ঢাকা, রবিবার,২৬ মে ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

ট্রাম্প কি আফগানিস্তানে সৈন্য বাড়াবেন?

গৌতম দাস

২৭ আগস্ট ২০১৭,রবিবার, ১৯:৫২


গৌতম দাস

গৌতম দাস

প্রিন্ট

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার নতুন করে আফগানিস্তানের যুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ২১ আগস্ট তিনি নতুন করে দেয়া তার আফগান পলিসিতে সেখানে আরো সৈন্য পাঠানোর ইচ্ছা জানিয়েছেন। স্বভাবসুলভ হামবড়াভাবে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প প্রায়ই নিজেকে এক মশকরার পাত্র বানিয়ে ফেলেন। এখানেও ট্রাম্প তার নতুন ‘আফগান নীতি’ তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এবার সেখানে আফগান রাষ্ট্র গড়তে যাচ্ছি না, আমরা যাচ্ছি টেররিস্ট মারতে’।

বেশির ভাগ মিডিয়া ট্রাম্পের আফগান যুদ্ধে নবপ্রবেশকে ঠাট্টা তামাশা করে বা খোঁচা দিয়ে তুলে ধরেছে। প্রকারান্তরে যার অর্থ, তারা কেউই মার্কিন সেনাদের যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারে সিরিয়াসলি দেখছেন না। তাহলে কি খোদ ট্রাম্পের কথার ভেতর সিরিয়াস নেসের অভাব আছে? হ্যাঁ, সে প্রশ্নও জাপানের ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনের আর্টিকেলে এসেছে। এ ছাড়া আফগানিস্তান ট্রাম্পের কাছে টেররিজমের ইস্যু না ব্যবসায় বাগিয়ে নেয়ার ইস্যু, সে প্রশ্নও উঠেছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় সব আমেরিকান সৈন্য আফগান ফ্রন্ট থেকে ফিরিয়ে আনার পরেও সেখানে এখনো জেনারেল জন নিকলসনের নেতৃত্বে সাড়ে আট হাজার সৈন্য আছে। ওদিকে ট্রাম্পের শাসনকাল আট মাসে পড়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সাথে ওই জেনারেলের সাক্ষাৎ ঘটেনি, যদিও ট্রাম্প নতুন আফগান নীতি দিচ্ছেন। তাই নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রচ্ছদে ওই জেনারেলের ছবি দিয়ে প্রশ্ন রেখেছে, এমন আফগান নীতিতে ‘এটা’এক আজব সম্পর্ক!’ সিএনএনও তামাশা করে রিপোর্ট ছেপেছে, ‘আফগানিস্তান সম্পর্কে ট্রাম্পের চিন্তার ইতিহাস’ শিরোনামে।

এটা হলো ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প আফগানিস্তান নিয়ে যত মন্তব্য করেছেন তার ক্রমিক ইতিহাস। ‘অর্থ বরবাদের জায়গা আফগানিস্তানে’ বা ‘আফগানিস্তান এক বিপর্যয়ের নাম’, অথবা ‘আমাদের এখনই আফগানিস্তান ছেড়ে আসা উচিত’ ইত্যাদি থেকে শুরু হয়ে শেষে ২০১৭ সালে এসে গত ১৯ আগস্ট ট্রাম্প টুইট লিখছেন, ‘ট্যালেন্টড জেনারেলদের সাথে ভালো সময় কেটেছে। আফগানিস্তানসহ অনেক ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।

অথচ এই ট্রাম্প নিজের জাতীয়তাবাদী অবস্থান মনে করে এত দিন আফগানিস্তানে যুদ্ধ করা, এমনকি বিভিন্ন দেশে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে) আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব রাষ্ট্রীয় খরচের উদ্দেশ্য ও ন্যায্যতা জানতে চেয়েছেন। তার আগেকার টুইটগুলোই এর প্রমাণ। আবার তিনি আফগান পলিসি ঘোষণা করতে গিয়ে স্বীকার করছেন যে নিজের ব্যক্তিগত অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি এটা করছেন।

আফগানিস্তানে আমেরিকার হামলার আর ‘ওয়্যার অন টেরর’ যুদ্ধের নেতা ছিলেন তদানিন্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। কিন্তু এতে তিনি আমেরিকাকে এক অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। নিজেও আটকে পড়েছিলেন।

রয়টার্সের এক কমেন্টেটর লিখছেন, ‘আফগানিস্তান থেকে আলকায়েদা তৎপরতা ও নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলা, তাদের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা, তাদের অর্থ সরবরাহ ও লেনদেনের নেটওয়ার্ক উৎখাত ইত্যাদি ছিল আফগানিস্তানে আমেরিকার সামরিক হামলার মৌলিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য’। কিন্তু এর কিছুই অর্জিত হয়নি। অথচ ইতোমধ্যে যুদ্ধে জীবন দিয়ে ফেলেছে ২৪০০ আমেরিকান সৈন্য, ১৬ বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে এতে আমেরিকার খরচ হয়ে গেছে প্রায় ১.০৭ ট্রিলিয়ন বা ১০৭০ বিলিয়ন ডলার। শুধু তাই নয়, আমেরিকান অর্থনীতির যে বিরাট ক্ষতি, এর আঁচ গ্লোবাল অর্থনীতিতে গিয়ে লেগেছিল আর তাতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দাও দেখা দিয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১৯৩০ সালে ঘটা প্রথম গ্লোবাল ডিপ্রেশন বা মহামন্দার পরে সেটাই দ্বিতীয়বার (২০০৭-০৮ সালের) মহামন্দা।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপ-আমেরিকাসহ অনেকে মহামন্দায় ডুবে গেলেও তখনো আলোর বাতি হয়ে টিকেছিল চীন, তবে ডাবল ডিজিটের জিডিপি থেকে নেমে সিঙ্গেল ডিজিটে, তবুও কম হারে হলেও ভালোর দিকে, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল প্রশংসনীয়। যদিও ততদিনে আমেরিকার সরকারি গবেষণায় এটা পরিষ্কার হয়ে গেয়েছিল যে, আমেরিকা আর একক পরাশক্তি থাকছে না। চার বা পাঁচ পরাশক্তির ‘অন্যতম’ হতে যাচ্ছে মাত্র। অপর দিকে চীনের অর্থনীতি আমেরিকান অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে চলে যাবে। এই আগাম অনুমানগুলোর বাস্তব লক্ষণ দেখতে পাওয়া শুরু হয়েছিল মার্কিন অর্থনীতির ওই পতনের কালে। ফলে বুশকে যদি বলা হয় এক অনন্ত যুদ্ধের প্রবেশের রূপকার, তবে এ থেকে আমেরিকাকে বের করে আনার ‘ত্রাতা’ হলেন বিগত প্রেসিডেন্ট ওবামা।

গত ২০০৭ সাল মানে বুশের আমল থেকেই যুদ্ধ প্রসঙ্গে সব লাভক্ষতির মূল্যায়নে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আমেরিকা অর্থহীন তৎপরতার এক বিশাল ফাঁদে আটকা পড়ে গেছে। এখান থেকে আমেরিকাকে উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নিতে হয় বারাক ওবামাকে। তিনি আমেরিকান সৈন্য ফিরিয়ে আনার জন্য একটা তারিখ ঠিক করেছিলেন। না সেটা, আর কত দিনের যুদ্ধে বা কত সময়ের মধ্যে কী কী অর্জন করতে হবে, এর তালিকা নয়। তিনি মাপলেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আমেরিকান অর্থনীতির আর কত দিন আছে, যাতে জাতীয় অর্থনীতির বড় ক্ষতি না করে যুদ্ধ সমর্থন করে সহি সালামতে আফগান রণাঙ্গন থেকে ফিরে আসা যাবে। সে হিসাবে ২০১২ সালেই তিনি যুদ্ধের ‘কাট-অফ’ তারিখ ঘোষণা করে দিয়েছিলেন; আর সময়টা হলো ২০১৪ সালের ডিসেম্বর।

অর্থাৎ এই তারিখের মধ্যে যুদ্ধের লক্ষ্য কিছু অর্জিত হলে ভালো; তা না হলেও সৈন্যরা বাড়ি ফিরবে- এটা নির্ধারিত করে ফেলেন তিনি। তবে কেবল সামরিক কাঠামোটা ধরে রাখার জন্য আর কিছু ট্রেনিংয়ের উদ্দেশ্যে সর্বাধিক ১০ হাজার আমেরিকান সৈন্য আফগানিস্তানে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাস্তবে সেটাই এখন সাড়ে আট হাজার। এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারার জন্য ওবামা সেই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাতা হয়ে আছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ট্রাম্পের ত্রাতা কে হবেন তা কি তিনি আগে ঠিক করেছেন?
গত ১০ জুলাই রয়টার্স এক মন্তব্য প্রতিবেদন ছেপেছিল। কারণ ততদিনে ট্রাম্পের নতুন আফগান নীতি কেন আসছে না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

ওই রিপোর্টে লেখা হয়েছে, বিদেশনীতি সার্কেলে প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাকমাস্টার আর সেক্রেটারি অব স্টেট টিলারসন-ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘তিন মূর্তি’ আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট আবার সৈন্য পাঠাক, এর পক্ষে প্রেসিডেন্টকে প্রভাবিত করার মুরুব্বি, এটা সবাই জানে। মাত্র তিন বছরের মাথায় এরা চান আমেরিকা তার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলুক। রয়টার্সের ওই রিপোর্টে বলা হয়, একমাত্র ট্রাম্পের সাবেক চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভ ব্যানন যাকে ‘গ্লোবালাইজেশন বিরোধী ন্যাশনালিস্ট’, ‘সাদাচামড়াদের নেতা’ ইত্যাদি বলা হয়, তিনি ছিলেন সঠিক নীতির লোক। তিনি ট্রাম্পকে আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সাবধান করেছিলেন। আসলে ওই রিপোর্ট বলতে চাইছে, ট্রাম্পের এই আফগান নীতি ঠিক হয়নি।

ঘটনা স্পষ্ট হতে শুরু হয়েছিল বর্তমান সিনেটের আর্মস সার্ভিস কমিটির বৈঠকে গত জুন মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের সাক্ষ্য দিতে আসার সময় থেকে। আফগানিস্তানে আমেরিকার সৈন্যদের নেতা জেনারেল নিকলসন স্পষ্ট করে সেখানে বলেছেন, সামর্থ্যরে অভাবে আমরা সেখানে কেউ জিতিনি এমন একটা স্থবিরতার মধ্যে আছি। ফলে সেখানে ম্যাটিসও তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘আমরা আফগানিস্তানে জিততে পারছি না। তবে আমরা এটা সংশোধন করব’।

এই সংশোধন করার কথা থেকেই ওই সিনেট কমিটি চেয়ারম্যান ম্যাককেইন ধরে বসেন যে, জেনারেলদের তাহলে এখন যুদ্ধের একটা স্ট্র্যাটেজি দিতে হবে, না হলে সিনেট থেকে কোনো থিতু মিলিটারি বাজেট দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু জেনারেলদের জন্য সমস্যা হলো, যুদ্ধের মূল যে লক্ষ্য ‘আলকায়েদার সব কিছু উপড়ে ফেলা বা সমাপ্তি ঘটানো’ সেটা কি তাদের পক্ষে দিন তারিখ দিয়ে বলা সম্ভব যে, কবে এই লক্ষ্য অর্জিত হবে! যে লক্ষ্য বিগত ১৬ বছরেও কিছুই অর্জিত হলো না তা এখন জেনারেলদের কি নির্দিষ্ট তারিখ আর যুদ্ধকৌশলসহ বয়ান করে বলা সম্ভব? সে কথাও এখানে আমল করা হয়নি।

যেমন আফগানিস্তানে আমেরিকার সেনাবাহিনী ছিল সর্বোচ্চ এক লাখ ৪৪ হাজার। অথচ সৈন্য বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে আগের সাড়ে আট হাজারের উপর আর বড়জোর মাত্র পাঁচ হাজার। তাহলে হবে সাড়ে ১৩ হাজার; এটা কি এক লাখ ৪৪ হাজার সৈন্যের সমতুল্য ফলাফল আনতে পারে কোনো দিন? পারা সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখা হচ্ছে না। তাহলে এখনই নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজানো হচ্ছে কেন? ব্যাপারটা কি এমন যে, খুব সম্ভবত আফগান যুদ্ধ আবার শুরু হলে ছোটবড় যেসব ঠিকাদারি কাজ বা সরকারি ব্যয় সচল হয়ে উঠবে, তারই সংশ্লিষ্ট লোকজনের স্বার্থের তৎপরতা এগুলো। তাই এ প্রসঙ্গে জাপানের ‘ডিপ্লোম্যাট’ ম্যাগাজিনের এক আর্টিকেলে প্রশ্ন রাখা রয়েছে যুদ্ধের লক্ষ্য কী, আর এর টাইমটেবল ও বাজেট কী, সে সম্পর্কে যথেষ্ট যাচাই না করে কেন এই অনুমোদন দেয়া হচ্ছে?

পাকিস্তানকে দেয়া ট্রাম্পের এক হুমকির কথা বলে শেষ করব। তিনি পাকিস্তানকে অনেকটা ‘ভালো হয়ে যেতে’ বলেছেন। আর তা শুনে ভারত খুবই খুশি হয়েছে। বিষয়টা হলো, হাক্কানি নেটওয়ার্কÑ এই আফগানি তালেবানদের ব্যাপারে নাকি পাকিস্তানের কঠোর না হওয়ার অভিযোগ তুলেছে আমেরিকা। ব্যাপারটা অনেক পুরনো ও গভীর। যদিও ভারতের সহজ ব্যাখ্যা হলো, পাকিস্তান বা এর জেনারেলরা সব সময় জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়; সেটা এবার ট্রাম্পও বুঝেছে ও সরব হয়েছেন। কিন্তু খুব সম্ভবত ব্যাপারটা এত সরল নয়।

আফগানিস্তানের তালেবান প্রসঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হলে খুঁজে দেখতে হবে, পাকিস্তানের কোন কৌশলগত কারণে ও স্বার্থে সে এমন করছে। এ ব্যাপারে আমেরিকার স্বার্থ যা তাই পাকিস্তানেরও স্বার্থ হতেই হবে, তা ধরে নেয়া ঠিক নয়। প্রত্যেক রাষ্ট্রেরই ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ থাকে; ফলে তা থেকে ভিন্ন ভিন্ন স্ট্র্যাটেজি থাকে। তবে চাইলে সেগুলো সমন্বিত করে একই কৌশলে সবাইকে নিয়ে আসা সম্ভব। কিন্তু এই সমস্যা হুমকি দিয়ে মিটবে না। স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থের ফারাক তো ধমক দিয়ে মিটতে পারে না।

আমেরিকার সাথে পাকিস্তানের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থের বিরোধ রয়েছে আমেরিকা এতদিন পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্যের লোভ দেখিয়ে ভুলে থাকতে বলেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের সে অর্থও নেই, স্বার্থও ছাড়েনি। আবার ট্রাম্প এক মজার আবদার রেখেছেন ভারতের কাছে কিংবা বলা উচিত আলকায়েদা বা তালেবান ইস্যুটা কি আসলে ব্যবসার ইস্যু, তাই যেন এতে স্পষ্ট হয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, ভারত আমেরিকার সাথে ব্যবসায় করে প্রচুর ডলার কামিয়েছে, ফলে আমেরিকা চায় ভারত সে অর্থ আফগানিস্তানে ব্যয় করুক। কিন্তু ভারত আফগানিস্তানে এই ব্যয় কিসে করবে, ব্যবসায় না যুদ্ধে? যদি আফগানিস্তানে অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের ব্যয়ের কথা ট্রাম্প বলে থাকেন, তাহলে বোঝা গেল ট্রাম্প আসলে সিরিয়াস না। কারণ ভারত সেই সামর্থ্যরে অর্থনীতি এখনো অর্জন করেনি। আর যদি ব্যবসায় বুঝিয়ে থাকেন, তার অর্থ আফগানিস্তান ট্রাম্পের কাছে আসলে টেররিজমের ইস্যু নয়, বাণিজ্যের ব্যাপার।

মূলকথা, ট্রাম্পকে সবার আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আফগানিস্তান তার কাছে কী ইস্যু? টেররিজম না ব্যবসায়! ট্রাম্প ভারতকে সংশ্লিষ্ট করবে ব্যবসায় আর পাকিস্তানকে ধমক দেবে, আবার খোদ নিজে আফগানিস্তানে কেন সৈন্য পাঠাবে এ ব্যাপারে দিশেহারাও নন-সিরিয়াস থাকবে, এগুলো একটাও আসলে কাজের কথা নয়। এতে ট্রাম্পের আমেরিকার উল্টা বিপদে পড়ার সম্ভাবনা। আবার ট্রাম্পকে মনে রাখতে হবে, ইরান ও রাশিয়ার সাথে তালেবানদের সম্পর্ক দিনকে দিন ভালো হচ্ছে।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫