ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

তুরস্ক

অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে বদলে দিচ্ছে তুরস্ককে

রয়টার্স

১২ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ০৬:২৮


প্রিন্ট
অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে বদলে দিচ্ছে তুরস্ককে

অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে বদলে দিচ্ছে তুরস্ককে

আগামীকাল সোমবার রাশিয়া সফরে যাবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। সফরে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করবেন। এ বৈঠকে দ্বিপীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে কথা বলবেন দুই নেতা। আলোচনায় বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে ইরাক ও সিরিয়া পরিস্থিতি। তুর্কি প্রেসিডেন্টের দফতরে বিবৃতিতে এ সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় দুই নেতার সর্বশেষ সাাৎ হয়। ওই সময় তারা ইরাক ও সিরিয়ার অখণ্ডতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর আগে গত ৩ মে গৃহযুদ্ধ কবলিত সিরিয়ায় একটি সেফ জোন বা নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় একমত হয় রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরান।


সিরিয়া প্রশ্নে তুরস্ক ও রাশিয়ার অবস্থান পরস্পরবিরোধী। ইতঃপূর্বে আঙ্কারার প থেকে প্রায়ই মস্কোর বিরুদ্ধে আসাদ সরকারকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ তোলা হতো। একপর্যায়ে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল দেখা হয়। পরে ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এরদোগান। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর এরদোগান রাশিয়ার দিকে আরো ঝুঁকে পড়েন।


এরদোগান মনে করেন ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র হাত রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তুর্কি নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের অভ্যুত্থান চেষ্টায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। ফলে এরদোগান বুঝতে পারেন, সিআইএ ও ন্যাটো তার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। এতে তিনি রাশিয়ার সাথে তিক্ততার অবসান ঘটিয়ে মৈত্রী পুনরুদ্ধারে আগ্রহী। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর এক ভাষণে এরদোগান বলেন, তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে আমাদের পশ্চিমা বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন ছিল। প্রত্য ও পরোভাবে তারা চেয়েছিল এই অভ্যুত্থান সফল হোক। কিন্তু তুর্কি জনগণ সেটা হতে দেয়নি।

ভারতের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান চীনের

রয়টার্স

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) নিয়ে আপত্তি এড়ানো এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের সুবিধা নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) নিয়ে বিরোধ অবসান করার জন্য চীন ও ভারতের প্রতি রাশিয়ার আহ্বান জানানোর এক দিন পর তিনি নতুন এই প্রস্তাব দিলেন।


চীন জানায়, এই উদ্যোগের প্রতি ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে। রাশিয়ার উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, বিআরআই নিয়ে ভারত বেশ দ্বিধাগ্রস্ত। আমরা বিআরআইয়ের ব্যাপারে উন্মুক্ত। বিআরআইজুড়ে থাকা দেশগুলোর জন্য প্রকল্পটি অনেক কল্যাণ বয়ে আনবে। আমরা অনেকবার বলেছি, সিপিইসি করিডোর একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা। এটি তৃতীয় কোনো দেশকে টার্গেট করে করা হয়নি। এতে ভূখণ্ডগত কোনো বিরোধ সম্পৃক্ত নয়।


গত মে মাসে বেইজিংয়ে বিআরআই শীর্ষ সম্মেলন যে কয়েকটি দেশ বয়কট করেছিল, তার অন্যতম ছিল ভারত। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপকে স্থল ও নৌপথে সংযুক্ত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হলো বিআরআই। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মে মাসে জানিয়েছিল, কোনো দেশই তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার মতো মূল বিষয় অগ্রাহ্য করে ওবিওআর, সিপিইসিতে যোগ দিতে পারে না। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সদ্য সমাপ্ত ১৯তম জাতীয় কংগ্রেসে বিআরআইকে অন্যতম ভবিষ্যৎ ল্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিআরআইকে চীনা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাটা ছোট কোনো বিষয় নয়, বিশেষ করে সিপিইসি নিয়ে ভারত ও চীনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে।


জেএনইউর স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক ড. শরন সিং বলেন, চীনা সংবিধানে বিআরআইয়ের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো তারা আরো প্রবলভাবে এটা বাস্তবায়ন করতে চাইবে। আমাদের বুঝতে হবে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে তার মতা আরো সুসংহত করেছেন। তার নাম এখন মাও সে তুং এবং দেং জিয়াও পিংয়ের কাতারে স্থান পেয়েছে। ভারত পুরোপুরি বিআরআইয়ের বাইরে নয়। তারা মেগা-অবকাঠামো প্রকল্পটির সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন আলোচনা ও ওয়ার্কিং গ্রুপে অংশ নিচ্ছে। তবে সিপিইসি নিয়ে তার আপত্তি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।


এই প্রকল্পটি গিলগিট-বাল্টিস্তান দিয়ে গেছে। এই স্থান নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। শরন সিং বলেন, চীনের জোরালো ঘোষণা সত্ত্বেও বাস্তবতা হলো অর্থনৈতিক করিডোরটি গেছে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মির দিয়ে এবং একে বলা হচ্ছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর। এটিই বেইজিংয়ের অবস্থান বদলে দিচ্ছে।

 

সিরিয়ায় ‘সামরিক সমাধান নয়’, ট্রাম্প ও পুতিনের মতৈক্য : ক্রেমলিন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সিরীয় সংকটের ‘সামরিক সমাধান না করার’ বিষয়ে একমত হয়েছেন। শনিবার ক্রেমলিন একথা জানিয়েছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে একথা বলা হয়। খবর এএফপি’র।


ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘দুই প্রেসিডেন্ট সিরিয়া সংঘাতের সামরিক সমাধানের না করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।’
তারা নিশ্চিত করেছেন যে আইএসআইএল’কে পরাস্ত করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে নিশ্চিত করেন। খবর এএফপি’র।


প্রেসিডেন্টদের যৌথ বিবৃতিতে সিরিয়ায় তাদের সৈন্যদের মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়ানোয় তারা ‘সন্তোষ প্রকাশ’ করেছেন।
গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে আইএসআইএল’র এর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিরিয়ার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কিভাবে লাঘব করা যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ব্যাপারে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তারা আগামী মাসগুলোতে সিরিয়ার সাধারণ মানুষকে মানবিক সহায়তার জন্য জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫