ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ নভেম্বর ২০১৯

প্রথম পাতা

নিঃস্ব কৃষকদের হাহাকার হাওরে

ওএমএসের চাল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে; গোলাপগঞ্জে সুরমা গ্রাস করছে বাড়ি ও ফসলি জমি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

২৮ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০ | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৭,শুক্রবার, ০৭:৫৭


প্রিন্ট
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ওএমএসের চাল নিতে বৃষ্টির মধ্যেই হাওরবাসীর দীর্ঘ লাইন : নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ওএমএসের চাল নিতে বৃষ্টির মধ্যেই হাওরবাসীর দীর্ঘ লাইন : নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের হাওরে আকস্মিক বন্যায় ফসল ডুবে সর্বস্বান্ত হওয়া কৃষকদের মধ্যে চলছে হাহাকার। জেলার তাহিরপুর উপজেলা সদরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রতিদিন যে ওএমএসের চাল দেয়া হয় তা চাহিদার চেয়ে খুবই কম। ফলে সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। জেলার জামালগঞ্জের পাকনা হাওরের কৃষকেরা গবাদি পশুর খাদ্য নিয়েও বিপাকে পড়েছেন। সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জে সুরমা নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে অর্ধশতাধিক পরিবারের বাড়িঘর, নদীতে চলে গেছে পাঁচটি বসত বাড়ি ও ফসলি জমি।
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের হাওরে আকস্মিক বন্যায় ফসলডুবির ঘটনায় জেলা জুড়ে কৃষকদের মধ্যে চলছে হাহাকার। এর আগে বন্যায় বহুবার ফসল ডুবে গেলেও এবারের মতো এতটা নিঃস্ব করে যায়নি কৃষকদের। সব ক’টি হাওর ডুবে ফসল হরানোর পর মাছের মড়ক লাগলে দুর্দশা আরো বাড়ে কৃষকদের। হওরাঞ্চলে ধানের পরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন অসহায় কৃষকেরা।
প্রায় পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার পর মাছে মড়ক লাগার পর প্রায় এক সপ্তাহ হাওরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য বিভাগ। দুই দিন আগে সে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেও আগের মতো আর মাছ পাওয়া যাচ্ছে না হাওর কিংবা নদীতে। ফলে হাওরাঞ্চলের কৃষক ও মৎস্যজীবিরা প্রায় বেকার জীবন যাপন করছেন। জেলার ফসলহারা কৃষকেরা এখন সরকারি সহায়তার আশায় প্রহর গুনছেন। এ দিকে হাওরের তিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার তিনটি করে এবং জেলা সদরে ৯টি খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল আটা ও আটা বিক্রির দোকানের অনুমতি দিয়েছে খাদ্য বিভাগ। প্রত্যেক বিক্রেতা দিনে ১৫ টাকা দরে মাথাপিছু পাঁচ কেজি হারে এক হাজার কেজি চাল ও এক হাজার কেজি আটা বিক্রি করেন। তবে ডিলারের সংখ্যা কম হওয়ায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ওএমএসের চাল সংগ্রহ করতে পারছেন না অনেকেই।
ওএমএসের পরিমাণ ও পরিসর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ডিলার নিয়োগের প্রস্তাবের পাশাপাশি এর চাহিদা অনুয়ায়ী পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে ওএমএসের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। তা ছাড়া গত ২৩ এপ্রিল মন্ত্রণালয় হাওরের দেড় লাখ কৃষককে তিন মাসের জন্য প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বরাদ্দ পাঠিয়ে দিয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেটা বিতরণ হবে বলে জানা গেছে। কৃষকদের জন্য এ বিশেষ বরাদ্দ চালু হলে তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়ভাবে তিগ্রস্ত কৃষকদের সংখ্যা দেড় লাখের স্থলে তিন লাখ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিধিরা। এ দিকে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি হেলিকপ্টারে করে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জেলার শাল্লা উপজেলার কৃষকদের মধ্যে ক্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম।
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তাহিরপুর উপজেলা সদরে তিনজন ডিলার দিয়ে প্রতিদিন এক টন করে তিন টন ওএমএসের চাল দেয়া হয়, যা চাহিদার চেয়ে খুবই কম। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজনের অনেকেই সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।
উপজেলার উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক বাদল মিয়া বলেন, শনির হাওরে সাত কিয়ার বোরো জমি চাষ করেছিলাম, সব শেষ হয়ে গেছে। এক মুঠও কাটতে পারি নাই। চোখের সামনে আধা পাকা-কাচাঁ ধান পানির নিচে গেছে। এখন আমরা তো আর লাইনে গেয়ে দাঁড়াইতে পারতাম না, কাউরে কইতেও পারতাম না কেমনে দিন যাইব। বীরনগর গ্রামের কৃষক সাদেক আলী বলেন, গত বছর ৭০ কিয়ার বোরো ধান করছিলাম, সব ধান পানিতে নিছে, এক মুঠও কাটতে পারি নাই। এবারো সব নিল, কী করমো ভেবে পাইতাছি না। সবার মতো কাঁদতেও পারতাছি না। এখন না ডুবা কিছু বোরো কাঁচা ধানই কাটছি। কৃষক সোহাগ মিয়া কেঁদে কেঁদে বলেন, ভাই সব শেষ। এই হাওরটা (শনির হাওর) রক্ষা করার লাগি জীবনের মায়া ছেড়ে বাঁধে কাজ করছিলাম। সেই বাঁধ ভেঙে হাওর ডুবে এখন চার দিকে পানি আর পানি।
উপজেলার মধ্যবিত্ত কৃষকেরা বলেন, বাঁধ সময়মতো সঠিকভাবে বাঁধলে এত বড় বিপদ হতো না। আমরা শুধু কইতে পারি, কিছু করতে পারি না, কারণ সেই শক্তি আমরার নাই। আমরার কথার কোন দাম নাই। আমরা এখন আছি মহাবিপদে। এই হাওরের (শনির হাওর) উপরেই আমাদের জীবন চলে। এখন হাওরজুড়ে হাহাকার বিরাজ করছে। এমন অসহায়ত্তের কথা উপজেলার হাজার হাজার কৃষক পরিবারের। সবার একটাই কথাÑ বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতিবাজদের শাস্তি প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা দিতে হবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, উপজেলার প্রতিটি বাঁধের খারাপ অবস্থার খবর পেলেই তারা বাঁধ রক্ষায় দিনরাত স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন। ফসল ফলাতে এনজিও, ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে নেয়া ঋণ পরিশোধের চিন্তা ছাড়াও সন্তানের পড়াশোনা ও জীবন কিভাবে বাঁচাব এ নিয়ে তারা চরম হতাশার মধ্যে আছেন। ৪০ ভাগ কাজও শেষ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার ও পিআইসিরা।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান, এ উপজেলায় এবার বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ শনির হাওর ডুবে যাওয়ায় এ এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেল। কৃষকেরা এখন বড় বিপদে আছেন তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, এবার উপজেলার সব ক’টি হাওর ডুবে গেছে। জীবন বাজি রেখে শনির হাওর বাঁচাতে দিন রাত বাঁধের রক্ষায় কাজ করেছিলাম। শেষ রক্ষা আর হলো না। বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে দিলো। এখন হাওরপাড়ে কৃষকদের মধ্যে কান্নার রোল। ঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ না করায় একের পর এক হাওর ডুবছে এ উপজেলায়। তিনি প্রকৃত ক্ষতিগস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানান।
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, জামালগঞ্জ উপজেলার বোরো ফসলের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত পাকনা হাওর পড়ের ফসলহারা কৃষকেরা তাদের হালের বলদ ও গবাদি পশু নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর গবাদি পশুর চারণভূমিগুলোও ডুবে গেছে। এ কারণে কোথাও গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এক দিকে পরিবারের খাদ্য সংগ্রহ, অপর দিকে গবাদি পশুর খাদ্য না থাকায় কৃষকদের ঘরে ঘরে হাহাকার পড়ছে। পাকনা হাওরের ফসলহারা কৃষক রমিজ আলী তার হালের বলদ নিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে এসে বাকহীন হয়ে পড়েছেন। ‘কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি এ সংবাদদাতাকে বলেন, বাবারে বৈশাখ মাসে এত ফানি জীবনে দেহিনাই, চোখের সামনে আধা পাকা ধান তল হইয়া গেছে। তিন বার হিলে (শীলাবৃষ্টি) মারছে, আর অহন বান (বেড়ি বাঁধ) ভাইংগা সব ধান পানির নিছে। কিছু ধান পাকা ভাব হইছিন, হের মধ্যেই বাঁধ ভাইংগা গিয়া সব জমি ডুইবা গেছে, যে দিকে চাই চোখ খানি ফানি দেহা যায়। দেনা কইরা জমি (কৃষিজমি) করছিলাম, দেনাই দিমু কেমনে আর কি কইরা বউ-বাচ্চা নিয়া সারা বছর চলমু। আমার হালের গরুর কি হইবো বলেই হাউ-মাউ করে কাঁদলেন।’ কৃষক তোফায়েল আলম ছানা মিয়া বলেন, ‘যে জমি রোয়াইছিলাম হেই জমি ফানির নীছে চইলা গেছে। আর ধান হওয়ার আশা নাই, কিছু জমি কাটছি বাড়িতে কামলার খরচ দেয়ার জন্য। আর ছোট বড় ৬টা গরু আছে কয়েক দিন গরুগুলোরে খাওয়াইতাম পারমু, পরে কি অইবো জানি না।’
সুনামগঞ্জে বছরের একমাত্র বোরো ফসল হারানোর বেদনায় লাখো কৃষক ও তাদের পরিবারের লোকজনের এখন শুধু বাঁচার আকুতি। বোরো ফসলকে ঘিরেই পুরো হাওরাঞ্চলে মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে। বোরো ধান ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ফসল নেই তাদের। হেমন্তে কৃষিকাজ ও বর্ষায় হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এ জেলার বেশির ভাগ মানুষ। কৃষি ও মাছ ধরা তাদের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। প্রতি বছর বোরো মওসুমে কৃষক ঋণ করে জমিতে ফসল চাষাবাদ করেন। ফসল ঘরে উঠলে তাদের জীবনের গতি ফিরে আসে। কিন্তু প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফসল রা বাঁধে পাউবো, পিআইসি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা মিলে লুটেপুটে খায় লাখ লাখ কৃষকের রিজিক। আর হাওর জনপদে নেমে আসে খাদ্যাভাব ও হতাশার কালো ছায়া।
গোলাপগঞ্জ ( সিলেট) সংবাদদাতা জানান, গোলাপগঞ্জে সুরমা নদীর ভাঙনে অসহায় পড়ছেন তীরবর্তী এলাকার লোকজন। ভয়াবহ ভাঙনের ফলে আতঙ্কে এলাকার লোকজন। গৃহহীন হয়ে পড়ছে অর্ধশত পরিবার। টানা বর্ষণের ফলে চোখের সামনেই উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের রস্তুমপুর গ্রামের পাঁচটি বসতবাড়ি ও গোয়ালঘরসহ গাছপালা, নলকূপ ও ফসলি জমি নদীতে চলে যায়। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভাঙন এলাকার লোকজন।
নদীতে চলে যাওয়া ৫টি বাড়ির লোকজন বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে এবং আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় নদীভাঙন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভাঙন এলাকার লোকজনকে ভিটেমাটি হারিয়ে ভূমিহীন ও আশ্রয়হীন হয়ে পথে বসতে হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগÑ এক দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অন্য দিকে ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা ও নদীর পাড়ে ব্লক না থাকাই এ সর্বনাশের কারণ। স্থানীয়দের দাবিÑ শুধু এই পাঁচটি বাড়ি নয়, সুরমা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীতে তলিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক গ্রামের বাড়িঘর। চলতি বর্ষা মওসুমে নদীর পাড়ের রস্তুমপুর ও লালনগর এলাকার সব ক’টি বসতবাড়ি, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একাধিক মসজিদ, মাদরাসা ও কলেজ রয়েছে ভাঙনের হুমকির মুখে।
সরেজমিন বাঘা রুস্তুমপুর ও লালনগর এলাকায় গেলে বসতভিটা হারানো রুস্তুপুর মাঝপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ মো: আজিজুর রহমান (৫৫) জানান, তার বসতভিটা অর্ধেক নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পর গভীর রাতে বাকি অংশও নদীতে চলে যায়। এ সময় তারা পাশের একটি ঘরে শুয়েছিলেন। একই এলাকার আরেক তিগ্রস্ত আব্দুর রউফ খান (৬০) জানান, তারও বসত ঘরের একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায় একই রাতে। অবশিষ্ট ঘরও যেকোনো সময় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। একই এলাকার আমিনুর রহমান বলেন, তার বসতভিটার বড় একটি অংশ সুরমা নদীতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে যে বসতঘরটি রয়েছে তাও হুমকির মধ্যে আছে। তিনি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
গ্রামবাসী জানান, ওই গ্রামের মাস্টার আব্দুর রহমান, মাস্টার আব্দুছ সুবহান, মজির উদ্দিন, মছব্বির আলী ও ডাক্তার আমির উদ্দিনের বসটভিটা ও ফসলি জমিও সুরমা নদী গ্রাস করেছে। ভাঙন এলাকার লোকজন আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সুরমা নদীর ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে রুস্তুমপুর পুরান জামে মসজিদ, হাতিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা, রুস্তুমপুর হাফিজিয়া মাদরাসা, ভাঘা মাদরাসা, রুস্তুমপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, স্থানীয় গোরস্তান ও নদীপারের রাস্তা, লাল নগর গ্রাম, চৌঘরী এলাকার আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, খলাগ্রাম এলাকার কয়েকটি বসতবাড়ি। এসব এলাকার অনেক স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে আবার অনেক স্থানে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বসত বাড়ি ও ফসলি জমি। রস্তুমপুর এলাকার নদীপারের রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। সুরমা নদীর ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় ভূমিহীন ও আশ্রয়হীনের সংখ্যা বাড়ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫