ঢাকা, রবিবার,০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

শেষের পাতা

ত্রাণ পায় না হাওর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্তরা

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

০৯ মে ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০ | আপডেট: ০৯ মে ২০১৭,মঙ্গলবার, ০৭:১৬


প্রিন্ট
সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারে হাহাকার চলছে। প্রত্যন্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার পাচ্ছে না ত্রাণসমাগ্রী। বেশির ভাগ পায় উপজেলা ও জেলা শহরের কাছের গ্রামগুলোর মানুষ। এ ছাড়া হাওরাঞ্চলে বর্তমানে পাচ্ছে না বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা। হাওরের পাড়ে বসবাসকারী জনসাধারণ বেশির ভাগই হাওরের পানি ব্যবহার করছে। ফলে নানান পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে হাওরবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন আর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সুনামগঞ্জের শিক্ষক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং জেলা ও উপজেলার সচেতন নাগরিকেরা। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দোয়ারা বাজার, ছাতকসহ ১১টি উপজেলার কাছে যাদের অবস্থান তারাই পাচ্ছে বেশির ভাগ ত্রাণসামগ্রী। আর যারা ত্রাণ বিতরণ করেন তারাও হাওরবেষ্টিত জেলার দ্বীপসদৃশ ছোট গ্রামগুলোতে গিয়ে ত্রান বিতরণ করছেন না। ফলে ত্রাণ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ পাচ্ছে না ন্যূনতম ত্রাণ ও সহযোগিতা। সময় কম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় কাছাকাছি গ্রাম ও উপজেলা সদরেই ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানান ত্রাণ না পাওয়া বিভিন্ন হাওর পাড়ে বসবাসকারী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সদস্যরা। এ অবস্থায় হাওর পাড়ের গ্রামগুলোতে অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে বাঁচার জন্য হাহাকার বিরাজ করছে। 
এবার জেলার সর্বমোট আবাদি জমির পরিমাণ তিন লাখ ৭৯ হাজার ২১৬ হেক্টর। এবার আবাদ করা জমির পরিমাণ দুই লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৭ হেক্টর। তার মধ্যে প্রায় দুই লাখ ১৫ হাজারের অধিক হেক্টর জমিতে প্রতি বছরের মতো এবারো বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। আর বাকি জমিতে অন্যান্য ফসল। এসব জমিতে প্রতি বছর ৯ লাখ মেট্রিকটনের অধিক ফসল উৎপন্ন হয়। যার মূল্য এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। এসব ফসল রক্ষায় হাওরের ৪৮টি বাঁধে ঠিকারদার ছিল ২২ জন। ৭৬টি গ্রুপে একেকজন ঠিকাদার ভিন্ন ভিন্ন নামে কাজ নেয়। এর ফলে তারা হাওরের বাঁধ রক্ষার নামে পুকুরচুরি করায় ৪০ ভাগ কাজ হয়নি। যার জন্য এবার জেলায় একের পর এক হাওর ডুবে যাওয়ায় ৯০ শতাংশ বোরো ধান পানিতে তলিয়ে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাহিরপুর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের জয়পুর, সাহেবনগর, গোলাবাড়ি, ছিয়ারগাও, পণ্ডুব, মারালা, চিলাইন তাহিরপুরসহ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট গ্রামগুলোতে এখনো পৌঁছায়নি সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা। এ কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে ক্ষতিগ্রস্তরা। জানা যায়, জেলায় কৃষক পরিবার রয়েছে তিন লাখ ৩১ হাজার ৩১৬টির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই লাখ ৭৭ হাজার ১৮৮ পরিবার। জেলায় কার্ডধারী জেলে পরিবার রয়েছে ৮৪ হাজার ২৪টি। এবার হাওরে ও নদীতে মাছ মরে কমে যাওয়ায় বিপদে পড়েছে ৪৪ হাজার ৪৪৫ পরিবার। জেলে ও কৃষক মিলে তিন লাখ ২১ হাজার ৬৩৩ পরিবার এবার খাবার সঙ্কটে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের লোকজন বেশির ভাগেই এখন হাওরের পানি ব্যবহার করে। ফেরদৌস আলম, সাদেক আলী, নিউটন রায়সহ বিভিন্ন হাওর পাড়ের দ্বীপসদৃশ্য গ্রামগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সদস্যরা বলেন, সব খানে শুনি সরকারি-বেসরকারি লোকজন ত্রাণ দেয়; কিন্তু হাওর পাড়ে আমরার কাছ ত আসে নাই। আর আমরা জেলা ও উপজেলা সদরে যাইতেও পারি না তাই পাই না। জেলা বা উপজেলা সদরে গেলে ১৫০-২০০ টাকা খরচ হয়। টাকা পাই কই আর কেমনেই বা যাই। ক্ষতিগ্রস্ত এ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হোক। দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকার জানান, সঠিকভাবে ভিজিএফ কার্ড তৈরিতে দেরি হওয়ায় ত্রাণ বিতরণে দেরি হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা আমাদের স্বাধ্যমতো ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহযোগিতা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে ত্রাণের আওতায় আনা হবে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ত্রাণ ও ওএমএস চালের বিতরণ হচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, এবার যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের যাচাই-বাছাই করে তাদের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি। 
 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫