কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আগমনের প্রভাব ও বর্ষায় সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলা নিয়ে গণসংলাপ

গোলাম আজম খান কক্সবাজার (দক্ষিণ)

স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর বলপূর্বক বাস্ত্যুচুত মিয়ানমার নাগরিকদের আগমনের প্রভাব ও বর্ষা মওসুমের সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে গণসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার কক্সবাজার কলাতলীর আবাসিক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত গণসংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে স্থানীয় মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। এটা ধরে রাখতে হবে, কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখতে হবে। কারণ বিশ্বের নজর এখন অং সান সু চি থেকে শেখ হাসিনার দিকে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার ইউএন-এর পক্ষে মিয়ানমার বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের জন্য কাজ করছি। এতে বিশ্বে আমাদের সুনাম বেড়েছে।
দেশী-বিদেশী এনজিওদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এনজিওগুলোর কাজে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। এনজিওরা যে ভালো কাজ করছে তা জনগণকে জানাতে ও দেখাতে হবে। এনজিওদের স্থানীয় জনগণের সাথে মিলে মিশে কাজ করতে হবে।
মহাপরিচালক বলেন, এনজিওদের কাজ এখন আর ১৯৮০-১৯৯০ সালের মতো করলে হবে না। এখন ডিজিটাল যুগ, আগের মতো কাজ করলে চলবে না এবং জনগণ মানবে না। তিনি বলেন, মিয়ানমার নাগরিকদের ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য ধরেছেন। আমাদেরও ধৈর্য ধরতে হবে। তাতে আমরা অবশ্যই সফল হবো।
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আইওএম, ইউএনএইচসিআর, আইএসসিজি মিলেমিশে একত্রে কাজ করছে। সম্পদের ও অর্থের ব্যবস্থা করছে যাতে মিয়ানমার বাস্তুচ্যুত নাগরিকসহ কক্সবাজারের স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের যথাযথ সহায়তা করা যায়। সভায় তিনি শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিস কিভাবে কাজ করছে তার বিবরণ দেন।
মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, আমরা প্রতিদিন চারটি ফুটবল মাঠের সমান বন হারাচ্ছি। অন্য ক্ষেত্রেও ক্ষতি কম নয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের (জেআরপি) রেসপন্স পাবো। যার মধ্যে ২৫% বরাদ্দ স্থানীয় কমিউনিটির জন্য সহায়তার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার নাগরিকদের দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, মিয়ানমার নাগরিকদের বঞ্চনা ও বিরোধ সমাধান করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি সভায় মিয়ানমার নাগরিকসহ স্থানীয় নাগরিকদের জন্য গৃহীত উদ্যোগগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন।
গণসংলাপে প্যানেল মেম্বার হিসেবে বক্তৃতা করেন দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত, বিসিএএস-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দুর্যোগ ফোরামের অধ্যাপক নাইম গওহর ওয়ারা, আইএসসিজির সিনিয়র কো-অডিনেটর সম্বুল রিজভি, ইউএনএইচসিআর-এর কর্মকর্তা এলিজাবেথ প্লেস্টার এবং আইওএম-এর কর্মকর্তা ম্যানুয়েল মনিজ পেরিইরা। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন রূপালী সৈকত পত্রিকার সম্পাদক ফজলুল কাদের চৌধুরী।
গণসংলাপ সভার মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কোস্টট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক ও সিএসও-এনজি ফোরাম কক্সবাজারের কো-চেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরী এবং পালস ও কক্সবাজার সিএসও-এনজি ফোরামের (সিসিএনএফ) কো-চেয়ার আবু মোরশেদ চৌধুরী। সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কক্সবাজার সিএসও-এনজি ফোরামের কো-চেয়ার ইপসার নির্বাহী পরিচালক আরিফুর রহমান।
পাবলিক ডায়ালগে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন উখিয়া পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী, টেকনাফ হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৌলানা আজিজ উদ্দিন, হ্নীলার ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.