ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

নির্বাচনের আগে ১০ হাজার সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প

প্রতি উপজেলা পাবে ১ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের নামে প্রতিটি উপজেলাকে এক কোটি টাকা করে বরাদ্দ দিচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের পরামর্শে এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে একনেকে। স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তবে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দাবি করেছেন, এটি কোনো নির্বাচনী প্রকল্প না। দেশের মসজিদগুলোতে গরু, ছাগল প্রবেশ করে, কোনো ধরনের দেয়াল না থাকার কারণে। আমরা মসজিদগুলো সুন্দর করতে চাই। তাই এই প্রকল্প। সব কিছুকেই কেন নির্বাচনের সাথে মেলান।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সারা দেশে প্রায় ১০ হাজারটি সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পটিসহ ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান। অনুমোদিত ১০ প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে পাঁচ হাজার ১৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যার মধ্যে সরকারি চার হাজার ৪৬২ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ৬৯৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
একনেকের দেয়া তথ্যানুযায়ী, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। এই জন্য ব্যয় হবে ৬৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। তবে শুধু অবকাঠামোগত খাতে যাবে ৬০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে শেষ করার কথা। প্রকল্পের ব্যয় বিভাজনে কী কাজ করা হবে তার কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। পূর্ত ও নির্মাণ কাজ খাতে ৬০০ কোটি টাকা মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু এখানে কী কী কাজ করা হবে তার কোনো কিছুই উল্লেখ নেই। অন্যান্য ব্যয়ের খাতগুলোতে যেমন, গাড়ি ক্রয়, ক’টি কী কী গাড়ি, আসবাবপত্র ক’টি এবং কী কী ধরনের, কম্পিউটার খাতে কী কী কেনা হবে বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও পূর্ত কাজের কোনো বিবরণ নেই। এ নিয়ে খোদ পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন জাগে। তবে বিষয়টি যেহেতু জনপ্রতিনিধিদের এবং রাজনৈতিক তাই তারা এটি নিয়ে বেশি আপত্তি করতে পারছেন না। তবে প্রায় দশ হাজার সার্বজনীন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ করার ম্যান্ডেট এলজিইডিতে আছে কি না সে প্রশ্ন উত্তাপিত হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র বলছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান, মন্দির, শ্মশান, প্যাগোডা, গির্জা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সংসদ সদস্যদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি উপজেলায় এ জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সমাজের কল্যাণ ও সংহতি সুসংহত করতে সামাজিক, ধর্মীয় এবং খেলাধুলাবিষয়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সার্বজনীন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন নামে এই প্রকল্প। দেশের সব উপজেলায় এটি বাস্তবায়নের জন্য ৬৭৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়। পরে পিইসি সভায় এই ব্যয় কমিয়ে ৬৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা করার সুপারিশ দিয়ে একনেকে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।
প্রকল্পটি নিয়ে পর্যালোচনায় এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠ প্রভৃতির জন্য স্কিমভিত্তিক ব্যয় প্রাক্কলন না করে উপজেলাভিত্তিক এক কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। কাজের সচ্ছতার স্বার্থে উপজেলাভিত্তিক থোক বরাদ্দ না রেখে স্কিমভিত্তিক ব্যয় প্রাক্কলন করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রকল্পে খেলাধুলাবিষয়ক অবকাঠামো উন্নয়নের খাত রাখা হয়েছে। এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মতি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এই আপত্তি তুলেও তাদের অনুমোদনের জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে বলে পিইসি সূত্রে জানা গেছে।
একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলোÑ ৯৯১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প, ৯৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার গোপালগঞ্জে বহুতল বিশিষ্ট সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ৯৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্প, এক হাজার ২১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ৯৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়), ৬৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার আরিচা (বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলতপুর-টাঙ্গাইল সড়কের ষষ্ঠ কিলোমিটারে ১০৩.৪৩ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, ৩৯৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সারা দেশের শিাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিণ ল্যাব স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ৪৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ের যমুনা নদীর ভাঙন হতে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলায় খুদবান্দি, সিংড়াবাড়ি ও শুভগাছা এলাকা সংরণ প্রকল্প।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫