ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

রাজশাহী

তুফান সরকারকে সরানো হলো বগুড়া কারাগার থেকে

বগুড়া অফিস

২০ আগস্ট ২০১৭,রবিবার, ০৬:১৪


প্রিন্ট
তুফান সরকার

তুফান সরকার

বগুড়ার বহুল আলোচিত বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারকে বগুড়া জেলা কারাগার থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজন ভ্যানে তুফান সরকারকে গাজীপুরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। বগুড়া জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় ফেনসিডিল সেবন ছাড়াও বিভিন্ন অবৈধ সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কারণে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলেছেন, প্রশাসনিক সুবিধার্থে তুফান সরকারকে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ দিকে তুফানের সহযোগী শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ কাজীকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

বগুড়ায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং পরে ধর্ষিতা ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তুফান সরকার বগুড়া জেলা কারাগারে হাজতি আসামি হিসেবে ছিল। সেখানে কারা কর্তৃপক্ষ সুস্থ তুফান সরকারকে অসুস্থ দেখিয়ে কারা হাসপাতালে রাখার ব্যবস্থা করে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কারারক্ষীর সহযোগিতায় তুফান সরকার কারা অভ্যন্তরে আরাম আয়েশে জীবনযাপন করছিল। কারাগারের খাবার না খেয়ে বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার খাওয়া, কারাগারে বসে ফেনসিডিল সেবন ছাড়াও উচ্ছৃঙ্খলভাবে জীবনযাপন করছিল তুফান সরকার।

এর আগে ১৫০০ বোতল ফেনসিডিলসহ তুফান সরকার গ্রেফতার হয়ে প্রায় দুই মাস বগুড়া জেলা কারাগারে ছিল। ওই সময় থেকেই কারাগারের কিছু কারারক্ষীর সাথে সখ্য গড়ে ওঠে তার। এ কারণে এবারো কারাগারে গিয়ে তুফান সরকার বাড়তি সুবিধা ভোগ করতে থাকে। এর মধ্যে দর্শনার্থী কক্ষে স্যালাইনের পাইপের সাহায্যে তুফানকে ফেনসিডিল সেবন করানোর অভিযোগ ওঠে। ১৬ আগস্ট কারা অভ্যন্তরে কর্তৃপক্ষের হাতে ফেনসিডিলসহ ধরা পড়ে মাদক মামলার হাজতি আসামি বাবুল। সে কারাকর্তৃপক্ষের কাছে স্বীকার করে তুফানের কাছে সরবরাহ করতে তার স্বজনরা ফেনসিডিল তাকে দিয়েছে। এ কারণে শাস্তি হিসেবে বাবুলকে ওই দিন থেকে কারাগারের সেলে রাখা হয়।

কারাগারে তুফানের ফেনসিডিল সেবনের ঘটনাটি জানাজানি হলে গতকাল সকালে ডিআইজি প্রিজন আলতাফ হোসেন অভিযোগ তদন্তের জন্য বগুড়া কারাগারে আসেন। এরপর দুপুর ১২টায় তুফান সরকারকে বগুড়া থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।


বগুড়া জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মোকাম্মেল হোসেন জানান, প্রশাসনিক সুবিধার্থে তুফান সরকারকে বগুড়া থেকে গাজীপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। কারাগারে তুফান সরকারের ফেনসিডিল সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বাবুল নামে এক হাজতির মাধ্যমে তুফান সরকার ফেনসিডিল সেবনের চেষ্টা করেছিল। কারাকর্তৃপক্ষের নজরে ঘটনাটি ধরা পড়লে বাবুলকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।


তুফানের সহযোগী শ্রমিক লীগ নেতা ইয়াবাসহ গ্রেফতার : এ দিকে তুফান সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ কাজীকে (৩৫) ২৫ পিচ ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সে ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি ও পূর্বগুয়াডুহরী গ্রামের রফিকুল ইসলাম কাজীর ছেলে। তাকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতারের পর শুক্রবার মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। 


স্থানীয়রা জানান, গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন ও তার আশপাশের এলাকায় সোহাগ কাজীর কমপক্ষে ৫০ জন ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক বিক্রির লোক রয়েছে। বগুড়ার মাদককারবারি মতিন সরকার ও তার ছোট ভাই শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের কাছে থেকে আনা এসব মাদক বিক্রি করে তারা। এ জন্য সোহাগ দাপট দেখাত তুফানের। কিন্তু তুফান গ্রেফতারের পর সে বেকায়দায় পড়ে। তবুও আটকের পর তাকে ছাড়াতে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে পুলিশের কাছে তদ্বির করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ তাকে কোর্টে চালান দিয়েছে। 


ধুনট থানার এস আই আব্দুর রাজ্জাক জানান, সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা, গাঁজা, মাদক কারবার করছিল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫