ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

বিশ্ববাসীর প্রতি এক রোহিঙ্গার আকুতি

রোহিঙ্গাদের দুর্গম যাত্রা

‘৮ দিন শুধু পাতা খেয়েছি’

ভাষান্তর : আহমেদ বায়েজীদ

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

‘রাশিদা আমার নাম, বয়স ২৫ বছর। আরাকানে সহিংসতার আগে আমার খুবই শান্তিপূর্ণ ও সাদাসিধে জীবন ছিল। কিছু চাষের জমি ছিল আমাদের। ছিল গবাদিপশু। সুন্দর একটি ঘর ছিল। স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে সেখানে বাস করতাম। এই সহিংসতার আগে সুখের সংসার ছিল আমার। কিন্তু সব কিছুই আমরা ফেলে এসেছি। আমাদের বাড়ি ও ফসলের ক্ষেত পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে জীবিকা নির্বাহের আর কোনো পথ নেই। সেনাবাহিনী যখন আমাদের গ্রামে হামলা করলÑ দ্রুত তিন সন্তানকে নিয়ে জঙ্গলে লুকাই। জঙ্গলে খুবই ভয়ে ছিল বাচ্চারা। কিছুক্ষণ পর ওদের জঙ্গলে রেখে বাড়ি গিয়ে দেখি, অনেক লোককে হত্যা করা হয়েছে, তাদের লাশ পড়ে আছে। তারপর সেই জঙ্গল থেকেই বাচ্চাদের নিয়ে হাঁটা শুরু করি। আট দিন পর এসে পৌঁছলাম বাংলাদেশ সীমান্তে। এ সময় খুবই ক্ষুধার্ত ছিলাম আমরা। গাছের পাতা ছাড়া খাওয়ার মতো কিছুই ছিল না। বাচ্চারা খাবার চেয়েছে। কিন্তু আমরা তো সাথে কিছুই আনতে পারিনি খাওয়ার মতো। ছোট্ট একটি নৌকায় চড়ে সীমান্তের নদী পার হয়েছি আমরা, যা ছিল খুবই বিপজ্জনক। মনে হয়েছে এই বুঝি নৌকা ডুবে গেল। শিশুদের শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম দু’হাতে। বাংলাদেশে এসে আমি মোটেই খুশি নই। এক একর জমিতে ধান চাষ করতাম। নিজেদের গবাদিপশু ছিল। থাকার ঘর ছিল। তা ছাড়া, আমাদের গ্রামটি ছিল খুবই সুন্দর। এর সব কিছুই আমরা ফেলে এসেছি। কাজেই আপনারা হয়তো বুঝতে পারছেন, কতটা কষ্টে আছি আমরা। বাড়ির কথা মনে পড়লে ভীষণ কষ্ট হয়। এখানে আমরা আশাহীনভাবে বেঁচে আছি। ভবিষ্যতে কী হবে, তা জানি না। পর্যাপ্ত সাহায্যও পাচ্ছি না। বাংলাদেশীরা খুবই দয়ালু। তারা খাদ্য ও কাপড় দিয়ে আমাদের সহায়তা করছে। কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এখানে দেখছি না। আশা করি, তারা আমাদের সাহায্য করবে। আমাদের খাদ্য দরকার। বিশ্ববাসীর কাছে আমার আকুতি, আমরা শান্তি চাই। শান্তি ছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫