর ভারত এতই মরিয়া যে, চীনের সামনে ‘নীলডাউন’ অবস্থা। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী কোনো চুক্তি ছাড়া গতকাল ভারত সফর শেষ করে চীনে ফিরে গেছেন। তবে ভারতকে রফতানি বাজার দেয়ার ‘প্রমিজ’ করেছেন, ভারতের মিডিয়া বলছে।

স্বাভাবিকভাবেই এখন ভারতকে মুখোমুখি হতে হবে চীনের বেল্ট-রোড উদ্যোগ- এই ইস্যুতে- সত্যি কথা, সত্যিকার অবস্থান ভারতকে বলতে হবে। সম্ভবত আর ভ্যানিটি অবস্থান নয় যে ভারত একনম্বর অর্থনীতি হতে যাচ্ছে এরকম নয়, বাস্তব সত্য অবস্থান অর্থাৎ তা প্রকাশ করার বিনিময়েই খুব সম্ভবত চীনের কাছ থেকে ভারতকে রফতানি বাজার সুবিধা পেতে হবে। কারণ ভারত নিজেই নিজের মিথ্যা ভ্যানিটি- ‘আমেরিকা আমার পিঠে হাত রেখেছে’, ‘মুই কী হনুরে’- এগুলো তার ভুয়া পরিচয়, ভারত নিজেই তা ভেঙে ফেলে এখন চীনের সামনে নীলডাউন।

ওদিকে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্য স্বার্থ সবার উপরে প্রায়োরিটি’ এই নীতি তিনি যদি ধরে রেখে এগিয়ে যান (যেটা এখনও পর্যন্ত ভিন্ন কিছু সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ ট্রাম্প মনে করেন তার ‘বাণিজ্য স্বার্থ প্রায়োরিটি’ এই নীতির প্রশ্নে তিনি- এতটাই সিরিয়াস যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইউরোপের সাথে এই প্রথম আমেরিকার ভিন্ন অবস্থান হতে বা তা নিয়ে লড়তে তিনি পিছপা নন। এমনকি আমেরিকা দুনিয়ার ‘এম্পায়ার’ অথবা রাষ্ট্রসঙ্ঘ আমেরিকার প্রভাবে চলে এগুলোও বাদ দিতে বা বদলাতে হলেও তিনি রাজি। তবু ‘বাণিজ্য প্রায়োরিটি’ নীতির জায়গা থেকে তিনি সরবেন না বলেই মনে হচ্ছে। দেখা যাক কোথায় দাঁড়ায়।) এই সূত্রে বলা যায়, আমেরিকার ভারতের কাছে ‘বাংলাদেশকে বন্ধক দেয়া’- সে বাস্তবতারও একই সাথে অবসান ঘটেছে। যদিও সেটা বাস্তবায়িত হতে, কার্যকর হতে- বাস্তবে এর প্রভাব পড়তে কিছুটা সময় লাগবে। তবে ‘ঘণ্টা বাজিয়ে’ দেয়া হয়ে গেছে। এ ছাড়াও ভারতের নতুন নীতি, নতুন বন্ধু, মিত্র এগুলো থিতু হয়ে বসতে কিছু সময় লাগবে। অবশ্য আমেরিকা নিজেই সরাসরি ভূমিকা বা সিদ্ধান্ত নিতে পারে এর শর্ত তৈরি হয়ে গেছে, সে কথাও সত্যি। ভারতের পরামর্শ, মতামত সমন্বয় এগুলো আর আগের মতো নেই, থাকবে না, এমন হওয়া যদিও শুরু হয়েছে মাত্র।
লেখক : রাজনৈতিক বিশেষক
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫