ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

চট্টগ্রাম

দুই দিন পর এক প্যাকেট ভাত পেল ৮ সদস্যের পরিবার

গোলাম আজম খান, কুতুপালং ক্যাম্প থেকে

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৯:৫৮


প্রিন্ট
দুই দিন পর এক প্যাকেট ভাত পেল ৮ সদস্যের পরিবার

দুই দিন পর এক প্যাকেট ভাত পেল ৮ সদস্যের পরিবার

রহিম উল্লাহ। বয়স কম বেশি চল্লিশ। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে স্বপরিবারে উখিয়ার কুতুপালং পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন। স্ত্রী ও ৬ সন্তান নিয়ে তার পরিবার। দুই দিন ধরে অভুক্ত। স্ত্রী অসুস্থ। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছেন। ক্ষুধার যন্ত্রণায় হাউমাউ করছে সন্তানেরা। শনিবার দুপুর ২ টার দিকে হাতে পেলেন কোস্ট ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একটি ভাতের প্যাকেট। আর ওই কাঙ্খিত প্যাকেটটি হাতে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন রহিম উল্লাহ। ছুটে গেলেন অস্থায়ী ঝুপড়ি বাসায় অপেক্ষারত অভুক্ত স্ত্রী-সন্তানদের কাছে। বাবার হাতে ভাতের প্যাকেট দেখে হাত বাড়িয়ে দিলো সন্তানেরা। রহিম উল্লাহ নিজ হাতে সন্তানদের তুলে দিলেন দু'মুঠো করে ভাত। অল্প করে হলেও খেলেন পরিবারের সবাই।

এটি ছিল শুধু রহিম উল্লাহর একটি পরিবারের চিত্র। এরকম হাজারো রোহিঙ্গা পরিবার এখন খাবারের জন্য হাহাকার করছে। গাড়ি দেখলেই ছুটছে পেছনে। সাহায্য নিয়ে যাওয়া গাড়ির চারিদিকে ঘিরে ধরছে ক্ষুধার্থ রোহিঙ্গারা। শনিবার রোহিঙ্গাদের অবস্থা পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় এ চিত্র।

খাবার পেয়ে রহিম উল্লাহর বড় ছেলে আবদুল মতলব (১৫) জানায়, দুই দিন ধরে কোনো খাবার চোখে দেখিনি। ক্ষুধার যন্ত্রণা সইতে পারছিলাম না। ছোট ভাইবোনদের দিকে তাকালে চোখের পানি এসে যায়। ক্ষুধা লাগলে দুই পেট চেপে ধরি। এভাবে দুই দিন কেটেছে। দুই দিন পরে আব্বু একটি প্যাকেট এনে আমাদের ভাগ করে দিয়েছে।

রহিম উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে বর্ণনা দেন তাদের উপর মিয়ানমারের বাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কথা। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি মিয়ানমারের রাসিদং দক্ষিণ শিলখালী এলাকায়। আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে সরকারী বাহিনী। গুলি করে ও পুড়িয়ে মেরেছে স্বজনদের। প্রাণ বাঁচাতে ১৫ দিন আগে স্বদেশ ছেড়েছি। দীর্ঘ পাহাড়-জঙ্গল পেরিয়ে দুই দিন আগে এখানে এসেছি। আসার পর থেকে কোনো খাবার ও পানীয় পাইনি। কিনে খাবার টাকা পয়সাও নেই। পরিবারের ৮ সদস্য নিয়ে করুণ দিন কাটছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫