ঢাকা, শুক্রবার,২৪ জানুয়ারি ২০২০

রাজনীতি

নদী দূষণ বন্ধে শিল্প মালিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : শাজাহান খান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ ডিসেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৮:৫৫


প্রিন্ট
শাজাহান খান (ফাইল ফটো)

শাজাহান খান (ফাইল ফটো)

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেছেন, নদী দূষণ বন্ধের ব্যাপারে শিল্প মালিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাদের নিজের শিল্পের জন্য দেশের জনগণ, নদী পরিবেশের ক্ষতি কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। পরিবেশ ও মানবিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মালিকদের মানসিকতার পরিবর্তনের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপারের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাব ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ট্যানারি দূষণ থেকে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ভালো কাজের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার, আর এই সদিচ্ছা বর্তমান সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যয় ও আন্তরিকতায় নদী দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত করতে আমরা অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, মালিকদের সদিচ্ছার অভাবের কারণেই সাভারে চামড়া শিল্প নগরীর স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেরি হলেও আদালতের নির্দেশনা ও আমাদের প্রচেষ্টায় হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও নদ-নদীর দূষণ রোধ করতে ‘বাপা’র সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ‘ট্যানারি শিল্পের সমস্যা ও করণীয়’ বিষয়ে একটি সুপারিশমালা তৈরি ও তা সরকারকে প্রদানের জন্য পরিবেশবাদীদের উদ্যোগে একটি ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন ও এই গ্রুপের মাধ্যমে তদারকিরও প্রস্তাব করেন।

বাপা’র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, চামড়া শিল্প আমাদের সম্পদ, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ শিল্পের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু নদী আমাদের বড় সম্পদ, নদী আমাদের জীবনের সাথে জড়িত। সুতরাং যাতে ট্যানারি শিল্প টিকে থাকে এবং নদীও রক্ষা পায়, এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি সমন্বিত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এ শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থেই এখানে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা, আবাসন ব্যবস্থা স্বাস্থ্য ও তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, শিল্পপতিরাও পরিবেশবান্ধব শিল্প নগরী চায়। তবে এজন্য এখানকার অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। এখানকার সিইটিপি মডিউলটি ত্রুটিযুক্ত ও প্রায় অকার্যকর। যার কারণে ট্যানারির বর্জ্য দূষণের ফলে পাশের এলাকা, নদী ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। যেকোনো সময়ে এলাকাবাসীর সাথে ট্যানারি মালিক পক্ষের সংঘাতের আশংকা রয়েছে। তাই এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

অ্যাডডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, মালিক-সরকার পক্ষের চুক্তির ভিত্তিতে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর প্রক্রিয়ার ঘোষণার পরও টেন্ডার ত্রুটির কারণে স্থানান্তর দীর্ঘায়িত হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় মনে হচ্ছে মালিকপক্ষ মানসিকভাবে সাভারে যেতে প্রস্তুত ছিল না। তবে মামলার দীর্ঘ জটিলতা কাটিয়ে আদালতের কঠোর নির্দেশনার পর হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সাভার যেতে শুরু করছে। এটি যাতে যথাযথভাবে হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসনের গাফিলতির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না, তাই সরকারকে এ বিষয়টি নজর রাখতে হবে।

ট্যানারি শিল্প নগরী সাভার-এর প্রাক্তন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাইয়ুম হাজারীবাগ ট্যানারি কারখানা সাভারে স্থানান্তর ও এর কার্যক্রম বিষয় তুলে ধরে বলেন, একটি আধুনিক সিইটিপি নির্মাণসহ চামড়া শিল্পনগরী স্থানান্তর ও পরিবেশসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থাসহ আনুসঙ্গিক অন্যান্য সুবিধাদি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যে ত্রুটি আছে তাও সমাধানে কাজ চলছে। একটি কারিগরী কমিটির মাধ্যমে সিইটিপি স্থাপন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণের প্রস্তাবকে তিনি স্বাগত জানান।

ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, সাভারে স্থানান্তরিত জায়গায় এই শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত শ্রমিকদের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়নি। তাদের বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সেবার বিষয়টি একেবারেই অবহেলিত রয়েছে, তাদের জন্য কিছুই করা হয়নি। শ্রমিকদের এ সমস্যাগুলো সর্বাগ্রে বিবেচনায় আনার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রাক্তন সার্বক্ষণিক সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, একটি কারিগরী কমিটি গঠনের মাধ্যমে সাভারে স্থানান্তরিত ট্যানারি শিল্প নগরীর ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫