ঢাকা, বুধবার,২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

অভিযোগ বাপা ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপারের

সাভারের ট্যানারি পার্কের বর্জ্য ধলেশ্বরী দূষিত করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ আগস্ট ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:৩৮


প্রিন্ট

হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরিত সাভারের ট্যানারি পার্কের বর্জ্য ধলেশ্বরীকে দূষিত করছে। অপর দিকে নির্মাণাধীন প্লান্টের কার্যকারিতা কঠিন বর্জ্য, লবণ এবং ক্রোমিয়াম ব্যবস্থাপনার কোনো সুবিধা নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপারের যৌথ উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ ওঠে আসে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘আসন্ন ঈদে সাভারের অস¤পূর্ণ ট্যানারি পার্ক : বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর অব্যাহত দূষণ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে মূল বক্তৃতায় বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার ও বাপার যুগ্ম স¤পাদক শরীফ জামিল বলেন, সাভার ট্যানারি পার্কেও দু’টি মডিউল ৭০টি শিল্প-কারখানা থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য পরিশোধনের নামে আংশিক পরিশোধিত হয়ে ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে। প্লান্টের আরো দু’টি মডিউল শিগগিরই চালু করার সম্ভাবনা থাকলেও, আসন্ন ঈদ-পরবর্তী কোরবানির চামড়া ব্যবস্থাপনায় এই প্লান্ট বাস্তব অর্থে অকার্যকর। ৭০টি কারখানা থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য এলে ঈদের পর ১৫০টির বেশি সক্রিয় কারখানার ২৫ হাজার কিউবিক মিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই প্লান্ট কোনোভাবেই পরিশোধন করতে সক্ষম নয়। ফলে অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে চলে যাবে। অপর দিকে নির্মাণাধীন প্লান্টের কার্যকারিতা কঠিন বর্জ্য, লবণ এবং ক্রোমিয়াম ব্যবস্থাপনার কোনো সুবিধা না থাকায় বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
বাপার সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ আসে ট্যানারি শিল্প থেকে। কিন্তু দূষণের কারণে এবং যথাযথ সময়ে স্থানান্তর না করার কারণে এই শিল্প হুমকির মুখে চলেছে। তাই আমরা সাভারের ট্যানারি পার্কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, সাভারের ট্যানারি শিল্পের কঠিন বর্জ্য কোথায় রাখা হবে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা এখনো করা হয়নি। ট্যানারি শিল্পের বিভিন্ন বর্জ্যরে কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে; কিন্তু এই দূষণ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, গত ২০ বছর ধরে আমরা ট্যানারি শিল্পের পরিবেশ দূষণ নিয়ে কথা বলে আসছি। কিন্তু এই কাজ সরকারকে নিজে থেকেই করার কথা ছিল। আমরা হাজারীবাগে গিয়ে দেখেছি, এখনও অবৈধভাবে পরিবেশের তি করে ট্যানারি শিল্পপার্ক থেকে বর্জ্য বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলা হচ্ছে। হাজারীবাগের অনেক ট্যানারিতে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে অথবা বিদ্যুৎ কো¤পানির সাথে যোগসাজশে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রেখে কারখানা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অবৈধ কারখানার কাজ পরিবেশ রার্থে দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: আবদুল মতিন বলেন, অসম্পূর্ণ নকশা ও চরম অব্যস্থাপনার কারণে কার্যত সাভারের বর্জ্য পরিশোধন হ ১১ পৃ: ৪-এর কলামেব্যবস্থা কোনো কাজে আসছে না। ফলে ট্যানারি দূষণ বুড়িগঙ্গা থেকে উজানের ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত হচ্ছে; কিন্তু দেশবাসী এটি চায়নি। আমরা অবিলম্বে এসব দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫