গ্রাম অবরোধ করে রোহিঙ্গাদের পালাতে বাধ্য করছে সেনারা

কৃত্রিম খাদ্য সঙ্কট তৈরি করছে শাসক গোষ্ঠী
গোলাম আজম খান কক্সবাজার (দক্ষিণ)

উত্তর আরাকানে যেসব গ্রামে এখনো রোহিঙ্গারা রয়ে গেছেন সেসব গ্রাম অবরোধ করে রেখেছে সৈন্যরা। গ্রামগুলো থেকে কোনো রোহিঙ্গাকে বাইরে যেতে দিচ্ছে না। কোনো হকার, খরিদদার, ফাড়িয়াকেও গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের গোলাভরা ধান ও মাঠের ফসলও আগেই লুট করে নিয়েছে প্রশাসন। ফলে তীব্র খাদ্য সঙ্কটে পড়েছেন রোহিঙ্গারা। মূলত কৃত্রিম খাদ্য সঙ্কট তৈরি করে রোহিঙ্গাদের দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য বাধ্য করছে শাসক গোষ্ঠী।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশ যেতে বাধ্য হয়েছে। আরো কয়েক হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে না পালিয়ে উপায় দেখছেনা।
বাংলাদেশের সাথে বার্মার চুক্তি সইয়ের পর রোহিঙ্গাদের যখন স্বদেশে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে ঠিক সে মুহূর্তে বার্মিজ প্রশাসন আবারো রোহিঙ্গাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। শুরু করে নিধন প্রক্রিয়া। চুক্তির পরও বেশ কিছু রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে সৈন্যরা।
বাংলাদেশে নতুন আশ্রিত সানজিদা নামের এক নারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আরাকানে নিজ গ্রাম চাকমাপাড়া থেকে অনেকেই বাংলাদেশে চলে এলেও এতদিন আমরা আসিনি। কারণ, কষ্ট হলেও থাকতে পারলে অন্তত নিজ বাড়িতে থাকার সুখ আলাদা। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে তুলে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তার আর কোনো খোঁজ পাইনি। পরে উগ্রপন্থী মগের ছেলেরা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ছোট ছেলেকে জ্বলন্ত আগুনে ছুড়ে মারে। এতে কোনো মতে আগুনে পুড়ে যাওয়া সন্তানসহ অন্যদের নিয়ে মংডুর দংখালী সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসি।’
একইভাবে মিয়ানমারের আরাকানের রাথিদং থানার সাংগুদাইং গ্রাম থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘আরাকানে আবারো ধরপাকড় শুরু হয়েছে। নতুন করে নির্যাতন শুরু হওয়ায় তিন দিন আগে একসাথে ১০৭ জন রোহিঙ্গা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।’
শুধু সানজিদা ও মরিয়ম নন, তাদের মতো গত এক সপ্তাহে পালিয়ে এসেছেন পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা। তারা প্রত্যেকে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
গ্রাম অবরোধ করে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য করছে সেনারা : যারা বাপদাদার ভিটেমাটি ফেলে এখনো বাংলাদেশে পালিয়ে আসেননি সেসব রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম অবরোধ করে পালিয়ে আসতে বাধ্য করছে মিয়ানমারের সেনারা। তবে আগের মতো নির্যাতন না করে পালিয়ে যেতে বাধ্য করতেই কোনো রোহিঙ্গাকে বাইরে যেতে দিচ্ছে না। এমনকি কোনো হকার, খরিদদার, ফড়িয়াকেও গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না। নতুন করে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গার দাবি রাখাইনে এখনো নির্যাতনের পাশাপাশি তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের প্রত্যাবাসন প্রশ্নে চুক্তি হওয়ার পর বাংলাদেশ যখন এসব রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে তখনো নতুন করে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা ঘটনা বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের গোলাভরা ধান ও মাঠের ফসলও আগেই লুট করে নিয়েছে প্রশাসন। ফলে তীব্র খাদ্য সঙ্কটে পড়েছেন রোহিঙ্গারা। মূলত কৃত্রিম খাদ্য সঙ্কট তৈরি করে রোহিঙ্গাদের দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করছে শাসক গোষ্ঠী।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে এক হাজারো বেশি রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশ যেতে বাধ্য হয়েছেন। আরো কয়েক হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে না পালিয়ে উপায় দেখছে না।
বাংলাদেশের সাথে বার্মার চুক্তি সইয়ের পর রোহিঙ্গাদের যখন স্বদেশে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে ঠিক সে মুহূর্তে মিয়ানমার আবারো রোহিঙ্গাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। শুরু করে নিধন প্রক্রিয়া। চুক্তির পরও বেশ কিছু রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে সেনারা।
প্রতিনিয়ত যে রোহিঙ্গারা প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসছেন তা নিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর বা পরিবেশ সৃষ্টির কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। এরই মধ্যে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে রাখার ব্যবস্থা। এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে, তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটির কী হবে। এসবই তো জ্বালিয়ে বা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পে বন্দী জীবনে গিয়ে কি লাভ। সেখানেও অনাহারে মরতে হবে।
সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের উখিয়ার ট্রানজিট পয়েন্টে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। নিবন্ধন শেষে এদেরকে উখিয়া ও টেকনাফে বিভিন্ন আশ্রয় ক্যাম্পে পাঠানো হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
কর্মকর্তা মো: আবুল কালাম জানান,এখনো প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটছে।
শুধু সানজিদা ও মরিয়ম নয়, তাদের মতো গত এক সপ্তাহে পালিয়ে এসেছে প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.