ঢাকা, শনিবার,২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রথম পাতা

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

পাহাড়ে ভূমিধস মোকাবেলায় শক্তিশালী সেল গঠন করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুলাই ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

পাহাড়ে ভূমিধস মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা সেল’ প্রণয়ন করা জরুরি বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞসহ পরিবেশবাদীরা। তারা বলেন, এ পাহাড় ব্যবস্থাপনা সেল এমন হবে যাদের আইনিভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার থাকবে। ভূমিধস,পাহাড়ধস থেকে জরুরি রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় গঠিত ওই সেলে সেনাবাহিনীসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিশেষজ্ঞ সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে সমন্বয় সাধন করতে হবে।
লেখক-বুদ্ধিজীবী ও বাপার সহসভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ভূমিধস : কারণ, ফলাফল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়াদি’ শীর্ষক এক সেমিনারে আলোচকেরা এ পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ-চায়না কালচারাল অ্যান্ড ইকোনমিক সেন্টার এবং ঢাকার চীনা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে সিরডাপ মিলনায়তনে এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ আবুল মকসুদ। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এম শহীদুল ইসলাম।
শহীদুল ইসলাম বলেন, গবেষণা শেষে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে বাংলাদেশে ভূমিধসের কারণ মূলত দুইটি। এগুলো হচ্ছে প্রাকৃতিক কারণ ও মানবসৃষ্ট কারণ। প্রাকৃতিক কারণের মধ্যে পাহাড়ের গঠন ও ঢাল, জলবায়ুতে ঋতুগত পরিবর্তন, ভূমিকম্প এবং অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত অন্যতম। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ভূমিধস একটি অন্যতম দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এটি এখনো দুর্যোগ হিসেবে পর্যাপ্ত স্বীকৃতি পায়নি। স্বভাবতই ভূমিধসের বিষয়টিকে আরো গুরুত্বসহকারে সংযুক্তি করা প্রয়োজন।
এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সফল দেশ হিসেবে আমরা পরিচিতি লাভ করেছি। পাহাড়ধসে সম্প্রতি যে প্রাণহানি ঘটেছে, তা দুঃখজনক। তিনি বলেন, চার দশক ধরে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা হচ্ছে। আদিবাসীদের জীবনমান ধ্বংস করা হচ্ছে, তারা প্রকৃতি ও পাহাড়কে রক্ষা করে বসবাস করে। প্রকৃতি ও পরিবেশকে ধ্বংস করা যাবে না। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণগুলো নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিতে হবে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, গত কয়েক বছরে ব্যাপকভাবে পাহাড় দখল হচ্ছে এবং পাহাড় কাটা হচ্ছে। পাহাড়ধসের এটি অন্যতম কারণ। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নে নদী-জলাধারের মতো আজ পাহাড়গুলো দখল করে ব্যাপকভাবে পাহাড়ের চরিত্র বিনষ্ট করা হচ্ছে। পাহাড় দখল ও পাহাড় কাটা বন্ধে সরকারকে অবশ্যই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান পিএসসি বলেন, পাহাড়ি এলাকায় অনেক উন্নয়ন হচ্ছে, রাস্তা তৈরি হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সঠিক সমীক্ষা খুুব হচ্ছে না। যথাযথ সমীক্ষার মাধ্যমে উন্নয়ন করতে হবে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের অন্যত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, সমস্যাটি বর্তমান যে পর্যায়ে পড়েছে, ভবিষ্যতে পাহাড়ধস আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। পাহাড়ের স্তরগুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি। পাহাড়ধস রোধে এখনই একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং যেসব পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাহাড়ের পাশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের পরিচালক ড. মাহবুবা নাসরিন বলেন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং বাসস্থান গড়ে ওঠা এ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। পাহাড় বিনষ্ট রোধে জনসচেতনতা তৈরি জরুরি। তা ছাড়া নীতিনির্ধারকদের সমন্বয়হীনতাও এ জাতীয় বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: আব্দুল মতিন। এ ছাড়া বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এ কিউ এম মাহবুব, বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস ও বাপার সদস্য এম এস এস সিদ্দিকী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বাংলাদেশ-চায়না কালচারাল অ্যান্ড ইকোনমিক সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহজাহান মৃধা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫